বেনিফিট নির্ণয়ের পদ্ধতি (Cost/ Benefit analysis)

বেনিফিট নির্ণয়ের পদ্ধতি – নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “সিস্টেম অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ডিজাইন” বিষয় এর “ফিজিবিলিটি অ্যানালাইসিস” বিভাগের একটি পাঠ।

বেনিফিট নির্ণয়ের পদ্ধতি (Cost/ Benefit analysis)

বেনিফিট নির্ণয়ের পদ্ধতি

যে-সব লাভ প্রত্যক্ষভাবে সৃষ্টি হয়, তাকে ডাইরেক্ট লাভ (Direct benefit) বলে। যেমন- কোনো দ্রব্য বিক্রি হলে বেনিফিট (benefit)। অন্যকথায়, ইনডাইরেক্ট বেনিফিট (indirect benefit) বলতে যা সাধারণত চোখে দেখা যায় না:

নিম্নে খরচ/লাভ অ্যানালাইসিস (cost/ benefit analysis) পদ্ধতি আলোচনা করা হলো- 

খরচ/লাভ অ্যানালাইসিস (cost/ benefit analysis) পদ্ধতি:

(ক) একটি নির্দিষ্ট প্রজেক্ট (project)-এর খরচ এবং লাভ (cost and benefits) নির্ণয় করা। 

(খ) খরচ (Cost) এবং লাভ (benefit)-কে শ্রেণিবিভাগ করা।

(গ) খরচ (Cost) এবং লভ্যাংশের মূল্য নির্ধারণ (benefit evaluation) করা।

(ঘ) অ্যানালাইসিসের ফলাফল (result)-কে ব্যাখ্যা (interpret) করা।

(ঙ) কার্যে পরিণত করা।

 

(ক) কস্ট এবং বেনিফিট নির্ণয় করা (Cost and benefits identification)  :

একটি প্রজেক্ট ডেভলপ (project develop) করতে হলে ঐ প্রজেক্ট (Project)-এর খরচ এবং লাভ (cost and benefits) নির্ণয় করা একান্ত প্রয়োজন। প্রকৃতপক্ষে, একটি প্রজেক্ট (Project) যেন খরচ কার্যকর (cost effective) হয় সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া একজন সিস্টেম অ্যানালিস্ট (system analyst)-এর একান্ত প্রয়োজন ।

 

(খ) খরচ এবং লাভকে শ্রেণিবিভাগ করা (Classification of cost and benefits) :

একটি প্রজেক্ট (project)-এর খরচ (cost) কন্তু ও লাভ (benefit) কত তা দেখা একান্ত প্রয়োজন এবং খরচ (cost) ও লাভ (benefit) বিভিন্ন শ্রেণিতে সাজানো প্রয়োজন। কারণ কিছু খরচ আছে তা অবশ্যই হবে আবার কিছু খরচ আছে ইচ্ছা করলেই বাড়ানো বা কমানো যায়।

 

(গ) লাভ বা খরচ এর মূল্য নির্ধারণ করা (Evaluation of cost and benefits) :

আসলে এটি হলো খরচ (cost) ও লাভ (benefit) নির্ণয়ের গাণিতিক সূত্র (mathematical formula), যার সাহায্যে গাণিতিক মান নির্ণয় করা হয়। এর অনেকগুলো পদ্ধতি আছে, যেমন—নিট বেনিফিট অ্যানালাইসিস, বর্তমান মূল্য বিশ্লেষণ, এনভি মেথড, ব্রেক ইভেন অ্যানালাইসিস এবং ক্যাশ ফ্লো অ্যানালাইসিস (Net benefit analysis, present value analysis, NV method, Break even analysis and cash flow analysis) ইত্যাদি।

 

(ঘ) অ্যানালাইসিসের ফলাফলকে অনুবাদ করা (Interpret the result of the analysis) :

প্রজেক্টটির মূল্য নির্ধারণ (evaluation) কমপ্লিট হলে উপরোক্ত রেজাল্টসমূহকে কমপেয়ার (compare) করতে হবে এবং কোন ক্যান্ডিডেট সিস্টেম (candidate system)

 

(ঙ) কার্যে পরিণত করা (Take action) :

যে ক্যান্ডিডেট সিস্টেম (candidate system)-টি কস্ট ইফেক্টিভ (cost-effective) হবে উপযোগী তা নির্ণয় করতে হবে। তাকে বাস্তবে রূপদান করতে হবে।

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ফাংশন | অর্গানাইজেশনাল ফাংশন এবং সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট লাইফ সাইকেল | সিস্টেম অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ডিজাইন
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

খরচ/লাভের শ্রেণিবিভাগ (Classify the cost/ benefits) :

নিচে খরচ/লাভ (cost/benefits)-এর শ্রেণিবিভাগ দেখানো হলো-

(ক) বাস্তব বা অবাস্তব খরচ বা সুবিধা (Tangible or intangible costs and benefits)

(খ) ডাইরেক্ট বা ইনডাইরেক্ট খরচ বা সুবিধা (Direct or indirect costs and benefits)

 (গ) নির্দিষ্ট ও চলমান খরচ বা সুবিধা (Fixed or variable costs and benefits)।

 

(ক) ট্যানজিবল অথবা ইনট্যানজিবল কস্ট এবং বেনিফিট (Tangible or intangible costs and benefits) :

যে-সব খরচ চোখে দেখা যায় বা পরিমাপ করা যায়, তাকে বাস্তব খরচ (Tangible cost) বলে। যেমন- শ্রমিকের বেতন, শ্রমিকের কম্পিউটার ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা ইত্যাদি এবং যে লাভ চোখে দেখা যায় তাকে বাস্তব লাভ (tangible benefit) বলে। অন্যকথায়, যে-সব খরচ চোখে দেখা যায় না একমাত্র অনুধাবন করা যায় বা বুঝা যায়, তাকে অবাস্তব খরচ (Intangible cost) বলে । যেমন- কোনো কোম্পানির বদনাম বা সুনাম, মেধা ইত্যাদি ।

 

(খ) ডাইরেক্ট অথবা ইনডাইরেক্ট কস্ট এবং বেনিফিট (Direct or indirect costs and benefits) :

 কোনো প্রজেক্টকে যখন অপারেশন (operation) করা হয় তখন প্রত্যক্ষ যে খরচ হয় তাকে ডাইরেক্ট কস্ট বলে। যেমন- ১০০০ টাকা দিয়ে ফ্লপি ডিস্ক কেনা হয়েছে; ২০০ টাকা দিয়ে কী-বোর্ড (Keyboard) কেনা হয়েছে- এ সবগুলো ডাইরেক্ট কস্ট (Direct cost)।

যে-সমস্ত কস্ট ডাইরেক্টলি (cost directly) খরচ হয় না, তাকে ইনডাইরেক্ট কস্ট (indirect cost) বলে। যেমন- রিপেয়ারিং, মেইনটেন্যান্স কস্ট (repairing, maintenance cost) ইত্যাদি। একে ওভারহেড কস্ট (overhead cost) বলে । যে-সব লাভ প্রত্যক্ষভাবে সৃষ্টি হয়, তাকে ডাইরেক্ট লাভ (Direct benefit) বলে। যেমন- কোনো দ্রব্য বিক্রি হলে বেনিফিট (benefit)। অন্যকথায়, ইনডাইরেক্ট বেনিফিট (indirect benefit) বলতে যা সাধারণত চোখে দেখা যায় না, যেমন— ভালো পরিচালনা পর্ষদ (good management), সুনাম ইত্যাদি থেকে প্রাপ্ত লাভ ।

 

বেনিফিট নির্ণয়ের পদ্ধতি

 

(গ) ফিক্সড অথবা ভেরিয়েবল কস্ট এবং বেনিফিট (Fixed or variable costs and benefits) :

কিছু খরচ ও লাভ অবশ্যই হবে। যদি কোনো পদ্ধতি (system) বন্ধ থাকে তবুও ঐ খরচগুলো সম্পূর্ণ হবে। অতএব উক্ত কস্ট এবং বেনিফিট যথাক্রমে নির্দিষ্ট খরচ (fixed cost) এবং নির্দিষ্ট লাভ (fixed benefit) বলে। যেমন-ঘরভাড়া, বিদ্যুৎ ও পানি বিল ইত্যাদি। এগুলো নির্দিষ্ট খরচ (fixed cost) | নির্দিষ্ট লাভ (Fixed benefit)-এর উদাহরণ হলো শতকরা ২০% কর্মচারী (employee) হ্রাসের কারণে যে ফিক্সড (fixed) লাভ।

অন্যকথায়, যে কস্ট নির্দিষ্ট (constant) নয় অথবা উঠানামা করে, তাকে চলমান খরচ (variable cost) বলে। যেমন- লেখার জন্য পেপার খরচ, রিপেয়ার (repair) খরচ অথবা আপ্যায়ন খরচ ইত্যাদি। ঠিক তেমনই যে লাভ উঠানামা করে, তাকে চলমান লাই (variable benefit) বলে। হার্ডডিস্ক (Hard disk)-এর মূল্য উঠানামা ইত্যাদি অথবা সফটওয়্যার গেম (Software games)-এর চাহিদা উঠানামা ইত্যাদি।

 

আরও দেখুনঃ

১ thought on “বেনিফিট নির্ণয়ের পদ্ধতি (Cost/ Benefit analysis)”

Leave a Comment