আজকে আমরা ল্যান, ম্যান ও ওয়ান এর সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মৌলিক ধারণার অন্তর্গত।

Table of Contents
ল্যান, ম্যান ও ওয়ান এর সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ (General features of LAN, MAN and WAN)
লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা ল্যান (Local Area Network or LAN)
লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা ল্যান (LAN) হচ্ছে এমন ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা, যা কোন সীমাবদ্ধ ভৌগোলিক এলাকার অনেকগুলো কম্পিউটার, টার্মিনাল বা অন্যান্য পেরিফেরাল ডিভাইসসমূহে পরস্পর আন্তঃসংযুক্ত করতে সক্ষম। একই ভবন বা পাশাপাশি অবস্থিত ভবন বা একই ক্যাম্পাসে স্থাপিত কম্পিউটারসমূহের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন ও একে অপরের সম্পনসমূহ ভাগাভাগি করে ব্যবহারের জন্য LAN স্থাপন করা হয়।
এ ধরনের নেটওয়ার্কে কম্পিউটার সংযোগের জন্য সাধারণত রিং, স্টার বা বাস টপোলজি ব্যবহৃত হয়। LAN-এ উপাত্ত বা তথ্য স্থানান্তরের জন্য মিডিয়া হিসেবে কো-অ্যাক্সিয়াল ক্যাবল, জোড়া পাকানো ভার, অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল ও বিশেষ ধরনের ইন্টারফেস কার্ড (Special Interface Card) ব্যবহৃত হয়। ফলে LAN এর ক্ষেত্রে উপাত্ত ও তথ্য প্রেরণের গতি অত্যন্ত বেশি হয়ে থাকে LAN-এ কো-অ্যাক্সিয়াল ক্যাবল ব্যবহার করে প্রতি সেকেন্ডে 10 মেগাবিট হারে এবং অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় 100 মেগাবিট হারে উপার ও তথ্য স্থানান্তর করা যায়।
LAN এ সংযুক্ত কম্পিউটারসমূহ বিভিন্ন রকম হতে পারে এবং এগুলো উপাত্ত ও শব্দ প্রক্রিয়াকরণ, প্রেডশিট, ফাইল স্থানান্তর, ইলেকট্রনিক মেইল প্রেরণ, ডাটাবেস শেয়ারিং এর মতো বিভিন্ন কার্যাবলি সম্পন্ন করতে পারে। সাধারণত কোন একক প্রতিষ্ঠান LAN এর স্বত্বাধিকারী হয়ে থাকে।

লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের দুটি প্রধান উদ্দেশ্য
(ক) একটি প্রতিষ্ঠান বা ক্যাম্পাসে অবস্থিত কম্পিউটারসমূহের মধ্যে লিঙ্ক স্থাপন করা, যাতে এদের সঙ্গে সংযুক্ত অতিদ্রুত গতির প্রিন্টার বা চৌম্বক ডিস্কের ন্যায় দামি পেরিফেরাল ডিভাইসসমূহকে এবং হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার সম্পদসমূহকে পরস্পর শেয়ার করতে পারে।
(খ) LAN-এ সংযুক্ত কম্পিউটারসমূহকে একে অন্যের সাথে যোগাযোগ স্থাপনে অনুমতি দেয়া। সাধারণত স্বয়ংক্রিয়া অফিস ও কারখানা ব্যবস্থাপনা, ডিস্ট্রিবিউটেড কম্পিউটিং, প্রসেস কন্ট্রোল, ডকুমেন্ট ডিস্ট্রিবিউশন, ইলেকট্রনিক মেইল প্রেরণ ও ডাটাবেস শেয়ারিং ইত্যাদি ক্ষেত্রে LAN ব্যবহৃত হয়। ইধারনেট (Ethernet) ও এমনিনেট (Omninet) হল লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের উদাহরণ।

মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক বা ম্যান (Metropolitan Area Network or MAN)
ভৌগোলিক সীমানার দিক দিয়ে ল্যান ও ওয়ান এর মধ্যবর্তী নেটওয়ার্ক হচ্ছে ম্যান। সাধারণত একাধিক ভবন হতে শুরু করে একটি মেট্রোপলিটন শহর পর্যন্ত এর সীমানা বিস্তৃত হতে পারে। সাধারণত একাধিক ল্যান সেগমেন্টকে আন্তঃসংযোগ করে ম্যান গঠন করা হয়। টেলিভিশন ডিস্ট্রিবিউশনের জন্য ব্যবহৃত কমিউনিটি অ্যান্টেনা টেলিভিশন (Community Antenna Television- CATV) নেটওয়ার্ক হল অ্যানালগ ম্যান এর উদাহরণ।
ডিজিটাল ম্যানের ক্ষেত্রে ব্রডব্যান্ড কো-অ্যাক্সিয়াল ক্যাবল দ্বারা নেটওয়ার্কের বিভিন্ন কম্পিউটারসমূহকে সংযুক্ত করা হয়। কোন একক প্রতিষ্ঠান এর স্বত্বাধিকারী বা পরিচালনাকারী হতে পারে। তবে সাধারণত বহু ব্যবহারকারী বা প্রতিষ্ঠান MAN ব্যবহার করতে পারে।
LAN এর তুলনায় MAN এর ক্ষেত্রে উপাত্ত স্থানান্তরে ভুলের হার ও সময় বিলম্ব অধিক এবং স্পিড কম হয়। হাই রেজুলুশন গ্রাফিক্স, ইমেজ, কমপ্রেসড ভিডিও ট্রান্সমিশন এবং পিএবিএক্স ও ল্যান সংযোগে ম্যান ব্যবহৃত হয়। এটার ভৌগোলিক সীমানা 50-75 মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। এই নেটওয়ার্কের প্রতিটি ডিভাইস সরাসরি নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকে।

ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক বা ওয়ান (Wide Area Network or WAN) :
এটি এমন একটি কম্পিউটার যোগাযোগ, যা দূরবর্তী নেটওয়ার্ক, কম্পিউটার, টার্মিনাল ও নেটওয়ার্ক সম্পদসমূহকে আন্তঃসংযোগ করে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগের সুবিধা প্রদান করে। WAN-এ যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে টেলিফোন লাইন, মাইক্রোওয়েভ বা স্যাটেলাইট লিঙ্ক ব্যবহৃত হয়। এর সর্বোচ্চ গতি হতে পারে 45Mbps WAN নেটওয়ার্ক দুই প্রকার- এন্টারপ্রাইজ নেটওয়ার্ক ও গ্লোবাল নেটওয়ার্ক। এ ধরনের নেটওয়ার্ক কয়েক কিলোমিটার থেকে শুরু করে কয়েক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।
অর্থাৎ এ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিস্তীর্ণ এলাকার মধ্যে উপাত্ত ও তথ্য স্থানান্তর করা যায় বলে এর এরূপ নামকরণ করা হয়েছে একে “Long Haul Network বলা হয়। দেশ-বিদেশে বিস্তৃত এ ধরনের নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারী মডেম ও টেলিফোন লাইনের মাধ্যমে নেটওয়ার্কে সংযুক্ত দূরবর্তী যে কোন কম্পিউটারের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারে।
এক্ষেত্রে যে কম্পিউটারকে কল কর হয়, তাকে হোস্ট কম্পিউটার বলা হয়। এতে বহুসংখ্যক লাইন ও ট্রান্সমিশনের জন্য বিশেষ যোগাযোগী প্রসেসর ব্যবহার করা ইনফরমেশন বা তথ্য সার্ভিসের জন্য ডাটাবেস, বুলেটিন বোর্ড, ইলেকট্রনিক মেইল ইত্যাদি কাজে ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (WAN) ব্যবহৃত প্রখান এর উপাত্ত ও তথ্য স্থানান্তরের গতি ল্যান ও ম্যান এর তুলনায় কম। সাধারণত একাধিক প্রতিষ্ঠান যা কোন দেশের সরকার প্রমান এর স্বত্ত্বাধিকারী হয়ে থাকে ARPANET INDONET SATENET ইত্যাদি হল ওয়ান এর উদাহরণ।
চিত্রে ওয়ান এর একটি নমুনা চিত্র দেখানো হল

LAN ব্যবহারের উদ্দেশ্যসমূহ (Purposes of the LAN) :
মূলত নিম্নলিখিত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় :
(ক) রিসোর্স শেয়ারিংঃ
LAN-এর কম্পিউটার বা টার্মিনালসমূহ প্রিন্টার, ম্যাগনেটিক ডিস্ক ইত্যাদি রিসোর্সসমূহ শেয়ার করতে পারে।
(খ) ইনফরমেশন শেয়ারিং ঃ
বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম, ডাটা ইত্যাদি নেটওয়ার্কে কম্পিউটার বা টার্মিনালসমূহ শেয়ার করতে পারে।
(গ) নেটওয়ার্ক অ্যাক্সেস (Network Access)
LAN এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী WAN-এ অ্যাক্সেস করতে পারে।
LAN ব্যবহারের সুবিধাসমূহ (Advantages of using LAN)
নিম্নে LAN ব্যবহারের সুবিধাগুলো দেয়া হল
(ক) দ্রুতগতিতে ডাটা ট্রান্সমিট হয়,
(খ) ট্রান্সমিশন খরচ (Cost) কম,
(গ) ডাটা ট্রান্সমিশনে ভুলের পরিমাণ কম হয়।
LAN এর প্রকারভেদ (Types of LAN )
LAN প্রধানত দু’ প্রকার, যথা-
(ক) বেসব্যান্ড (Baseband)
(খ) 36-4015 (Broadband)
বেসব্যান্ডঃ
যে সিগন্যাল ট্রান্সমিট করার জন্য মডেম বা অন্য কোন কিছুর প্রয়োজন হয় না, অর্থাৎ সরাসরি ট্রান্সমিট করা যায় তাই বেসব্যান্ড। নিম্নলিখিত টেকনিকসমূহ বেসব্যান্ড ট্রান্সমিশনে ব্যবহৃত হয়।
(ক) টোকেন পার্সিং টেকনিক
(খ) ক্যামব্রিজ রিং টেকনিক
(গ) ইথারনেট।
ব্রডব্যান্ডঃ
এক্ষেত্রে একত্রে একাধিক সিগন্যালকে মাল্টিপ্লেক্স করে ট্রান্সমিট করা হয়।
২ thoughts on “ল্যান, ম্যান ও ওয়ান এর সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ (General features of LAN, MAN and WAN)”