আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় সচরাচর ব্যবহৃত I/O device সমূহ – যা অধ্যায় ১ ”কম্পিউটার হার্ডওয়্যার” এর অন্তর্ভুক্ত। ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ডিপ্লোমা-ইন-টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এর সকাল টেকনোলজিতে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় “কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন-১” বইটি প্রশমিত হন। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক চার বছর মেয়াদি (প্রবিধান ২০০০) সিলেবাসের আলোকে এ মইটি লেখা হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ “ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলছে। সেজন্য প্রত্যকেরই কম্পিউটারের সাধারণ জ্ঞান থাকা আবশ্যক। এই উদ্দেশ্যে কাগিরি শিক্ষার সকান টেকনোলজিতে কম্পিউটার বিষয়টি আবশ্যিক করা হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে যার ঘাসীদেরকে আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির বেসিক অ্যাপ্লিকেশনসমূহ জানাতে আমাদের সম্মিলিত এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।
Table of Contents
সচরাচর ব্যবহৃত I/O device সমূহ
ইনপুট ডিভাইস
কম্পিউটারকে নির্দেশনা প্রদানের জন্য যে সমস্ত যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে ইনপুট ডিভাইস বলা হয়। কম্পিউটারে সাধারণত নিম্নলিখিত ইনপুট ডিভাইসসমূহ ব্যবহৃত হয়। যথাঃ
কী-বোর্ড
কী-বোর্ড হচ্ছে কম্পিউটারের একটি অন্যতম ইনপুট ডিভাইস। কম্পিউটারের অধিকাংশ তথ্য ও নির্দেশ প্রদানের কাজ কী-বোর্ডের সাহায্যে করা হয়।
প্রকারভেদ:
উপাত্ত স্থানান্তরের পদ্ধতি অনুযায়ী কী-বোর্ডকে প্রধানত দুভাগে ভাগ করা যায়, যথা-
১। সিরিয়াল কী-বোর্ড
২। প্যারালাল কী-বোর্ড।
বর্তমানে বাজারে ১০৪টি কি যুক্ত কী-বোর্ড ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ৮৩ বোতাম বিশিষ্ট একটি কী-বোর্ড, ৮৪ বোতাম বিশিষ্ট একটি কী-বোর্ড, অ্যাপল কী-বোর্ডও রয়েছে।
কী বোর্ডের বিভিন্ন অংশের বর্ণনা:
Character Key: কী-বোর্ডের Character Key দিয়ে সাধারণত টাইপের কাজ করা হয়। A থেকে Z এই ২৬টি বর্ণ এবং 0 থেকে 9 এই ১০টি সংখ্যার সমষ্টি হচ্ছে Character Key
Function Key: কী-বোর্ডের একবারে উপরের F1 থেকে F12 পর্যন্ত ১২টি কীকে ফাংশন কী বলা হয়।
Cursor Key: কার্সর হল ছোট আলোক রেখা যে রেখা দ্বারা মনিটরের পর্দার কাজের স্থান নির্দিষ্ট করা হয়।
Numeric Keypad : কী-বোর্ডের ডান পাশের প্রান্তে ক্যালকুলেটর এর মত যে অংশটি রয়েছে সেটি Numeric Keypad নামে পরিচিত। যদি Num Lock off থাকে তবে Numeric Keypad কাজ করবেনা।
Enter Key : Enter কী তে চাপ দিয়ে লেখার মধ্যে ফাকা জায়গা সৃষ্টি করা হয় এবং অন্য বোতামের সাথে এই কী ব্যবহার করে বিভিন্ন কমান্ড দেয়া হয়।

Shift key: Caps Lock off অবস্থায় Shift key চেপে ধরে কোন অক্ষর টাইপ করলে ইংরেজি বড় হাতের হবে। আর Shift Key চেপে না ধরে কোন অক্ষর টাইপ করলে ইংরেজি ছোট হাতের হবে। এছাড়াও বিভিন্ন কমান্ড দেয়ার জন্য Shift Key ব্যবহার করা হয়।
Ctrl key : Ctrl Key কে কন্ট্রোল কী বলা হয়। এ কী ব্যবহার করে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন প্যাকেজে আদেশ প্রদান করা হয়।
Alt Key : Ait Key কী কে অল্টার কী বলা হয়। বিভিন্ন প্যাকেজে মেনু নির্বাচন করার জন্য এ কী ব্যবহার করা হয়।
Escape Key: কিছু কিছু অ্যাপ্লিকেশন প্যাকেজে Esc কী press করে কমান্ড বাতিল করা হয়।
Space Bar Key : কী-বোর্ডে যে লম্বা কী বিদ্যমান সেটাকে Space Bar Key বলা হয়। লেখার মধ্যে ফাঁকা সৃষ্টি করার জন্য এই কী ব্যবহার করা হয়।
Arrow Key: এই কীগুলোকে কার্সর মুভমেন্ট কী বলা হয়। এই কীগুলোকে ব্যবহার করে কার্সরকে উপরে ↑, নিচে↓, ডানে এবং বামে – আনা নেয়া-করা যায়।
Caps Lock Key : এই কীতে একবার চাপ দিলে Caps Lock on হবে। Caps Lock on হলে অক্ষরসমূহ ইংরেজি বড় হাতের হবে। আবার এই কীতে চাপ দিলে Caps Lock off হবে এবং অক্ষরসমূহ ইংরেজি ছোট হাতের হবে।
Back Space key: এই কীতে চাপ দিলে কার্সরটি যেখানে আছে তার বামদিকের অক্ষরটি মুছে যাবে।
Print Screen Key: এই কী ব্যবহার করে Active Screen এর ইমেজ নেয়া যায়।
Insert Key : বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন প্যাকেজে এই কী একবার চাপ দিলে Over আসে। Over থাকা অবস্থায় কোনো লেখার উপর কার্সর রেখে লিখতে থাকলে পূর্বের লেখার উপর নতুন লেখা হবে।
Del Key : এই কীকে Delete Key বলা হয়। এই কীতে একবার চাপ দিলে কার্সারের উপরের লেখাটি মুছে যাবে।
Tab Key: কার্সরকে দ্রুত সরানোর জন্য এই কী ব্যবহার করা হয়। Pause Key & Screen এ বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের কিছু বার্তা আসে যা কিছু সময়ের জন্য স্থায়ী হয়, যে কারণে বার্তাগুলো ঠিকমতো পড়া যায় না। এই কী তে চাপ দিলে স্থায়ী হবে।
Page Up, Page Down, End key, Home key : এই কীগুলোর ব্যবহার বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন প্যাকেজে হয়ে থাকে।
মাউস
মাউস একটি ইনপুট ডিভাইস। ইহাকে নড়াচড়া করলে মনিটরের পর্দায় একটি তীর চিহ্ন নড়াচড়া করে। একে মাউস পয়েন্টার বলে।
মাউসের প্রকারভেদঃ
মেকানিজম এর উপর ভিত্তি করে মাউসকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়, যথাঃ
(I) Mechanical mouse
(II) Optical mouse.

স্ক্যানার
স্ক্যানার একটি Video Input Device, যার মাধ্যমে ছবি, লেখা কিংবা কোনো বস্তুকে আলোক প্রতিফলনের মাধ্যমে স্ক্যান করে Image এ রূপান্তরিত করা যায়।

ওয়েবক্যাম
এটি একধরনের ভিডিও ক্যামেরা, যা ভিডিও কল করার জন্য ব্যবহার করা হয়। ইন্টারনেট ব্যবহার করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভিডিও কল করা যায়।

মাইক্রোফোন
মাইক্রোফোন হল একটি ডিভাইস যার মাধ্যমে শব্দ প্রেরণ হলে তা সিগন্যালে রূপান্তরিত হয়।

আউটপুট ডিভাইস
Input Device এর মাধ্যমে Computer-এ তথ্য প্রেরণের ফলে Computer উক্ত তথ্য Processing-এর সুযোগ পায়। Processing সম্পন্ন হওয়ার পরে প্রক্রিয়াকরণের ফলাফল যে সমস্ত Hardware উপাদানের মাধ্যমে পাওয়া যায়, সেই সমস্ত Hardware উপাদানকে Output Device বলে।

বিভিন্ন ধরনের আউটপুট ডিভাইস সম্পর্কে নিচে উল্লেখ করা হল:
মনিটর
মনিটর হল এক ধরনের Computer Hardware যা Video Card এর মাধ্যমে তথ্য, ছবি ইত্যাদি প্রদর্শন করে থাকে। মনিটর
টেলিভিশনের অনুরূপ কিন্তু সাধারণত অনেক উচ্চ রেজল্যুশন এ তথ্য প্রদর্শন করে থাকে। মনিটরকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে, যথা-
১। LCD
২। CRT
প্রিন্টার
প্রিন্টার একটি ডিভাইস, যা একটি কম্পিউটার থেকে টেক্সট ও গ্রাফিক্স আউটপুট গ্রহণ করে এবং কাগজে তথ্য স্থানান্তর করে।

প্রজেক্টর
প্রজেক্টর হল এক ধরনের Optical Device যা একটি ছবির প্রতিচ্ছবি Projector Screen এ তৈরি করে।

ফ্ল্যাশ ড্রাইড
ফ্ল্যাশ ড্রাইভ হল ছোট ও সহজে বহনযোগ্য একটি External Storage Device। ইহা সাধারণত এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ফাইলসমূহকে আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

আরও দেখুনঃ
