মডেম, হাব, রিপিটার, সুইচ ও রাউটারের শনাক্তকারী গঠন পর্যবেক্ষণ (Identify constructional features of modem, habs, repeater, switch and router)

আজকে আমরা আলোচনা করবো মডেম, হাব, রিপিটার, সুইচ ও রাউটারের শনাক্তকারী গঠন পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে। যা ডাটা কমিউনিকেশন সিস্টেমের ব্যবহারিক অংশের অন্তর্গত।

 

মডেম, হাব, রিপিটার, সুইচ ও রাউটারের শনাক্তকারী গঠন পর্যবেক্ষণ

 

মডেম, হাব, রিপিটার, সুইচ ও রাউটারের শনাক্তকারী গঠন পর্যবেক্ষণ (Identify constructional features of modem, habs, repeater, switch and router)

উদ্দেশ্য (Objectives)

(ক) মডেম হাব, রিপিটার, সুইচ ও রাউটারের গঠন সম্পর্কে অবগত হওয়া।

(খ) এদের কার্যক্রম জানা।

(গ) এদের ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা অর্জন।

 

তত্ত্ব (Theory) :

মডেম (Modem)

MODEM শব্দটি Modulator এবং Demodulator শব্দ দুটির সমন্বয়ে গঠিত। অর্থ Modulator এর MO এবং Pemodulator এর DEM-এর সমন্বয়ে MODEM শব্দটির উৎপত্তি। MODEM-এর কাজ মূলত দুটি ট্রান্সমিশনের সময় ডিজিটাল ডাটাকে অ্যানালগ ডাটা এবং রিসিভিং এর সময় অ্যানাল ডাটাকে ডিজিটাল ডাটাতে রূপান্তর করা। আর এ কাজটি করতে হয় কারণ কম্পিউটার কাজ করে ডিজিটাল ডাটা নিয়ে সে অ্যানালগ ডাটা নিয়ে কাজ করতে পারে না।

অপরপক্ষে, বহিঃজগতের অনেক মিডিয়া বা ডিভাইস অ্যানালগ সিগন্যাল বাতীত কাজ করতে পারে না। আর অ্যানালগ ও ডিজিটাল ডাটার সমন্বয়সাধনের মধ্যে মূলত MODEM-এর Performances অন্তনিহিত। মূলত ডিজিটাল ডাটাকে PSTN টেলিফোন সাইনের প্রপার্টির কারণে উচ্চগতিতে পাঠানো যায় না বলে ডিজিটাল ডাটাকে অ্যানালগ- এ পরিবর্তন করে উচ্চগতিতে পাঠানো হয় আর গ্রাহক প্রান্তে MODEM এর মাধ্যমেই অ্যানালগ সিগন্যাল ডিজিটালে রূপান্তরিত হয়।

মডেম, হাব, রিপিটার, সুইচ ও রাউটারের শনাক্তকারী গঠন পর্যবেক্ষণ

 

মডেম, হাব, রিপিটার, সুইচ ও রাউটারের শনাক্তকারী গঠন পর্যবেক্ষণ

হাব (Hub)-এর কাজ

(ক) বাস টপোলজি ছাড়া অন্য সব টপোলজিতেই এমন একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা থাকে, যেখানে বিভিন্ন ওয়ার্কস্টেশন থেকে আসা ক্যাবলসমূহ যুক্ত হতে পারে। যদি এ ক্যাবলসমূহের প্রান্তকে সোল্ডারিং করে যুক্ত করা হয়, তবে নেটওয়ার্কিং কাজ করবে না। তাই এ কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইসটি হল হাব (Hub)

(খ) হাব সিগন্যাল গ্রহণ করে এবং সিগন্যালের কোন প্রকার পরিবর্তন/পরিবর্ধন ছাড়া তা অন্য একটি কম্পিউটারে পাঠিয়ে দেয়।

(গ) সক্রিয় হাব প্রথমে সিগন্যাল গ্রহণ করে এবং একে পুনরুৎপাদন বা অ্যামপ্লিফিকেশন দ্বারা শক্তিশালী করে তা অন্য কম্পিউটারে পাঠায়।

(ঘ) ইন্টেলিজেন্ট হাব দ্বারা নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কাজ করা হয়।

(ঙ) হাবকে আমরা একাধিক নোডবিশিষ্ট একটি রিপিটার হিসাবেও চিন্তা করতে পারি।

(চ) হাব, ও.এস.আই রেফারেন্স মডেলের ফিজিক্যাল লেয়ারে কাজ করে।

মডেম, হাব, রিপিটার, সুইচ ও রাউটারের শনাক্তকারী গঠন পর্যবেক্ষণ

 

রিপিটার-এর কাজঃ

(ক) সিগন্যাল বিভিন্ন মিডিয়ায় ট্রান্সমিশনের সময় অ্যাটেনুয়েশনের কারণে সেই সিগন্যাল ক্রমশ দুর্বল হতে থাকে। নির্দিষ্ট দূরত্ব অতিক্রম করার পর এটির অস্তিত্বই লোপ পায়। অস্তিত্ব লোপ পাওয়ার আগেই সিগন্যালকে অ্যামপ্লিফাই করার প্রয়োজন পড়ে। এ রকম সিগন্যালকে অ্যামপ্লিফাই করার জন্য ব্যবহৃত হয় রিপিটার।

(খ) রিপিটারের কাজ হল ইনকামিং সিগন্যালকে অ্যামপ্লিফাই করা অর্থাৎ এর শক্তিকে বাড়িয়ে দেয়া, যাতে সিগন্যাল আরো বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে।

(গ) ইনকামিং সিগন্যালে যদি কোন প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত সিগন্যাল বা শব্দ (Noise) থাকে, তাহলে সে শব্দকে ফিস্টারিং করে বা বান দিয়ে মূল সিগন্যালের হুবহু ডুপ্লিকেট একটি সিগন্যাল তৈরি করে। তারপর এ সিগন্যালকে পুনাগঠনপূর্বক (Reconstruct) নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পুনরায় ট্রান্সমিট করে।

(ঘ) একটি রিপিটার দুই বা ততোধিক নেটওয়ার্ক সেগমেন্টকে সংযুক্ত করে নেটওয়ার্কের আওতাধীন কম্পিউটারসমূহের ডাটা আদান-প্রদানের অতিক্রমযোগ্য দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়।

(ঙ) রিপিটার ব্যবহার করে সংযুক্ত কম্পিউটারের সংখ্যা বাড়ানো যায়।

রিপিটার দুটো ভিন্ন ধরনের নেটওয়ার্ক সেগমেন্টকে সংযুক্ত করতে পারে।

 

মডেম, হাব, রিপিটার, সুইচ ও রাউটারের শনাক্তকারী গঠন পর্যবেক্ষণ

 

সুইচ (Switch)

নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটি ডিভাইসগুলোর মধ্যে অন্যতম কানেক্টর হচ্ছে সুইচ। এর কার্যক্রমগুলো হল-

(ক) সুইচ একটি মাল্টিপোর্ট ব্রিজ।

(খ) কম্পিউটার দ্বারা প্রেরণকৃত এর ডাটা রেটকে R দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

(গ) শুধুমাত্র পেয়ার কম্পিউটার এই সুইচ সংযোগে কাজ করতে পারে।

নিম্নে সুইচের চিত্র দেখানো হল

 

মডেম, হাব, রিপিটার, সুইচ ও রাউটারের শনাক্তকারী গঠন পর্যবেক্ষণ

 

রাউটার (Router)

রাউটারের কাজ নিয়ে বর্ণনা করা হলো

রাউটারের দুটি প্রধান কাজ হলো কোন পথ নিয়ে আরেকটি নেটওয়ার পৌছা যাবে তা নির্ধারণ এবং আবিষ্কৃত সেই পথ অন্য রাউটারকে জানিয়ে দেয়া। কোন পথ দিয়ে অন্য নেটওয়ার্কে ডাটা পাঠানো হবে, তা নির্ধারণের জন্য রাউটার দুধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করে- স্ট্যাটিক রাউটিং ও ডাইনামিক রাইটিং। যে রাইটিং পদ্ধতিই ব্যবহার করা হোক না কেন এটি আবিষ্কৃত বিভিন্ন পথের তথ্য জমা
রাখে রাউটিং টেবিলে।

যখনই অন্য কোনো নেটওয়ার্কে ডাটা পাঠানোর দরকার হয়, তখন রাউটার দেখে নেয় সে নেটওয়ার্কে পৌঁছার জন্য রাউটিং টেবিলে কোনো পথ উল্লেখ করা আছে কি না । রাউটিং টেবিলে হয়ত কয়েকটি পথ পাওয়া যেতে পারে । এর মধ্যে কোনটি সে বেছে নেবে, তা নির্ধারিত হয় বেশ কয়েকটি নিয়ামকের উপর সাধারন একটি করে আপেক্ষিক মান দেয়া হয়, যাকে বলা হয় কস্ট (Cost) যে পথের কষ্ট সবচেয়ে কম, রাউটার সেই কবে প্যাকেট পাঠানোর জন্য ।

ফার্মগেট থেকে গুলিস্তানে যেতে বলা হলো। কমপক্ষে দশটি পথ দিয়ে গুলিস্থানে যেতে পারে। নিশ্চয় যে পথে খরচ কম হবে, সে ব্যক্তি সেই পথে যাবে। আবার অনেক সময় কতটুকু সময় লাগবে,সেটাও সে ব্যাক্তি বিবেচনা করবে। রাউটিং প্রটোকলের ক্ষেত্রেও এভাবে কস্ট নির্ধারিত হয়।

 

মডেম, হাব, রিপিটার, সুইচ ও রাউটারের শনাক্তকারী গঠন পর্যবেক্ষণ

 

উপসংহার (Conclusion)

উপরোক্ত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আমরা মডেম, হাব, রিপিটার, সুইচ ও রাউটার সম্পর্কে জানতে পারলাম।

১ thought on “মডেম, হাব, রিপিটার, সুইচ ও রাউটারের শনাক্তকারী গঠন পর্যবেক্ষণ (Identify constructional features of modem, habs, repeater, switch and router)”

Leave a Comment