ক্লায়েন্ট/সার্ভার ও পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক (Client / server and peer to peer network)

আজকে আমরা ক্লায়েন্ট/সার্ভার ও পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মৌলিক ধারণার অন্তর্গত।

 

ক্লায়েন্ট/সার্ভার ও পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক

 

ক্লায়েন্ট/সার্ভার ও পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক (Client / server and peer to peer network)

ক্লায়েন্ট/সার্ভার এবং পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক হল লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (ল্যান) এর দুটি মোড অর্থাৎ ল্যান উক্ত পুটি মোডে কাজ করতে পারে। নিম্নে তাদের বিস্তারিত বর্ণনা করা হল।

ক্লায়েন্ট/সার্ভার নেটওয়ার্ক (Client server network) :

বিস্তারিত আলোচনার শুরুতে আমাদের জানা উচিত ক্লায়েন্ট এবং সার্ভার কী? সাধারণ অর্থে আমরা যখন কোন ডাটা গ্রহণ করি, তখন আমরা যা থেকে অর্থাৎ কম্পিউটার থেকে ডাটা বা সার্ভিস করি, তাকে সার্ভার বলা হয় এবং আমরা তথ্য গ্রহণ করি বিধায় আমরা ক্লান্টে বা ভোক্তা।

 

ক্লায়েন্ট (Client) :

এটি নেটওয়ার্কযুক্ত একটি পিসি, যাকে ওয়ার্কস্টেশন (Workstation)-ও বলা হয়। যদি একটি LAN সিস্টেমে ১০টি কম্পিউটার থাকে, তাহলে তার একটিকে সার্ভার (যা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এবং স্টোরেজ ক্যাপাসিটি বড় হয়ে থাকে) এবং বাকি ১টি ক্লায়েন্ট হিসেবে কনফিগার করে নেটওয়ার্ক ডিজাইন করা হয়ে থাকে ক্লায়েন্ট পিসি নেটওয়ার্কে অবস্থিত সার্ভার বা অন্য কোন ক্লায়েন্ট পিসি থেকে কেবলমাত্র সার্ভিস নিয়ে থাকে। সে নেটওয়ার্কের অন্য সদস্যদের কোন সার্ভিস অফার করে না।

সার্ভার (Server) :

সার্ভার ক্লায়েন্ট পিসি থেকে আগত যে কোন অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া প্রদান করে এবং তদনুযায়ী সেবা প্রদান করে। তবে ডেডিকেটেড সার্ভার শুধু সার্ভারের কাজই করে অর্থাৎ সে কখনও নিজেকে ক্লায়েন্ট বা ওয়ার্কস্টেশন হিসেবে প্রকাশ করে না, কিন্তু নন-ডেডিকেটেড সার্ভার নিজেকে ক্লায়েন্ট হিসেবে বিবেচনা করে কাজ করতে পারে।

পিয়ার (Peer) :

পিয়ার শব্দের আভিধানিক অর্থ সমকক্ষ নেটওয়ার্কে এ ধরনের পিসি ক্লায়েন্ট ও সার্ভার হিসেবে অর্থাৎ সবগুলো কম্পিউটার একই শ্রেণির বা পরস্পরের সমকক্ষ বলে ঐগুলোকে একে অপরের সাথী বা পিয়ার বলা হয়। এ ধরনের পিসি-সার্ভারে সার্ভিসের জন্য অনুরোধ পাঠিয়ে থাকে এবং অন্য কোন পিসি সার্ভিস চাইলে সে সেটি প্রদান করে।

 

ক্লায়েন্ট/সার্ভার ও পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক

 

ক্লায়েন্ট/সার্ভার নেটওয়ার্ক (Client/server network)ঃ

এ নেটওয়ার্কে ওয়ার্কস্টেশন ও সার্ভার উভয় কম্পিউটারের নিজস্ব সিপিইউ এবং মেমরির সাহায্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ কাজের সুযোগ রয়েছে। এতে ক্লায়েন্ট ওয়ার্কস্টেশনে গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস (Graphical User Interface) বা GUI ফ্রন্ট এন্ড (Front end) প্রোগ্রাম এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থাকে। এতে এক বা একাধিক ব্যাক এন্ড (Back end) সার্ভার প্রোগ্রাম সঞ্চিত থাকে।

ক্লায়েন্ট যখন সার্ভারকে কোন কিছুর অনুরোধ করে, তখন নেটওয়ার্কের এক বা একাধিক সার্ভারে রক্ষিত ব্যাক এন্ড প্রোগ্রাম উক্ত ক্লায়েন্টকে সাড়া প্রদান করে। যখন কোন ব্যবহারকারী কোন কাস্টমারের সুনির্দিষ্ট রেকর্ড দেখতে চায়, তখন সার্ভার সফটওয়্যার উক্ত রেকর্ডকে খুঁজে বের করে এবং শুধুমাত্র উক্ত রেকর্ডকেই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর কাছে প্রেরণ করে।

এ নেটওয়ার্কের মূল উদ্দেশ্য হল ফ্রন্ট এন্ড ক্লায়েন্ট এবং ব্যাক এন্ড সার্ভারের মধ্যে কোন অ্যাপ্লিকেশনের কম্পিউটিং ক্ষমতাকে ভাগাভাগি করে কাজে লাগানো, অর্থাৎ এতে বোমানের অংশবিশেষ সার্ভারে এবং অংশবিশেষ ক্লায়েন্টের কম্পিউটারে সম্পাদিত হতে পারে। এতে ক্লায়েন্ট সার্ভারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার রিসোর্সসমূহ শেয়ার করতে পারে এবং সার্ভার ক্লায়েন্টকে জটিল কাজে সরাসরি সাহায্য করতে পারে। এজন্য একে সার্ভারের ক্লায়েন্ট বলা হয়। নিম্নে ক্লায়েন্ট/সার্ভার নেটওয়ার্কের চিত্র দেয়া হলঃ

ক্লায়েন্ট/সার্ভার ও পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক

 

পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক (Peer-to-peer network)

এ প্রকারের নেটওয়ার্কে প্রতিটি কম্পিউটার রিসোর্স শেয়ার ক্ষেত্রে সমান ভূমিকা পালন করে থাকে। এখানে কোন ডেডিকেটেড সার্ভার থাকে না বিধায় কম্পিউটারগুলোর মধ্যে গুরুত্বের দি থেকে কোন শ্রেণিবিন্যাসও নেই। প্রতিটি পৃথক কম্পিউটার তার ডাটার নিরাপত্তা বিধানে নিজেই নারী থাকে। এতে ব্যবহাে নির্ধারণ করে দেন তার কোন ফাইল যা ডাটা নেটওয়ার্কের অন্যান্য কম্পিউটার শেয়ার করতে পারবে। নিম্নে পিয়ার-টু-পিয় নেটওয়ার্কের একটি চিত্র দেয়া হল

 

ক্লায়েন্ট/সার্ভার ও পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক

 

ক্লায়েন্ট/সার্ভার ও পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্কের মধ্যে পার্থক্য

 

পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্ক
(ক) এ নেটওয়ার্কে যুক্ত সবগুলো কম্পিউটার একই শ্রেণি বা সমকক্ষ বলে এগুলোকে একে অপরের সাথী বা পিয়ার বলা হয়। (ক) এতে ব্যবহৃত কেন্দ্রীয় কম্পিউটারটিকে বলা হয় সার্ভার এবং সার্ভারের সাথে সংযুক্ত কম্পিউটারগুলোকে বলা হয় ওয়ার্কস্টেশন বা ক্লায়েন্ট।
(খ) এ নেটওয়ার্কের কম্পিউটারগুলো সার্ভার ও ক্লায়েন্ট উভয়েরই ভূমিকা পালন করে। তাই এতে আলাদা কোন শক্তিশালী সার্ভার সংযোজনের প্রয়োজন হয় না। (খ) এতে এক বা একাধিক সার্ভার প্রয়োজন হয়, যা ব্যাক এন্ড প্রোগ্রাম কোন ক্লায়েন্টকে সাড়া প্রদান করে।
(গ) পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্কের ডিজাইন ও রক্ষণাবেক্ষণ সহজ। (গ) ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্কের ডিজাইন ও রক্ষণাবেক্ষণ অনেকটা জটিল।
(ঘ) পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্কের খরচ কম। (ঘ) এতে কেন্দ্রীয় সার্ভারে তথ্য জমা থাকে এবং অনুমোদিত ব্যবহারকারীর হাত থেকে তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
(ঙ) এতে কোন কেন্দ্রীয় কম্পিউটারে তথ্য জমা থাকে না বলে তথ্যের নিরাপত্তা রক্ষা করা যায় না। (ঙ) একে কেন্দ্রীয় সার্ভারে তথ্য জমা থাকে এবং অনুমোদিত ব্যবহারকারীর হাত থেকে তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

 

ক্লায়েন্ট/সার্ভার ও পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক

 

ক্লায়েন্ট/সার্ভার নেটওয়ার্কের সুবিধা ও অসুবিধা

সুবিধাসমূহ

(ক) সার্ভারে রক্ষিত তথ্য বা ফাইলগুলোকে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

(খ) তথ্য বা ফাইলগুলো একটি নির্দিষ্ট সার্ভারে সঞ্চিত থাকে বলে নিশ্চিতভাবে এদেরকে খুঁজে বের করা যায়।

(গ) এতে তথ্য বা ফাইলের এমনকি পুরো নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা একটি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর দ্বারা পরিচালিত হয়, যার কাজ হল নিরাপত্তার বিভিন্ন নীতিনির্ধারণ করা এবং নেটওয়ার্কের আওতাধীন সকল ব্যবহারকারীকে সে রীতিনীতি মেনে চলতে বা করা। উদাহরণস্বরূপ: উইন্ডোজ এনটি সার্ভার নেটওয়ার্ককে বিবেচনা করা যায়।

(ঘ) যেহেতু এ পদ্ধতিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা ফাইলগুলো একটি একক বা কয়েকটি সার্ভারে কেন্দ্রীভূত থাকে, তাই সহজে এগুলো নিয়মিত ব্যাক আপ করা যায়।

(ঙ) এ নেটওয়ার্কে রিডানড্যান্সি সিস্টেম থাকার ফলে যে কোন সার্ভারের তথ্য বা ফাইলসমূহকে যে কোন কম্পিউটারে কপি। করে রাখা যায়। ফলে কোন কারণবশত আসল তথ্য বা ফাইল নষ্ট হয়ে গেলেও ব্যাকআপ কপি থেকে প্রয়োজনে সে উদ্ধার করা যায়।

(চ) পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্কের তুলনায় ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্কে অধিক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম (যেমন- উইন্ডোজ এনটি সার্ভার) ব্যবহার করা হয় বলে এটি অধিক সংখ্যক ব্যবহারকারীকে সমর্থন করে।

অসুবিধাসমূহ

(ক) এ নেটওয়ার্কের ডিজাইন, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ বেশ জটিল এবং পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্কের তুলনায় এর খরচ বেশি।

(খ) এ নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সার্ভারের জন্য উচ্চগতির প্রসেসর, অধিক ধারণক্ষমতার হার্ড ডিস্ক এবং প্রচুর মেমরির প্রয়োজন হয় ।

(গ) এ নেটওয়ার্কে পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল প্রয়োজন।

১ thought on “ক্লায়েন্ট/সার্ভার ও পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক (Client / server and peer to peer network)”

Leave a Comment