ভিজ্যুয়াল প্রোগ্রামিং এর সুবিধা-অসুবিধাসমূহ I প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ৩

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় ভিজ্যুয়াল প্রোগ্রামিং এর সুবিধা-অসুবিধাসমূহ – যা অধ্যায় ২ ”ভিজ্যুয়াল বেসিকের ধারণাসমূহ” এর অন্তর্ভুক্ত। বর্তমান বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি হচ্ছে কম্পিউটার প্রযুক্তি। কারণ শিল্পকারখানা, গবেষণা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসাশাস্ত্র ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রই আজ কম্পিউটার অটোমেটেড। কম্পিউটার অটোমেশনের সঙ্গে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ও প্রোগ্রামিং লেখার জন্য প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাই শিক্ষা ও গবেষণার জন্য প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ অধ্যয়ন একটি অতি আবশ্যকীয় বিষয়। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহ বিবেচনা করে বর্তমানে কারিগরি শিক্ষার সকল টেকনোলজিতে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ বিষয়কে আবশ্যিক করা হয়েছে ।

 

ভিজ্যুয়াল প্রোগ্রামিং এর সুবিধা-অসুবিধাসমূহ I প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ৩

 

ভিজ্যুয়াল প্রোগ্রামিং এর সুবিধা-অসুবিধাসমূহ

নিম্নে ভিজ্যুয়াল প্রোগ্রামিং এর সুবিধা-অসুবিধা সমূহ আলোচনা করা হল।

সুবিধাসমূহ (Advantages) :

  • ভিজ্যুয়াল প্রোগ্রামিং সহজবোধ্য তাই সহজে শেখা যায়।
  • এ প্রক্রিয়ায় প্রোগ্রামারকে কোড লিখে প্রোগ্রাম করতে হয় না। ফলে কোড লিখার নিয়ম কানুন (Rules-regulation) ও জানার প্রয়োজন হয় না।
  • এতে কমান্ড মুখস্থ করার ঝামেলা নেই।
  • ভিজ্যুয়াল প্রোগ্রামিং এনভায়রনমেন্টে (Environment) পর্যাপ্ত সংখ্যক কম্পোনেন্টের তালিকা (Component list) বিদ্যমান। ঐ তালিকা হতে প্রোগ্রামার খুব সহজেই প্রয়োজনীয় কম্পোনেন্টকে বেছে নিয়ে কাজ করতে পারে।
  • ভিজ্যুয়াল প্রোগ্রামিং এনভায়রনমেন্টে বিদ্যমান কম্পোনেন্ট তালিকা হতে প্রয়োজনে কোন কম্পোনেন্ট Move, resize কিংবা বাদ (Delete) ও করা যায়।
  • ফর্মে কতগুলো কন্ট্রোল (Control) Place হবে তার জন্য কোন বাঁধাধরা নিয়ম নেই।
  • এ পদ্ধতিতে প্রোগ্রামার নিজে ইচ্ছে করলে নিজেই User Interface তৈরি করতে পারেন।
  • কোন রকম কোড না লিখেই প্রোগ্রামার প্রয়োজনে কোন কম্পোনেন্ট এবং Alignment পরিবর্তন করতে পারেন।
  • ভিজ্যুয়াল প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজে কোন প্রোগ্রামিং task কে অধিকতর দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করার জন্য Built in function, sub routine function, custom library custom object তৈরির সুবিধা বিদ্যমান।
  • এ ধরনের প্রোগ্রামিং এ ভুল-ত্রুটি নির্ণয় ও এদের সমাধান অপেক্ষাকৃত সহজ।
  • এ পদ্ধতিতে Program maintenance অনেক সহজ।
  • সর্বোপরি এতে ব্যবহৃত Object সমূহ Object Oriented বা বাস্তব জীবনের সাথে সম্পর্কিত বিধায় সিস্টেমটি User friendly বলে বিবেচিত।

 

অসুবিধাসমূহ (Disadvantages) :

  • ভিজ্যুয়াল ডেভেলপমেন্ট এনভায়রনমেন্ট ব্যবহার করে কোন নতুন অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপ করার পুরো প্রক্রিয়াটিই ভিজ্যুয়াল। তাই ডেভেলপমেন্ট এনভায়রনমেন্টটি (Development Environment) পুরোপুরিই গ্রাফিক প্রকৃতির হয়ে থাকে, এজন্য এতে অতিরিক্ত মেমোরির প্রয়োজন হয়।
  • কনভেনশনাল (Conventional) প্রোগ্রামিং এর তুলনায় ভিজ্যুয়াল প্রোগ্রামিং এ উচ্চতর কনফিগারেশনের

(Configuration) কম্পিউটার প্রয়োজন হয়। যেমনঃ

(ক) অধিকতর ধারনক্ষমতা সম্পন্ন হার্ড ডিস্ক

(খ) অতিরিক্ত র‍্যাম (RAM)

(গ) দ্রুতগতির প্রসেসর (Faster Processor) ইত্যাদি।

 

ভিজ্যুয়াল প্রোগ্রামিং এর সুবিধা-অসুবিধাসমূহ I প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ৩

 

  • প্রাথমিক ভাবে ভিজ্যুয়াল প্রেগ্রামটি কেবলমাত্র GUI (Graphical User Interface) অপারেটিং সিস্টেম যেমন উইন্ডোজ এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
  • এই ধরণের প্রোগ্রামিং এর ক্ষেত্রে প্রোগ্রাম আকারে অনেক বড় হয়।
  • প্রোগ্রাম রান হতে বেশি সময় লাগে।

Leave a Comment