আজকে আমরা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এর সুবিধাসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করবো। কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মৌলিক ধারণার অন্তর্গত।

Table of Contents
কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এর সুবিধাসমূহ (Advantages of computer network)
কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এর সুবিধাসমূহ (Advantages of computer network)
বর্তমান সময়ে যে বিষয়টি সময় বিশ্বব্যাপী বেশি আলোচিত তা হল তথ্য-প্রযুক্তি আর তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে প্রয়োজন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের কম্পিউটারগুলোকে নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা। নিচে টোরে বিভিন্ন সুবিধাসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হলঃ
নেটওয়ার্ক-এ অন্তর্ভুক্ত থাকলে প্রতিটি কম্পিউটারের আলাদা আলাদা ডিস্ক স্টোরেজ (বার্ড ডিস্ক ড্রাইভ), আপ্লিকেশন সফটওয়্যার (Microsoft word), ইউটিলিটি প্রোগ্রাম (অ্যান্টিভাইরাস (প্রোমাম), বিভিন্ন বার্ডওয়্যার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, ইত্যাদি না রেখে নেটওয়ার্কের একটি কেন্দ্রীয় স্থানে স্থাপন করে সকলের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রাখা সম্ভব রিসোর্স এবং সার্ভিস শেয়ারিং এর মাধ্যমে বহু সংখ্যক ব্যবহারকারী একত্রে নেটওয়ার্কে কাজ করতে পারে। এতে একদিকে যেমন ব্যয় সংকোচন হয় তেমনি একই খরচে বহু সংখ্যক ব্যবহারকারীকে কম্পিউটারের সেবা প্রদান করা সম্ভব হয়।নেটওয়ার্ক সিস্টেমে সামগ্রিক কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

নিম্নে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধাবলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হল :
আজকাল ছোট-বড় প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই কমবেশি কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকে। বড় বড় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা স্থাপিত কম্পিউটারসমূহ একে অপরের কাছ থেকে অনেক দূর-দূরান্তে অবস্থান করে। ফলে এক কম্পিউটার অন্য কম্পিউটারের সাথে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে না। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় স্থাপিত কম্পিউটারগুলোর সাহায্যে আলাদা আলাদাভাবে উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণ করে তা বিশেষ বাহক মারফত বিনিময় ও কেন্দ্রীয়করণ করা হতো।
ফলে একদিকে যেমন তথ্যের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও নির্ভরযোগ্যতা প্রদান করা সম্ভব ছিল না, অপরদিকে কম্পিউটারসমূহের সাথে সংযুক্ত সম্পনসমূহ ভাগাভাগি করে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ছিল বিরাট প্রতিবন্ধকতা। তা ছাড়া, নেটওয়ার্কবিহীন উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা ছিল অত্যধিক ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।
কোন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত কম্পিউটারসমূহকে যদি নেটওয়ার্কভুক্ত করা হয়, তাহলে উপরিউক্ত অসুবিধাসমূহ দূর করে অনায়াসেই নিম্নে বর্ণিত সুবিধাসমূহ গ্রহণ করে এদের সাহায্যে উক্ত প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থানের তথ্যাবলি আহরণ ও সমন্বয়সাধন করা যায়। নিম্নে নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধাসমূহ আলোচনা করা হল।
(ক) প্রোগ্রাম ও ফাইল শেয়ারিং (Program and file sharing) :
আজকাল নেটওয়ার্ক ভার্শনের অনেক জনপ্রিয় সফটওয়্যার প্যাকেজ তুলনামূলকভাবে কম মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে। এ সকল সফটওয়্যারের আওতাধীন বিভিন্ন প্রোমান ও ডাটা ফাইলসমূহ যে কোন নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীর ব্যবহারের জন্য কেন্দ্রীয় ফাইল সার্ভারে সংরক্ষণ করে রাখা যায়। তা ছাড়া, নেটওয়ার্কের আওতাধীন যে কোন ব্যবহারকারী তার নিজস্ব ডাইরেক্টরিতে বা পাবলিক ডাইরেক্টরিতে ফাইলসমূহ ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করে রাখতে পারে। ফলে অন্যান্য ব্যবহারকারীগণ এ সকল ফাইল পড়তে ও সম্পাদনা করতে পারে।

(খ) রিসোর্স শেয়ারিং (Resource sharing)
নেটওয়ার্কে সংযুক্ত কোন কম্পিউটার ব্যবহারকারী কর্তৃক নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত জন্য কম্পিউটারের সম্পদসমূহ ব্যবহার করার অধিকার রয়েছে। ব্যবহারকারীর অবস্থান নেটওয়ার্কের যেখানেই হোক না কেন যে কোন নেটওয়ার্ক কম্পিউটারের সংযুক্ত সম্পনসমূহ সকলে সমভাবে ব্যবহার করতে পারে। নেটওয়ার্ক সম্পনসমূহের মধ্যে রয়েছে প্রিন্টার, প্লটার, স্টোরেজ, ডিভাইস, ফ্যাক্স মডেম, অপটিক্যাল ডিস্ক ড্রাইভ ইত্যাদি নভেল নেটওয়ার্কের মতো ডেডিকেটেড সার্ভার সিস্টেমে এ সকল সম্পন ফাইল সার্ভারের সাথে সংযুক্ত থাকে এবং সকল ব্যবহারকারী কর্তৃক ভাগাভাগি করে ব্যবহৃত হয়।
(গ) ডাটাবেস শেয়ারিং (Database sharing)
নেটওয়ার্কে ব্যবহারের জন্য ডাটাবেস প্রোগ্রাম হল একটি আদর্শ প্রোগ্রাম এক্ষেত্রে রেকর্ড লকিং (Record locking) পদ্ধতিতে বহু ব্যবহারকারী যুগপৎভাবে কোন ফাইলের নাগাল (Access) পেতে পারে। রেকর্ড লকিং পদ্ধতিতে একই সময়ে দু’জন ব্যবহারকারী একত্রে একই রেকর্ডকে সম্পাদনা করতে পারে না।
(ঘ) নির্ভরযোগ্য (Reliability)
সকল ফাইলের অনুলিপি নেটওয়ার্কভুক্ত একাধিক কম্পিউটারে কপি করে রেখে দিলে কোন একটি কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারজনিত ত্রুটির কারণে কোন ফাইল হারানো গেলে অন্য কম্পিউটার হতে ফাইলের অনুলিপি পুনরুদ্ধার করে ব্যবহার করা যায়। তা ছাড়া, একাধিক প্রসেসরের ক্ষেত্রে কোনটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে অন্য প্রসেসরসমূহ সাময়িকভাবে এর কাজ করতে দিতে পারে, যদিও পুরো নেটওয়ার্ক সিস্টেমের কর্মক্ষমতা পূর্বের তুলনায় কিছুটা হ্রাস পায় ব্যাংক, সামি বিভাগ, বিমানের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে এবং এ ধরনের অন্যান্য ক্ষেত্রে আকস্মিক হার্ডওয়্যার সমস্যার উদ্ভব হলেও অবিরতভাবে সার্ভি প্রদান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে একাধিক প্রসেসর ব্যবহার করে নির্ভরযোগ্য সেবা প্রদান সম্ভব।

(ঙ) ব্যয় সংকোচন (Saving money)
ছোট কম্পিউটারগুলোর কর্মপক্ষতা দামের তুলনায় অত্যন্ত বেশি। ছোট কম্পিউটারের তুলনায় মেইনফ্রেমের কর্মদক্ষতা প্রায় দশগুণ বেশি কিন্তু এর মূল্য প্রায় সহস্রগুণ বেশি। মেইনফ্রেমের এ আকাশচুম্বী গুলোর কারে সিস্টেমে ডিজাইনারগণ জনপ্রতি একটি করে শক্তিশালী মাইক্রোকম্পিউটার নির্বাচন করে সিস্টেম ডিজাইন করেন, যেখানে এক ব একাধিক অংশীদারকৃত ফাইল সার্ভারে উপার ও প্রোগ্রাম জমা থাকে। ফলে কম খরচে তুলনামূলকভাবে অধিক গতিতে কাজ কর সম্ভব হয়। তা ছাড়া, নেটওয়ার্কে কম মূল্যের ডিস্কবিহীন ওয়ার্কস্টেশন ব্যবহার করা যায় বা বুটিং ও প্রোগ্রাম সংরক্ষণের জন্য সার্ভার এর হার্ড ড্রাইভকে ব্যবহার করে।
সাধারণত লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে ডিস্কবিহীন ওয়ার্কস্টেশন বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এটিও ব্যয় সংকোচনের একটি পন্থা বটে। প্রতিটি কম্পিউটারের সঙ্গে প্রিন্টার ও প্লটার সংযুক্ত না করে সার্ভারে সংযুক্ত করে এদের শেয়ারিং এর মাধ্যমেও ব্যয় হ্রাস করা যায়। উপাত্ত বিনিময়ের জন্য সাধারণত দুটি কম্পিউটারকে সংযুক্ত করতে হয়। অসং কম্পিউটার-সমেত নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে সংযোগের মাধ্যমে তেমন বায়বহুল না হলেও বড় বড় নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরবর্তী কম্পিউটারগুলো মিডিয়াম দ্বারা সংযুক্ত করা অত্যধিক ব্যয়বহুল।
এক্ষেত্রে যোগাযোগ স্থাপনে ইচ্ছুক কম্পিউটার বা ডিভাইসসমূহকে কোন কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক (যেমন- সুইড বা ব্রডকাস্ট) এর সাথে সংযুক্ত করে বায় হ্রাস করা সম্ভব ।
(চ) কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি (Increased system performance)
কোন কারণে নেটওয়ার্কে ওয়ার্কলোড বৃদ্ধি পেলে সিস্টেে দক্ষতা বৃদ্ধি করা সম্ভব। একে লোড শেয়ারিং বলা হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় মেইনফ্রেমের ক্ষেত্রে কোন কারণে ওয়ার্কলোড বৃদ্ধি পেলে অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন অন্য আরেকটি মেইনফ্রেমের প্রয়োজন। এতে করে সিস্টেমের ব্যয় যেমন বহুল পরিমাণে বৃদ্ধি পায় তেমনিভাবে অনেক ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারকারীদেরকে নিরাশ করে।
তা ছাড়া, নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে কোন বৃহৎ প্রক্রিয়াকরণকে একাধিক উপপ্রক্রিয়াকরণে (Sub-computation) বিভক্ত করে একই সময়ে বিভিন্ন প্রসেসরে রান করানোর মাধ্যমে সিস্টেমের প্রক্রিয়াকরণের গতি বহুলাংশে বাড়ানো সম্ভব।

(ছ) কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা (Centralized management)
নেটওয়ার্কের সাহায্যে কোন বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে কাজের সমন্বয়সাধনের মাধ্যমে সমগ্র কার্যাবলিকে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা যায়।
(জ) নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা (Security and privacy) :
নেটওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে উপাত্ত ও তথ্য আদান-প্রদানের সময় এদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বজায় রাখা সম্ভব। সাধারণত এনক্রিপশন (Encryption) পদ্ধতিতে উপাত্ত ও তথ্যকে প্রবাহ পথে অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবহারকারীর হাত থেকে নিরাপদ রাখা হয় এনক্রিপশন হল এমন একটি ব্যবস্থা, যা প্রেরণকৃত ফাইলকে এলোমেলো কোডে পরিণত করে। এনক্রিপ্ট করার সময় উক্ত ফাইলের জন্য একটি পাসওয়ার্ডের প্রয়োজন হয়।
এনডিন্ট সফটওয়ার পাসওয়ার্ডের ভিত্তিতেই ফাইলটিকে কোডে পরিণত করে পুনরায় কোড ফাইল থেকে মূল ফাইলটি পেতে হলে সে ফাইলটি পাসওয়ার্ড প্রয়োজন শুধুমাত্র সে পাসওয়ার্ডের মাধ্যমেই কোড ফাইল থেকে মূল ফাইলটি আহরণ করা সম্ভব। ব্যবহারকারী যাতে নির্দিষ্ট ডাইরেক্টরিতে নির্দিষ্ট সময়ে লগ-ইন করতে পারে, নেটওয়ার্ক সিকিউরিটির মাধ্যমে তাও নিশ্চিত করা যায়
(ঝ) একাধিক অপারেটিং সিস্টেমে সংযোগ (Access to more than one operating system)
নেটওয়ার্কের সাহায্যে ব্যবহারকারী প্রয়োজনে একাধিক অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে।
(ঞ) ওয়াবদল তৈরিকরণ (Creation of workgroup)
একটি গুয়ারগ্রুপ অনেকগুলো সংযুক্ত কম্পিউটারের সমি একটি বিশেষ কাজের জন্য ব্যবস্থাপনা করা হয়। একটি নেটওয়ার্ক সিস্টেম এক বা একাধিক ওয়াররুপ ধারণ করতে পারে। ওয়ার্কগ্রুপের প্রতিটি কম্পিউটারকে একটি নাম দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, উইন্ডোজ ফর ওয়ারক্রপ বা উই নেটওয়ার্ক সফটওয়্যার ব্যবহার করে স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা যায়।
(ট) শক্তিশালী যোগাযোগ মাধ্যম (Powerful communication medium)
কম্পিউটার নেটওয়ার্ক দূর-দূরান্তে অবস্থিত লোকজনের মধ্যে যোগাযোগের উপযুক্ত মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বহু দূরে অবস্থিত দুই ততোধিক ব্যক্তি মিলে একত্রে অতিসহজে কোন প্রতিবেদন তৈরি করতে পারে। অনলাইন পদ্ধতিতে যখন কোন লেখক রিপোর্টের কোন দলিল পরিবর্তন করে, তখন অন্যজন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অতি অল্প সময়েই তা পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
এজন্য গতানুগতিক ডাক সিস্টেমের ন্যায় দীর্ঘদিন পত্রপ্রাপ্তির জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। দ্রুতগতিসম্পন্ন এ ব্যবস্থা দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত লোকজনের মধ্যে অতিসহজেই সহযোগিতা ও সমন্বয়ের সভাব গড়ে তোলে, যা পূর্বে সম্ভব ছিল না। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মধ্যে উন্নত যোগাযোগ সৃষ্টিতে নেটওয়ার্কের ভূমিকা এর কারিগরি দিকের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ ।
২ thoughts on “কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এর সুবিধাসমূহ (Advantages of computer network)”