আজকে আমরা কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ব্যবহারক্ষেত্র সম্পর্কে আলোচনা করবো। কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মৌলিক ধারণার অন্তর্গত।

Table of Contents
কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ব্যবহারক্ষেত্র (Application of computer network)
দুই বা ততোধিক কম্পিউটারের মধ্যে নেটওয়ার্ক সংঘটিত হলে নিম্নলিখিত অপারেশনগুলো সম্পন্ন করা যায়ঃ
(ক) কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একাধিক কম্পিউটার পরস্পরের সাথে তথ্য শেয়ার করতে পারে।
(খ) হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার রিসোর্সসমূহ শেয়ার করতে পারে।
(গ) প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ ও এর নিরাপত্তা বিধান করা যায়।
(ঘ) সিস্টেমের বিশ্বস্ত Performance বৃদ্ধি পায়।
কম্পিউটারের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার বিস্তৃতি আরও বিশালাকার। বর্তমান সমাজের এমন কোন ক্ষেত্র পাওয়া যাবে না, যেখানে কম্পিউটার কিংবা কম্পিউটার নেটওয়ার্কের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব নেই। যেহেতু এর বিস্তৃতি ব্যক্তি থেকে দেশ-মহাদেশ পেরিয়ে উপগ্রহ-এই ছাড়িয়ে মহাকাশে বর্তমানে কৃত্রিম উপগ্রাহ ব্যবহার করে এর ব্যবহার আরও সহজ এবং দ্রুত করা সম্ভব হয়েছে।

তথ্য প্রবাহের যুগে নেটওয়ার্কের প্রয়োগক্ষেত্র নিয়ে নিম্নে আলোচনা করা হলঃ
ব্যবসাক্ষেত্রঃ
বর্তমানে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কম্পিউটার আছে। উদাহরণস্বরূপ, কোন প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন, ময়ূन নিয়ন্ত্রণ, অ্যাকাউন্টস ইত্যাদি প্রতিটি সেকশনের জন্য আলাদা আলাদা কম্পিউটার আছে এবং তা একটি অন্যটির থেকে আলাদাভাবে কাজ করে অর্থাৎ কোন নেটওয়ার্কের আওতায় নেই।
কিন্তু এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষ যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে, তারা একটি কম্পিউটারের সাথে অন্যটির সংযোগ করে দেবে, তাহলে তাদের বিভিন্ন তথ্য ও রিসোর্স শেয়ারিং এর কাজটা খুব দ্রুততর হবে এবং এতে যে কোন সেকশন হতে আরেকটি সেকশনের যে কোন তথ্যসংগ্রহ ও সরবরাহ করতে পারবে। এতে সকল সেকশন একটি প্রিন্টারের মাধ্যমে তাদের হ্যান্ড কপি নিতে পারবে। কারণ, কয়েকটি প্রিন্টারের নামে ও গতির তুলনায় একটি নেটওয়ার্ক প্রিন্টার এর গতি, নাম ও মেইনটেন্যান্স খরচ অনেক কম হবে।
নেটওয়ার্কের আওতায় তারা একটি স্ক্যানার কিংবা একটি সিডি রাইটার দ্বারাই তাদের সকলের চাহিদা মিটাতে সক্ষম হবে এবং কর্তৃপক্ষ তাদের মজুদের পরিমাণ, উৎপাদন, অ্যাকাউন্টস সম্পর্কে সবসময় ওয়াকিবহাল থাকতে পারবে ।
বাসাবাড়ি :
কিছুদিন আগেও বিভিন্ন বাসাবাড়িতে অর্থাৎ Home user বা ওয়ার্ড প্রসেসিং এবং গেমস খেলার জন্যই কম্পিউটার বেশি ব্যবহার হতো, সেখানে বর্তমানের চিত্রটা ভিন্ন এবং এর কারণ হলো ইন্টারনেট ব্যবহার। বর্তমানে অধিকাংশ হোম ইউজারই ইন্টারনেট ব্যবহার করে।
ইন্টারনেটে হোম User বা নিম্নলিখিত কাজগুলো করে থাকে, যথা-
(ক) অ্যাকসেস টু রিমোট ইনফরমেশন (Access to remote information)
(খ) পারসন টু পারসন কমিউনিকেশন (Person to person communication)
(গ) ইন্টারয়্যাকটিভ এন্টারটেইনমেন্ট (Interactive entertainment)
(ঘ) ইলেকট্রনিক কমার্স বা ই-কমার্স (Electronic commerce Or E-Commerce)

Access to remote information
এ আর্টস (Arts), ব্যবসা (Business), গভর্নমেন্ট (Government), স্বাস্থ্য (Health), ইতিহাস (History), শঙ্খ (Hobbies), বিজ্ঞান (Science), খেলাধুলা (Sports), ভ্রমণ (Travel)-সহ আরও অনেক কিছুর তথ্য পাওয়া যায়। বর্তমানে সব দৈনিক পত্রিকাই অনলাইনে পড়া যায়।
Person to person communication
এর মাধ্যমে মানুষ পৃথিবীর একপ্রান্তে বসে অন্য প্রান্তের বন্ধু, আত্মীয়স্বজনের সাথে যোগাযোগ রক্ষা ছাড়াও ব্যবসায়িক বিভিন্ন কাজকর্ম অনায়াসে সম্পন্ন করছে।
নিম্নে নেটওয়ার্কের আরও কিছু প্রয়োগক্ষেত্র আলোচনা করা হল ।
(ক) স্বয়ংক্রিয় অফিস ও কারখানা ব্যবস্থাপনা
(খ) ডিস্ট্রিবিউটেড কম্পিউটিং
(গ) অগ্নিনির্বাপণ ও নিরাপত্তা বিভাগ
(ঘ) ইলেকট্রনিক মেইল (E-mail)
(ঙ) ইলেকট্রনিক বুলেটিন বোর্ড
(চ) দূরবর্তী প্রোগ্রাম ও ডাটাবেস অ্যাক্সেস
(ছ) রেলওয়ে বা বিমান রিজার্ভেশন সিস্টেম
(জ) ইলেকট্রনিক মানি (money) ট্রান্সফার
(ঝ) পিসি সংযোগ ও রিসোর্স শেয়ারিং
(ঞ) ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট
(ট) টেলিকনফারেন্সিং ও ভিডিও কনফারেন্সিং
(ঠ) ফাইল স্থানান্তর
(ড) ফ্যাক্স ও টেলেক্স সার্ভিস।

স্বয়ংক্রিয় অফিস ও কারখানা ব্যবস্থাপনাঃ
অফিস বলতে পার প্রক্রিয়াকরণ ও স্থানান্তর, ওয়ার্ড প্রসেসিং ভয়েজ মেইল, ইলেকট্রনিক মেইল, টেলেক্স, ফ্যাক্স, ইলেকট্রনিক কনফারেন্স, উপাত্ত প্রদর্শন, ফাইল শেয়ারিং ইত্যাদি সুবিধাসম্বলিত অফিসকেই বুঝানো হয়ে থাকে। স্বয়ংক্রিয় অফিস ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যবহারকারীর নিকট উপাত্ত ও তথ্য প্রেরণ, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার সম্পদ অংশীদারিত্বকরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবহৃত হয়। তা ছাড়া, আজকাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কন্ঠস্বর সংরক্ষণ ও তা অন্যস্থানে প্রেরণ করা যায়। এটি ভয়েস মেইল নামে পরিচিত।
স্বয়ংক্রিয় অফিসের ন্যায় কারখানায়ও নেটওয়ার্ক এর সাহায্যে বিভিন্ন অংশের উৎপাদন, মজুদ মালের পরিমাণ, উৎপাদন ব্যয় ইত্যাদি কাজের মধে সমন্বয়সাধনের মাধ্যমে সময় কার্যাবলি কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা যায়। তা ছাড়া, কোন স্বয়ংক্রিয় কারখানায় বিছু স্থানে স্থাপিত যন্ত্রপাতিসমূহকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্যও নেটওয়ার্ক ব্যবহৃত হয়।
ইলেকট্রনিক মেইল বা ই-মেইল (Electronic mail)
যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে নেটওয়ার্ক বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার সঙ্গ ব্যবহৃত হচ্ছে। এর সাহায্যে বিশ্বের যে কোন স্থানে ইলেকট্রনিক মেইল প্রেরণ করা যায়। ইলেকট্রনিক মেইল ব্যবস্থা প্রকৃতপক্ষে উপার যোগাযোগ ও ওয়ার্ড প্রসেসিং এর সমন্বয়ে গঠিত।
মেইল ব্যবহার করে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সহজে ফাইল আদান-প্রদ অন্যের নিকট ইলেকট্রনিক বার্তা প্রেরণ করা যায় এবং বার্তা ব্যবস্থাপনা, ছাপানো ও তল্লাশি করা যায়। ই-মেইল প্রেরণের ক্ষেত্রে বার্তাকে প্রথমে কম্পোজ করতে হয় এবং তারপর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রাপকের কম্পিউটারে পাঠাতে হয়। ইন্টারনেটের সাহায্যে বিশ্বব্যাপী ই-মেইল প্রেরণের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রধান শহরগুলোতে স্থাপিত সার্ভারের সাহায্য নেয়া হয়।
সার্ভারগুলো ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে সাধারণ গ্রাহকগণ স্থানীয় কলের মাধ্যমে ঐ সকল সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অন্য সার্ভারে বার্তা প্রেরণ করতে পারে। স্থানীয় সার্ভারগুলো দিনের কোন এক সময়ে ঐ বার্তাকে গন্তব্য সার্ভারে প্রেরণ করে এবং সেখান থেকে স্ব স্ব ঠিকানায় বার্তা চলে যায়। ই-মেইল পদ্ধতিতে অতি দ্রুতগতিতে প্রাপকের নিকট বার্তা প্রেরণ করা যায়। বর্তমানে ই-মেইলের সাহায্যে ডিজিটাইজড ভয়েস স্থিরচিত্র, এমনকি টিভি ও ভিডিও ইমেজ পর্যন্ত প্রেরণ করা সম্ভব হচ্ছে।
ইলেকট্রনিক বুলেটিন বোর্ড (Electronic bulletin board)
সাধারণত বুলেটিন বোর্ডে বিভিন্ন ধরনের বার্তা, কার্টুন, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি সংরক্ষিত থাকে নেটওয়ার্কের সাহায্যে ইলেকট্রনিক বুলেটিন বোর্ড কম্পিউটারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে এ সকল বাতা পাঠ করা যায় এবং অন্যান্যদের ব্যবহারের জন্য বুলেটিন বোর্ড কম্পিউটারে সংরক্ষণ করে রাখা যায়।
দূরবর্তী ডাটাবেসে সংযোগ (Access to remote database)
নেটওয়ার্কের প্রয়োগএর একটি বড় ক্ষেত্র হল দূরবর্তী ডাটাবেসের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা দূরবর্তী ডাটাবেসের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে যে কোন স্থান থেকে অতিসহয়ে উড়োজাহাজ রেলগাড়ি, হোটেল, রেস্টুরেন্ট বা থিয়েটারের অগ্রিম টিকেট তাৎক্ষণিকভাবে রিজার্ভ করা যায়। এজন্য পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ঐ সকল অফিসে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কভুক্ত কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার (Electronic money transfer)
নেটওয়ার্কের সাহায্যে ব্যাংকের অর্থ স্থানান্তর পদ্ধতিকে ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার (Electronic money transfer) বলা হয় ব্যাংক বা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ পদ্ধতি ব্যবহার করে হিসাব নম্বরে অর্থের পরিমাণের সমন্বয়সাধন করা হয়। এ পদ্ধতিতে ছোট আকারের ভিডিও প্রদর্শক ও প্রিন্টারসমেত বিশেষ ধরনে টার্মিনালকে নেটওয়ার্কের সাহায্যে ব্যাংকে প্রদত্ত ক্রেডিট কার্ড ঢুকিয়ে উপাত্ত ও নিরাপত্তা কোডের সাহায্যে লেনদেন সম্পন্ন ক যায়। উন্নত দেশগুলোতে বর্তমানে এ পদ্ধতি খুবই জনপ্রিয়তা ও নিরাপত্তার সাথে ব্যবহৃত হচ্ছে। আমাদের দেশেও কোন কোন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি ইদানীং ব্যাংক প্রদত্ত ক্রেডিট কার্ড এর সাহায্যে ব্যাংক অনুমোদিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করছে। আশা করা যাচ্ছে যে, অদূর ভবিষ্যতে আমাদের দেশে ক্রেডিট কার্ড পদ্ধতি তথা ইলেকট্রনিক উপায়ে অর্থ স্থানান্তর প্র উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।
ইন্টারনেটে বিনোদন বা Entertainment
একটি বিশাল অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। কারণ, বিনোদন-নির্ভর সবকিছু বর্তমানে ইন্টারনেটে সহজলভ্য।
অন্যদিকে মানুষ তাদের বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের ইনভেস্টমেন্ট ই-কমার্সের মাধ্যমে পরিচালনা করছে।
চিকিৎসাক্ষেত্রে টেলিমেডিসিনের প্রসারতা :
টেলিফোন বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যে চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায় বা গ্রহণ করা হয়, তাকে টেলিমেডিসিন বলে। এই সেবা চিকিৎসক ও রোগী দু’জনের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। সরাসরি চিকিৎসকের কাছে না গিয়েই চিকিৎসা সেবা ঘরে বসেই পাওয়া যায়।

ই-গভর্ন্যান্স :
সুশাসনের জন্য দরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা। ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা প্রচলনের ফলে সরকারি ব্যবস্থাসমূহকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার পাশাখাশি সরকারি ব্যবস্থাসমূহের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব এর ফলে নাগরিকের হয়রানি ও বিড়ম্বনার অবসান ঘটে ও দেশে সুশাসনের পথ নিষ্কণ্টক হয়। শাখা ব্যবস্থায় ও প্রক্রিয়ায় ডি নেটওয়ার্কিং পদ্ধতির প্রয়োগই হচ্ছে ই-গভর্ন্যান্স ।
ওয়াইফাইঃ
Wireless Fidelity শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে WI-FIL, যা LAN এর ওয়্যারলেস ব্যবস্থার সাহায্যে পোর্টেবল ডিভাইসকে সহজে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত করা যায়। এটি একটি তারবিহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা এ প্রযুক্তির জন্য প্রয়ে বিশেষ ধরনের অ্যান্টেনা।
রেলওয়ে ই-টিকেটিংঃ
মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকেট কাটা যায়। আর অনলাইনেও টিকেট কাটার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে নিজেদের সুবিধামতো সময়ে রেলস্টেশনে না গিয়েও নির্দিষ্ট গন্তব্যের টিকেট কাটা সম্ভব হচ্ছে।
ই-ব্যাংকিংঃ
ইন্টারনেটের মাধ্যমে যে ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়, তাকে ই-ব্যাংকিং বলে। এক্ষেত্রে ইন্টারনেটে যুক্ত হয়ে একজন গ্রাহক ব্যাংকের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারে। অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করার জন্য ব্যাংক গ্রাহককে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে।
৩ thoughts on “কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ব্যবহারক্ষেত্র (Application of computer network)”