আজকে আমরা নেটওয়ার্ক পারফরম্যান্স বাড়ানোর নিয়ামক সম্পর্কে আলোচনা করবো । যা নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড এর অন্তর্গত।

Table of Contents
নেটওয়ার্ক পারফরম্যান্স বাড়ানোর নিয়ামক (Factors that enhance the network performance)
একটি নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ডে নিম্ন বর্ণিত উন্নয়ন সাধন করে এর মাধ্যমে প্রেরিত উপাত্তের প্রবাহ গতি বাড়ানো যায় তথা নেটওয়ার্ক পারফরম্যান্স বৃদ্ধি করা যায় ।
১। ডাইরেক্ট মেমরি এক্সেস (Direct Memory Access -DMA)
এই পদ্ধতিতে কম্পিউটারকে মাইক্রোপ্রসেসরকে বাদ দিয়ে উপাত্তকে সরাসরি NIC বাফার হতে মেমরিতে স্থানান্তর করে। ফলে উপাত্ত প্রবাহে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াকরণের জন্য সময় অপচয় না হওয়ায় নেটওয়ার্ক উপাত্ত প্রবাহের গতি তথা নেটওয়ার্ক পারফরম্যান্স বৃদ্ধি পায়।
২। শেয়ারড এডাপ্টার মেমরি (Shared Adapter Memory)
এই পদ্ধতিতে NIC এর মেমরিকে কম্পিউটার শেয়ার করতে পারে। NIC এর মেমরিকে কম্পিউটার তার নিজস্ব মেমরি হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে কম্পিউটারের প্রক্রিয়াকরণের গতি বেড়ে যায় এবং নেটওয়ার্ক পারফরম্যাপ বৃদ্ধি পায়।
৩। শেয়ারড সিস্টেম মেমরি ( Shared System Memory)
এই পদ্ধতিতে NIC এ ব্যবহৃত প্রসেসর কম্পিউটার মেমরি একটি নির্ধারিত অংশ উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যবহার করে। ফলে NIC প্রসেসরের কাজের গতি বেড়ে যায় তথা নেটওয়ার্ক পারফরম্যাপ বৃদ্ধি পায় ।

৪। ৰাস মাস্টারিং (Bus Mastering) :
এই পদ্ধতিতে NIC কম্পিউটার সিপিইউকে বাইপাস করে সাময়িকভাবে কম্পিউটার বাসের নিয়ন্ত্রন গ্রহণ করে এবং উপাত্তকে সরাসরি কম্পিউটার সিস্টেম মেমরিতে স্থানান্তর করে। এতে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রন বাসের নিষেণ কার্যক্রম থেকে মুক্ত থাকে এবং অন্যান্য কাজ দ্রুতগতিতে সম্পাদন করতে পারে। ফলে নেটওয়ার্ক পারফরম্যান্স প্রায় ২০- 10) % বৃদ্ধি পায়। BISAPCI এবং Microchannel ইত্যাদি NIC বাস মাস্টারিং সমর্থন করে।
৫। র্যাম বাফারিং (RAM Buffering) :
অনেক সময় কে উচ্চগতির ট্রাফিক পরিচালনা করতে হয়। নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ডে একটি র্যাম ডিপ(RAM Chip) থাকে যা বাফার মেমরি হিসেবে কাজ করে। যখন NIC এর প্রক্রিয়াকরণের সামর্থ্যের অধিক উপাত্ত গ্রহণ করে তখন র্যাম বাফার কিছু উপাত্তকে ধরে রাখে যতক্ষণ পর্যন্ত না উরু NIC উপাত্তকে প্রসেস করে। এই প্রক্রিয়া এব পারফরম্যাপকে বৃদ্ধি করে।
৬। অন-বোর্ড মাইক্রোপ্রসেসর (On board Micro Processor) :
যে সমস্ত NIC কার্ডে নিজস্ব মাইক্রোপ্রসেসর বিল্ট ইন পারে এদেরকে উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের জন্য কম্পিউটারের সাহায্য নিতে হয় না। আজ কাল অধিকাংশ NIC কার্ডেই মাইক্রোপ্রসেসর কিন্তু ইন থাকে। ফলে নেটওয়ার্ক পারফরম্যান্স বৃদ্ধি পায়।
নেটওয়ার্ক পারফরম্যান্স বাড়ানোর নিয়ামকগুলো নিম্নে দেয়া হলঃ
(ক) টপোলজি (Topology)
(খ) প্রটোকল (Protocol)
(গ) মেথড (Method)
(খ) মিডিয়া (Media)
(ক) টপোলজি (Topology)
নেটওয়ার্কের পারফরম্যান তার টপোলজির উপর নির্ভর করে। বিভিন্ন ধরনের টপোলজি আছে যেমন- lax, Star, Mesh, Ring ইত্যাদি। প্রত্যেক টপোলজির কিছু সুবিধা বা অসুবিধা আছে এবং প্রত্যেক টপোলজি অন্যান Device-এর সাথে সামজ্ঞস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। এসব দিক বিচার করে গঠিত টপোলজি বিবেচনা করতে পারলে অবশ্যই Network এর পারফরম্যান্স বৃদ্ধি পাবে।
(খ) প্রটোকল (Protocol)
নেটওয়ার্কে বিভিন্ন ধরনের প্রটোকল ব্যবহার করা হয়, যার উপর নেটওয়ার্কের পারফরম্যান্স নির্ভর করে, যেমন- TCP/IP, NetBEUI, Netware IPX/SPX ইত্যাদি যেমন, TCP/IP প্রটোকল সুইট সবখানে সমাদৃত।
(গ) মেথড (Method)
নেটওয়ার্কের পারফরম্যাপ তার NIC এর উপর নির্ভর করে। কোন ধরনের Network ব্যবহার করা হবে, তার উপর Network performance নির্ভর করবে বিভিন্ন ধরনের Network Architecture ব্যবহার করা হয়, যেমন- Fast Ethernet, Token Ring. ARC net, ATM ইত্যাদি।
(ঘ) মিডিয়া (Media)
এখানে মিডিয়া বলতে কোন ধরনের মাধ্যম data ট্রান্সমিশনের জন্য ব্যবহার করা হবে, তাকে বুঝানে হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের মিডিয়া রয়েছে এবং এর উপর নেটওয়ার্ক পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণভাবে নির্ভর করে, যেমন- Canal cale UTP Optical fiber, radia ইত্যাদি।
পূর্বের অধ্যায়গুলোতে টপোলজি, প্রটোকল ও মেথড সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে, কিন্তু মিডিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয় নি। তাই এখানে মিডিয়া সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করা হলঃ
(ডাটা আদান-প্রদান করার প্রক্রিয়াকে ডাটা ট্রান্সমিশন আর যে সকল মাধ্যম ব্যবহার করে data কে এক স্থান/কম্পিউটার অন্য স্থানে/কম্পিউটারে আদান-প্রদান করা হয়. তাই ট্রান্সমিশন মিডিয়া যে কোন কমিউনিকেশন সিস্টেমে ট্রান্সমিশন মিডিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, Media ছাড়া কোন ট্রান্সমিশনই সম্ভব নয়। মানুষ তার communication সম্পন্ন করার জন্য যেমন বাতাস (air) কিংবা টেলিফোন ব্যবহার করে ঠিক তেমনি কম্পিউটারও ক্যাবল (cable), আলো (light) এবং রেডি (radio-wave প্রকৃতির মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করে থাকে।

ট্রান্সমিশন মিডিয়ার মাধ্যমেই কম্পিউটার ডাটা গ্রহণ কিংবা প্রেরণ করতে পারে। ট্রান্সমিশন মিডিয়া মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে, যথা-
(ক) Bounded media cable media এবং
(খ) Boundless media.
Bounded media তে মূলত বিভিন্ন ধরনের Cable, যেমন- Coaxial Cable, Shielded twisted pair,Unshielded twisted pair এবং Fibre optic cable অন্তর্ভুক্ত। আর Boundless media হচ্ছে wireless communication.
আমরা এখন transmission media এবং বিভিন্ন ধরনের media-এর বৈশিষ্ট্য, ব্যবহার ইত্যাদি সম্পর্কে জানব।
ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম-এর সীমা (Range of electromagnetic spectrum)
ট্রান্সমিশন মিডিয়া ব্যবহার করে ইলেকট্রনিক সিগন্যালের মাধ্যমে কম্পিউটার টু কম্পিউটার কমিউনিকেশন স্থাপিত হয়। ইলেকট্রনিক সিগন্যালগুলো বাইনারি ভ্যালু ( 0.1)-কেই ধারণ করে। কাঙ্ক্ষিত Destination computer-এ না পৌঁছা সিগন্যালগুলো ট্রান্সমিশন মিডিয়া যেমন ক্যাবল কিংবা রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে বিভিন্ন Device এর মধ্য দিয়ে Transmin হয়ে থাকে।
কম্পিউটারের মধ্য দিয়ে Transmit সকল Signal গুলোই Electromagnetic (EM) waveform এর নি Frequency যেমন- Radio frequency, microwave. Infrared light ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকে। আবার বিভিন্ন ধরনের media ও এ সকল Frequency-এর যে কোন Frequency ব্যবহার করে Transmission কার্য সম্পন্ন করে থাকে Electromagnet form এর বিভিন্ন frequency-এর জন্য ভিন্ন ভিন্ন range বা সীমা উল্লেখ করা আছে, যাকে Electromagnetic spectrum নিজে চিত্রে Electromagnetic spectrum উল্লেখ করা হল :
চিত্রটি লক্ষ করলে দেখা যাবে এখানে বিভিন্ন Category d Waveform রয়েছে এবং তাদের নির্দিষ্ট frequency সীমাও উল্লেখ করা আছে।
যেমন- Audio frequency-এর সীমা কয়েক Hs থেকে ace Kilo Hr. Radio waves twee Kilo Ha থেকে Gia এবং Microwave Gile থেকে THE পর্যন্ত সীমা ধারণ করে। আর Infrared light এর Frequency খুব বেশি। এটি মূলত আলোর গতিতে কাজ করে।
Radio frequency; LAN signaling, electrical Cable Radio broadcast ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়। Microwave earth station to Satellite communication 4 Infrared light [] higher frequency-এর ক্ষেত্রে যেমন- Television, remote control Fibre optic cable এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

ট্রান্সমিশন মিডিয়ার বৈশিষ্ট্য (Characteristics of transmission media)
প্রতিটি Transmission media ক্ষেত্রেই নিজস্ব কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে কিন্তু সকল media-এর জন্যই সর্বজনীন কিছু বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন, যাতে করে একজন Network designer সহজেই অনুধাবন করে নিতে পারেন যে, তিনি কোন ধরনের media ব্যবহার করবেন কারণ media-এর বৈশিষ্ট্যের উপরও কোন কোম্পানির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ানি জড়িত থাকে। তাই সকল ট্রান্সমিশন মিডিয়ার ক্ষেত্রে যে সকল বৈশিষ্ট্যগুলো বিবেচ্য, সেগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হল :
(ক) Cost
(খ) Installation requirement
(গ) Bandwidth
(ঘ) Band usage (Baseband or broadband)
(ঙ) Attenuation এবং
(চ) Immunity from electromagnetic interference ইত্যাদি।
Cost
Transmission media এর Cost, network designing এর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ, বিভিন্ন রনের Transmission media-এর দাম ভিন্ন ভিন্ন রকম। যেমন, never technology সমৃদ্ধ media এর Cost অবশ্যই বেশি। সে ক্ষেত্রে network designer কে তার চাহিদা মাফিক Transmission media select করতে হয়, যার দাম বেশি কিংবা কম অথবা মাঝামাঝি কিছু একটি হতে পারে।
Installation Requirement
Transmission media তে installation-ও একটি বিবেচ্য বিষয়। কারণ কিছু কিছু Media tallation Skilled labour প্রয়োজন হয় আবার কোন কোনটির Installation process খুবই সহজ এবং গতানুগতিক। Bandwidth : Transmission media নির্বাচনে লক্ষ রাখতে হবে কোন Media এর Bandwidth কত? অর্থাৎ তার সর্বোচ্চ ও • Frequency কত? Bandwidth বেশি হলে সেই Media দিয়ে বেশি পরিমাণ data transmit করা যায় এবং কম হলে কম পরিমাণ data transmit করা যায়। তাই এটিও media নির্বাচনে যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে ।
Band usage
Transmission media নির্বাচনে mediaটি Bareband না কি Broadband সেটি দেখতে হয়। কারণ [baseband munication এর জন্য চওড়া ব্যান্ডউইথ বিশিষ্ট চ্যানেল প্রয়োজন হয়, কোন মডেম লাগে না, কিন্তু Broadband nication-এ একটি সংযোগ পথ নিয়ে একসাথে একাধিক সংযোগ প্রতিষ্ঠা করা যায়, তবে সঙ্কেত গ্রহণ বা প্রেরণের জন্য modem ব্যবহার করতে হয়।
Attenuation
Transmission media কী পরিমাণ সূক্ষ্মতা (Attenuation) কিংবা reliability-এর সাথে data transmit করতে পারে, তাই Atenuation নির্বাচন করে দেয়।
Immunity from electromagnetic Interference
‘বাইরের জগতের Noise থেকে wave form কতটুকু নিরাপদ, তাই it from electromagnetic interference। মিডিয়া বা মাধ্যমঞ্চেনে Noise কম বা বেশি হতে পারে, সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে।
ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ইন্টারফিয়ারেন্স (Electromagnetic interference)
Interference মানে অবাঞ্ছিতভাবে হস্তক্ষেপ করা। Modium বা মাধ্যমের মধ্য দিয়ে Signal transmission এর সময় যদি বাইরের কোন Noise, signal এর সাথে মিশে যায় এবং signal কে distort করে, তবে তাকে Electromagnetic interference হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আমরা যখন FM Radio শুনি, তখন নিকটে বিদ্যমান কোন Motor কিংবা lightning এর Noise মূল Signal কে বাধাগ্রস্ত করে।
পরস্পর সন্নিহিত cable এর ক্ষেত্রে একটি বিশেষ ধরনের Interference হচ্ছে Crosstalk. আমরা যখন টেলিফোনে কথা বল তখন মাঝে মাঝে অন্যদের Conversation-ও শুনতে পাই। একসাথে পরস্পরের কাছাকাছি অনেক Cable থাকলে তখনই এ ধরনের সমস্যা দেখা যায়।
স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন (Satellite communication)
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মধ্যে কম্পিউটার ডাটা আদান-প্রদান করার জন্য অথবা এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থানান্তরের জন্য স্যাটেলাইট ট্রান্সমিশন ব্যবস্থাকে ব্যবহার করা হয়। এ ব্যবস্থায় তিনটি স্যাটেলাইট স্টেশন দ্বারা সময় বিশ্বে ডাটা ট্রান্সমিশন করা হয়। প্রতিটি স্যাটেলাইটে 12টি ট্রান্সপোন্ডার (Transponder) থাকে, যেখানে গ্রাহক, প্রেরক ও অ্যামপ্লিফায়ার (Amplifier) অংশ Ground থাকে। সাধারণত 22,300 মাইলের চেয়ে বেশি দূরত্বে ডাটা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে এ ধরনের কমিউনিকেশন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।


অসুবিধাসমূহ (Disadvantages)
(ক) একজনের পাঠানো ডাটা অন্যজন যাতে গ্রহণ করতে না পারে, সেজন্য ডাটাকে encrypt করার প্রয়োজন হয়।
(খ) স্যাটেলাইট ট্রান্সমিশন ফ্রিকুয়েন্সি তৃপৃষ্ঠে মাইক্রোওয়েভ স্টেশন ইত্যাদির কারণে ডাটার ভিড় (dam) হলে ট্রান্সমিশনে অসুবিধা হয়।
(গ) দূরত্ব অনেক বেশি হলে ট্রান্সমিশন ধীরগতির হয়।