সাধারণ ব্লক ডায়াগ্রামসহ কমিউনিকেশন সিস্টেম

আজকের আলোচনার বিষয় সাধারণ ব্লক ডায়াগ্রামসহ কমিউনিকেশন সিস্টেম, যা কমিউনিকেশনের মৌলিক ধারণা অধ্যায়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থাকে বুঝতে হলে একটি কমিউনিকেশন সিস্টেম কীভাবে কাজ করে—তা ব্লক ডায়াগ্রামের মাধ্যমে জানা অপরিহার্য।

 

সাধারণ ব্লক ডায়াগ্রামসহ কমিউনিকেশন সিস্টেম

 

সাধারণ ব্লক ডায়াগ্রামসহ কমিউনিকেশন সিস্টেম (Communication system with a simple block diagram)

ডাটা কমিউনিকেশন কী?

কোনো ডাটা বা তথ্যকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে, অথবা এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে, কিংবা একজন প্রেরকের কাছ থেকে একাধিক গ্রাহকের নিকট (Destination) নির্ভরযোগ্যভাবে স্থানান্তর করার প্রক্রিয়াকে ডাটা কমিউনিকেশন বলা হয়।

বর্তমানে অধিকাংশ তথ্য কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে অথবা কম্পিউটার ও এর বিভিন্ন টার্মিনাল ডিভাইসের মধ্যে আদান–প্রদান হয়। এই কারণে ডাটা কমিউনিকেশনকে অনেক সময় কম্পিউটার কমিউনিকেশন নামেও অভিহিত করা হয়।

 

সাধারণ ব্লক ডায়াগ্রামসহ কমিউনিকেশন সিস্টেম

 

একটি সাধারণ কমিউনিকেশন সিস্টেমের ব্লক ডায়াগ্রাম

একটি সাধারণ ডাটা বা কমিউনিকেশন সিস্টেমকে কয়েকটি মৌলিক ব্লক বা অংশে ভাগ করা যায়। এই ব্লকগুলোর সমন্বয়েই একটি পূর্ণাঙ্গ কমিউনিকেশন সিস্টেম গড়ে ওঠে।

একটি সাধারণ কমিউনিকেশন সিস্টেমের ব্লক ডায়াগ্রামে নিম্নোক্ত উপাদানগুলো থাকে—

  1. Information Source (তথ্য উৎস)
  2. Message and Signal (বার্তা ও সিগন্যাল)
  3. Transmitter (প্রেরক যন্ত্র)
  4. Transmission Channel (প্রেরণ চ্যানেল)
  5. Receiver (গ্রাহক যন্ত্র)
  6. Destination (গন্তব্য)

নিচে প্রতিটি উপাদান বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

 

সাধারণ ব্লক ডায়াগ্রামসহ কমিউনিকেশন সিস্টেম

 

১. Message and Signal (বার্তা ও সিগন্যাল)

কমিউনিকেশন সম্পন্ন করার জন্য প্রথম ও প্রধান উপাদান হলো মেসেজ (Message)

মেসেজ বলতে সেই তথ্য বা ইনফরমেশনকে বোঝায়, যা প্রেরক গ্রাহকের কাছে পাঠাতে চায়। এটি হতে পারে—

  • Sound (শব্দ)
  • Text (লিখিত তথ্য)
  • Numbers (সংখ্যা)
  • Picture / Image (ছবি)
  • Video (ভিডিও)
  • অথবা এসবের সমন্বয়

অন্যদিকে, এই মেসেজকে যখন ইলেকট্রনিক বা বৈদ্যুতিক রূপে উপস্থাপন করা হয়, তখন তাকে সিগন্যাল (Signal) বলা হয়। অর্থাৎ—

Message = Information
Signal = Electronic representation of information

২. Information Source (তথ্য উৎস)

যে উৎস থেকে মেসেজ বা তথ্য উৎপন্ন হয়, তাকে Information Source বলা হয়। একটি কমিউনিকেশন সিস্টেমে সব মেসেজ অবশ্যই কোনো না কোনো উৎস থেকে আসে।

উদাহরণ—

  • মানুষের কণ্ঠস্বর
  • কম্পিউটার ফাইল
  • সেন্সর ডাটা
  • ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন

একটি মেসেজে ইনফরমেশনের পরিমাণ সাধারণত Bits, Dibits বা Tribits দ্বারা পরিমাপ করা হয়।

৩. Transmitter (প্রেরক)

Transmitter হলো সেই অংশ, যা Information Source থেকে প্রাপ্ত মেসেজকে সরাসরি প্রেরণযোগ্য সিগন্যালে রূপান্তর করে।

সাধারণত Source সিস্টেম নিজে থেকে মেসেজ ট্রান্সমিট করতে পারে না। ট্রান্সমিটার নিম্নলিখিত কাজগুলো সম্পন্ন করে—

  • তথ্যকে Transform করে
  • উপযুক্তভাবে Encode করে
  • Electromagnetic Signal-এ রূপান্তর করে

যাতে সিগন্যালটি প্রেরণ চ্যানেলের মধ্য দিয়ে সহজে চলাচল করতে পারে।

উদাহরণ:

একটি মডেম (Modem) কম্পিউটার থেকে পাওয়া ডিজিটাল ডাটা স্ট্রিমকে অ্যানালগ সিগন্যালে রূপান্তর করে টেলিফোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রেরণ করে।

৪. Transmission Channel (প্রেরণ চ্যানেল)

যে মাধ্যম বা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ডাটা বা মেসেজ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবাহিত হয়, তাকে Transmission Channel বলা হয়।

প্রেরণ চ্যানেল হতে পারে—

  • তারযুক্ত মাধ্যম (Twisted Pair, Co-axial Cable, Optical Fiber)
  • তারবিহীন মাধ্যম (Radio Wave, Microwave, Satellite)

Transmission Channel-এর গুণমান ডাটা কমিউনিকেশনের গতি ও নির্ভরযোগ্যতাকে সরাসরি প্রভাবিত করে।

৫. Receiver (গ্রাহক)

Receiver হলো সেই অংশ, যা প্রেরণ চ্যানেল থেকে আগত সিগন্যাল গ্রহণ করে এবং সেটিকে Destination-এর উপযোগী ফরম্যাটে রূপান্তর করে।

Receiver সাধারণত—

  • প্রাপ্ত সিগন্যালকে Accept করে
  • প্রয়োজনীয় Decode ও Transform করে
  • ব্যবহারযোগ্য ডাটায় রূপান্তর করে

উদাহরণ:

একটি মডেম টেলিফোন লাইনের মাধ্যমে আসা অ্যানালগ সিগন্যালকে ডিজিটাল Bit Stream-এ রূপান্তর করে কম্পিউটারে পাঠায়।

৬. Destination (গন্তব্য)

Destination হলো সেই চূড়ান্ত অংশ, যেখানে রিসিভার থেকে পাওয়া ইনফরমেশন ব্যবহার বা প্রদর্শন করা হয়।

Destination ডিভাইসের উদাহরণ—

  • Loud Speaker
  • Teletypewriter
  • Television Picture Tube
  • Video Display Unit (Monitor)
  • Radar Display
  • Pen Recorder ইত্যাদি

 

Point-to-Point ডাটা কমিউনিকেশন ধারণা

ধরা যাক, A এবং B দুটি পয়েন্ট। যদি A থেকে B-তে ডাটা ট্রান্সমিট করতে হয়, তাহলে নিচের উপাদানগুলো প্রয়োজন—

  1. Point A-তে DTE (Data Terminal Equipment)
  2. Point A-তে DTE ও DCE-এর সংযোগ
  3. Point A-তে DCE (Data Communication Equipment)
  4. Point A ও Point B-এর মধ্যে Transmission Channel
  5. Point B-তে DCE
  6. Point B-তে DCE ও DTE-এর সংযোগ
  7. Point B-তে DTE

ডাটা কমিউনিকেশনের ক্ষেত্রে—

  • DTE হিসেবে ব্যবহৃত হয়: Computer, Terminal
  • DCE হিসেবে ব্যবহৃত হয়: Modem, RS-232 Interface ইত্যাদি

 

সাধারণ ব্লক ডায়াগ্রামসহ কমিউনিকেশন সিস্টেম

 

একটি কমিউনিকেশন সিস্টেমের প্রতিটি ব্লক একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। Information Source থেকে শুরু করে Destination পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে কাজ না করলে পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। তাই সাধারণ ব্লক ডায়াগ্রামসহ কমিউনিকেশন সিস্টেমের ধারণা বোঝা ডাটা কমিউনিকেশন শেখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৩ thoughts on “সাধারণ ব্লক ডায়াগ্রামসহ কমিউনিকেশন সিস্টেম”

Leave a Comment