ম্যালওয়্যারের প্রকারভেদ

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় ম্যালওয়্যারের প্রকারভেদ। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও নৈতিক আচরণ নিশ্চিত করতে ম্যালওয়্যার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, ম্যালওয়্যার শুধু একটি কম্পিউটার নয়—একটি ব্যক্তি, একটি প্রতিষ্ঠান কিংবা পুরো নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

 

ম্যালওয়্যারের প্রকারভেদ

 

ম্যালওয়্যারের প্রকারভেদ

 

ম্যালওয়্যার কী ও কেন তৈরি হয়

যেসব কম্পিউটার সিস্টেম বা সফটওয়্যারে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি, নকশাগত গলদ (design flaw) বা প্রোগ্রামিং ভুল থাকে, সেসব জায়গায় ম্যালওয়্যার তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়। এসব দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সফটওয়্যারকে অকার্যকর করা, তথ্য চুরি করা বা সিস্টেমের ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে ম্যালওয়্যার তৈরি করে।

বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত অপারেটিং সিস্টেমগুলোর মধ্যে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে ম্যালওয়্যারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। এর অন্যতম কারণ হলো—বিশ্বজুড়ে উইন্ডোজ ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় আক্রমণকারীরা এই প্ল্যাটফর্মকে বেশি লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেয়। এছাড়া উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের অভ্যন্তরীণ কাঠামো সাধারণ ব্যবহারকারীর কাছে পুরোপুরি উন্মুক্ত নয়। ফলে কেউ যদি এর ভেতরের কোনো ত্রুটি আবিষ্কার করতে পারে, তবে সেটিকে কাজে লাগিয়ে সহজেই ম্যালওয়্যার তৈরি করা সম্ভব হয়।

ইন্টারনেটের ব্যাপক বিস্তারের আগের সময় ম্যালওয়্যারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে খুব কম ছিল। কিন্তু যখন থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ম্যালওয়্যার দ্রুত ও সহজে ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তখন থেকেই ম্যালওয়্যারের সংখ্যা ও আক্রমণের মাত্রা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ম্যালওয়্যারের প্রকারভেদ

প্রচলিত ও শনাক্তকৃত ম্যালওয়্যারগুলোর মধ্যে নিম্নোক্ত তিন ধরনের ম্যালওয়্যার সবচেয়ে বেশি পরিচিত ও বিস্তৃত—

ক. কম্পিউটার ভাইরাস

খ. কম্পিউটার ওয়ার্ম

গ. ট্রোজান হর্স

এই তিন ধরনের ম্যালওয়্যার ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে সিস্টেমে সংক্রমণ ঘটায় এবং ক্ষতি সাধন করে।

১. কম্পিউটার ভাইরাস

কম্পিউটার ভাইরাস হলো এমন এক ধরনের ম্যালওয়্যার, যা সাধারণত কোনো কার্যকরী ফাইল (Executable File)-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকে। যখন ব্যবহারকারী সেই ফাইলটি চালু করে, তখন ভাইরাসটি সক্রিয় হয় এবং ধীরে ধীরে অন্য কার্যকরী ফাইলগুলোতে নিজেকে কপি করে সংক্রমিত করে।

ভাইরাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—
👉 ব্যবহারকারীর হস্তক্ষেপ ছাড়া ভাইরাস নিজে নিজে ছড়াতে পারে না।

উদাহরণস্বরূপ, কোনো পেনড্রাইভে ভাইরাস আক্রান্ত ফাইল থাকলেও সেটি নিজে থেকেই কম্পিউটারে ছড়ায় না। ব্যবহারকারী যদি সেই ফাইলটি চালু করে, তাহলেই ভাইরাসটি সক্রিয় হয়ে পড়ে এবং কম্পিউটারকে আক্রান্ত করে।

২. কম্পিউটার ওয়ার্ম

কম্পিউটার ওয়ার্ম হলো এমন একটি স্বতন্ত্র ম্যালওয়্যার প্রোগ্রাম, যা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিজে নিজেই এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর জন্য ব্যবহারকারীর কোনো সরাসরি ভূমিকার প্রয়োজন হয় না।

ওয়ার্ম সাধারণত—

  • ইন্টারনেট বা লোকাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে
  • ইমেইল, ফাইল শেয়ারিং বা নিরাপত্তা দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে
  • খুব দ্রুত অসংখ্য কম্পিউটারকে সংক্রমিত করে

এই কারণে ওয়ার্মকে ভাইরাসের তুলনায় অধিক বিপজ্জনক মনে করা হয়, কারণ এটি অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো নেটওয়ার্ক অচল করে দিতে পারে।

৩. ট্রোজান হর্স (Trojan Horse)

ক্ষতিকর সফটওয়্যারের উদ্দেশ্য তখনই সফল হয়, যখন সেটিকে ক্ষতিকর হিসেবে শনাক্ত করা যায় না। এই কৌশলই ব্যবহার করে ট্রোজান হর্স।

ট্রোজান হর্স সাধারণত—

  • একটি ভালো বা উপকারী সফটওয়্যারের ছদ্মবেশে ব্যবহারকারীর কাছে আসে
  • ব্যবহারকারী সরল বিশ্বাসে সেটি ইনস্টল বা চালু করে
  • চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রোজান সক্রিয় হয়ে পড়ে

ট্রোজান হর্স সক্রিয় হলে—

  • ব্যবহারকারীর গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নষ্ট করতে পারে
  • গোপন তথ্য চুরি করতে পারে
  • নতুন নতুন ম্যালওয়্যার বা ট্রোজান ডাউনলোড করতে পারে
  • দূর থেকে হ্যাকারকে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দিতে পারে

এই কারণেই ট্রোজান হর্সকে সবচেয়ে প্রতারক ও ভয়ংকর ম্যালওয়্যার হিসেবে ধরা হয়।

ম্যালওয়্যারের প্রকারভেদ

ম্যালওয়্যার সম্পর্কে সচেতনতা ছাড়া নিরাপদ ও নৈতিকভাবে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার সম্ভব নয়। ভাইরাস, ওয়ার্ম ও ট্রোজান—প্রতিটি ম্যালওয়্যার ভিন্ন কৌশলে আক্রমণ করলেও তাদের লক্ষ্য একটাই: ব্যবহারকারীর ক্ষতি করা

সঠিক জ্ঞান, সচেতন ব্যবহার এবং নিরাপত্তা বিধি মেনে চললেই ম্যালওয়্যারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

১ thought on “ম্যালওয়্যারের প্রকারভেদ”

Leave a Comment