রাউটার ও গেটওয়ের কার্যক্রম (Functions of router and Gateway)

আজকের আলোচনার বিষয়ঃ রাউটার ও গেটওয়ের কার্যক্রম । যা কানেকটিভিটি ডিভাইস এর অন্তর্গত।

 

রাউটার ও গেটওয়ের কার্যক্রম

 

রাউটার ও গেটওয়ের কার্যক্রম (Functions of router and Gateway)

রাউটার (Router) :

রাউটারের অপারেশন নিম্নে দেয়া হল

রাউটারের দুটি প্রধান কাজ হলো কোন পথ দিয়ে আরেকটি নেটওয়ার্কে পৌঁছা যাবে, তা নির্ধারণ এবং আবিষ্কৃত সেই পথ অন্য রাউটারকে জানিয়ে দেয়া। কোন পথ দিয়ে অন্য নেটওয়ার্কে ডাটা পাঠানো হবে, তা নির্ধারণের জন্য রাউটার দুধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করে- স্ট্যাটিক রাউটিং ও ডাইনামিক রাউটিং। যে রাউটিং পদ্ধতিই ব্যবহার করা হোক না কেন এটি আবিষ্কৃত বিভিন্ন পথের তথ্য জমা রাখে রাউটিং টেবিলে।

 

 

 

যখনই অন্য কোনো নেটওয়ার্কে ডাটা পাঠানোর দরকার হয়, তখন রাউটার দেখে নেয় সে নেটওয়ার্কে পৌঁছার জন্য রাউটিং টেবিলে কোনো পথ উল্লেখ করা আছে কি না। রাউটিং টেবিলে হয়ত কয়েকটি পথ পাওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে কোনটি সে বেছে নেবে, তা নির্ধারিত হয় বেশ কয়েকটি নিয়ামকের উপর। সাধারণত প্রতিটি পথের জন্য একটি করে আপেক্ষিক মান দেয়া হয়, যাকে বলা হয় কস্ট (Cost)। যে পথের কস্ট সবচেয়ে কম, রাউটার নেই পথ ব্যবহার করবে ডাটা প্যাকেট পাঠানোর জন্য।

ফার্মগেট থেকে গুলিস্তানে যেতে বলা হলো। কমপক্ষে দশটি পথ দিয়ে গুলিস্তানে যেতে পারে। নিশ্চয় যে পথে খরচ কম হবে, সে ব্যক্তি সেই পথে যাবে। আবার অনেক সময় কতটুকু সময় লাগবে, সেটাও সে ব্যক্তি বিবেচনা করবে। রাউটিং প্রটোকলের ক্ষেত্রেও এভাবে কস্ট নির্ধারিত হয়।

 

রাউটার ও গেটওয়ের কার্যক্রম

 

কয়েকটি নেটওয়ার্ক এভাবে রাউটারের মাধ্যমে যুক্ত থাকলে এক নেটওয়ার্ক থেকে অন্য নেটওয়ার্কে ডাটা ট্রান্সফারের সময় তা সংক্ষিপ্ততম পদ নিয়ে যাবে

চিত্রানুযায়ী মনে করি, কোনো ডাটা প্যাকেট নেটওয়ার্ক ১ হতে নেটওয়ার্ক ৫-এ পাঠাতে চাই। তাহলে আমরা নেটওয়ার্ক ২, নেটওয়ার্ক ৭ ব্যবহার না করে নেটওয়ার্ক ৪ ব্যবহার করব।

অর্থাৎ নেটওয়ার্ক ১ → নেটওয়ার্ক ৪ → নেটওয়ার্ক

গেটওয়ে (Gateway) :

গেটওয়ে হল এমন ধরনের ডিভাইস, যেগুলো ভিন্ন ধরনের নেটওয়ার্কসমূহকে যুক্ত করার জন্য। ব্যবহৃত হয়। রাউটার, ব্রিজ, হান, সুইচ ইত্যাদি ডিভাইস প্রটোকল ট্রান্সলেশনের সুবিধা দেয় না কিন্তু গেটওয়ে এ সুবিধা দেয় কোন ধরনের ট্রান্সলেশন সুবিধা দিচ্ছে, তার উপর ভিত্তি করে এটি ও.এস.আই রেফারেন্স মডেলের সকল স্তরে কাজ করতে পাকে। তে বেশির ভাগ গেটওয়ের কাজই ঘটে থাকে ওএসআই মডেলের উপরের স্তর অর্থাৎ অ্যাপ্লিকেশন, প্রেজেন্টেশন, সেশন ও ট্রান্সপোর্ট লেয়ারে।

কোন ধরনের কাজ করছে, তার উপর ভিত্তি করে গেটওয়েকে কয়েক প্রকারে ভাগ করা যেতে পারে এর মধ্যে অন্যত অ্যাড্রেস গেটওয়ে, প্রটোকল গেটওয়ে, অ্যাপ্লিকেশন গেটওয়ে ইত্যাদি ভিন্ন নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হওয়ার সময় এটি প্রটোকল ট্রান্সলেশনের কাজ করে থাকে। আইবিএম মেইনফ্রেম কম্পিউটারের সাথে সংযোগ গড়ার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে এসএনএ সার্ভার, যা মাইক্রোসফট ব্যাক অফিস সার্ভারের একটি অংশ। আই.বি.এম নেটওয়ার্ক যেহেতু সিটে টওয়ার্ক আর্কিটেকচার ব এসএনএ প্রটোকল ব্যবহার করে, তাই এর সাথে টিসিপি/আইপি নেটওয়ার্ক যুক্ত হতে পারবে না এর মাঝে এসএনএ সার্ভারকে গেটওয়ে হিসাবে রাখলে সেটি দুই নেটওয়ার্কের ডাটাকে দুজনের কাছেই বোধগম্য করে তুলবে।

রাউটার ও গেটওয়ের কার্যক্রম

 

গেটওয়ে (Gateways)-এর বৈশিষ্ট্যাবলি

(ক) গেটওয়ে ভিন্ন ধরনের নেটওয়ার্কসমূহকে যুক্ত করে।

(খ) গেটওয়ে প্রটোকল ট্রান্সলেশনের সুবিধা দেয়

(গ) এটি ও.এস.আই রেফারেন্স মডেলের প্রায় সকল স্তরে কাজ করতে পারে।

(ঘ) টি.সি.পি/আইপি-ভিত্তিক নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে রাউটার এবং গেটওয়ে একই অর্থে ব্যবহৃত হয়

(ঙ) যেখানে একাধিক প্রটোকল ব্যবহার করা হয়, সেখানে gateway অবশ্যই ব্যবহার করতে হয়।

 

 

রাউটার ও গেটওয়ের কার্যক্রম

 

গেটওয়ের ব্যবহার (Uses of Gateways)

নিম্নে গেটওয়ের ব্যবহার উল্লেখ করা হল:

(ক) গেটওয়ে ভিন্নধর্মী প্রটোকল বিশিষ্ট নেটওয়ার্ককে যুক্ত করতে পারে। এটি রাউটারের চেয়েও শক্তিশালী ডিভাইস।
(খ) গেটওয়ে নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের প্রটোকল ব্যাখ্যা ও অনুবাদ করাতে সক্ষম।
(গ) এটি ৩এসআই রেফারেন্স মডেলের প্রায় সকল স্তরে কাজ করতে পারে।
(ঘ) পিসি–ভিত্তিক ই-মেইল সিস্টেম এবং আই.বি.এম.-ভিত্তিক মেইনফ্রেম কম্পিউটারের মধ্যে ই-মেইল যোগাযোগ করছে হলে গেটওয়ে ব্যবহার করা আবশ্যক।
(ঙ) টিসিপি/আইপি-ভিত্তিক নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে রাউটার এবং গেটওয়ে একই অর্থে ব্যবহৃত হয়।

 

রাউটার ও গেটওয়ের কার্যক্রম

 

রিপিটার ও ব্রিজ-এর মধ্যে পার্থক্য

রিপিটার

ব্রিজ

১. রিপিটার দুই বা ততোধিক নেটওয়ার্ক সেগমেন্টকে সংযুক্ত করে নেটওয়ার্কের আওতাধীন কম্পিউটারসমূহের ডাটা আদান-প্রদানের অতিক্রমযোগ্য দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়। ১. ব্রিজ একই টাইপের প্রটোকল ব্যবহার করে একাধিক নেটওয়ার্ককে সংযুক্ত করে একটি একক নেটওয়ার্ক তৈরি করে।
২. রিপিটার সিগন্যালকে আপ্লিফাই করে। ২. ব্রিজ নেটওয়ার্ক সংযুক্ত করে।
৩. এক রাউটারের সাথে সংযুক্ত কম্পিউটার অন্য রাউটারের সাথে সংযুক্ত কম্পিউটারকে দেখতে পারে না। ৩. নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত সকল কম্পিউটার একে অপরকে দেখতে পারে।
৪. রিপিটার ফিজিক্যাল লেয়ারে কাজ করে। ৪. ব্রিজ ডাটা লিংক লেয়ারে কাজ করে।

 

২ thoughts on “রাউটার ও গেটওয়ের কার্যক্রম (Functions of router and Gateway)”

Leave a Comment