আজকে আমরা হাব, রিপিটার ও সুইচ নেটওয়ার্কের কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা করবো । যা কানেকটিভিটি ডিভাইস এর অন্তর্গত।

Table of Contents
হাব, রিপিটার ও সুইচ নেটওয়ার্কের কার্যক্রম (Functions of hubs, repeaters and switch network)
হাব (Hub)-এর কাজ
(ক) বাস টপোলজি ছাড়া অন্য সব টপোলজিতেই এমন একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা থাকে, যেখানে বিভিন্ন ওয়ার্কস্টেশন থেকে আসা ক্যাবলসমূহ যুক্ত হতে পারে। যদি এ ক্যাবলসমূহের প্রান্তকে সোল্ডারিং করে যুক্ত করা হয়, তবে নেটওয়ার্কিং কাজ করবে না। তাই এ কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইসটি হল হাব (Hub)।
(খ) হাব সিগন্যাল গ্রহণ করে এবং সিগন্যালের কোন প্রকার পরিবর্তন/পরিবর্ধন ছাড়া তা অন্য একটি কম্পিউটারে পাঠিয়ে দেয়।
(গ) সক্রিয় হাব প্রথমে সিগন্যাল গ্রহণ করে এবং একে পুনরুৎপাদন বা অ্যামপ্লিফিকেশন দ্বারা শক্তিশালী করে তা অন্য কম্পিউটারে পাঠায়।
(ঘ) ইন্টেলিজেন্ট হাব যারা নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কাজ করা হয়।
(ঙ) হাবকে আমরা একাধিক নোড বিশিষ্ট একটি রিপিটার হিসাবেও চিন্তা করতে পারি –
(চ) হাব, ও এস.আই রেফারেন্স মডেলের ফিজিক্যাল লেয়ারে কাজ করে।

রিপিটার-এর কাজ
(ক) সিগন্যাল বিভিন্ন মিডিয়ায় ট্রান্সমিশনের সময় অ্যাটেনুয়েশনের কারণে সেই সিগন্যাল ক্রমশ দুর্বল হতে থাকে। নির্দিষ্ট দূরত্ব অতিক্রম করার পর এটির অস্তিত্বই লোপ পায়। অস্তিত্ব লোপ পাওয়ার আগেই সিগন্যালকে অ্যামপ্লিফাই করার প্রয়োজন পড়ে। এ রকম সিগন্যালকে অ্যামপ্লিফাই করার জন্য ব্যবহৃত হয় রিপিটার।
(খ) রিপিটারের কাজ হল ইনকামিং সিগন্যালকে অ্যামপ্লিফাই করা অর্থাৎ এর শক্তিকে বাড়িয়ে দেয়া, যাতে সিগন্যাল আরো বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে।
(গ) ইনকামিং সিগন্যালে যদি কোন প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত সিগন্যাল বা শব্দ (Noise) থাকে, তাহলে সে শব্দকে ফিল্টারিং কর বা বাদ দিয়ে মূল সিগন্যালের হুবহু ডুপ্লিকেট একটি সিগন্যাল তৈরি করে। তারপর এ সিগন্যালকে পুনঃগঠনপূর (Reconstruct) নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পুনরায় ট্রান্সমিট করে
(ঘ) একটি রিপিটার দুই বা ততোধিক নেটওয়ার্ক সেগমেন্টকে সংযুক্ত করে নেটওয়ার্কের আওতাধীন কম্পিউটারসমূহের ছাই আদান-প্রদানের অতিক্রমযোগ্য দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়।
(ঙ) রিপিটার ব্যবহার করে সংযুক্ত কম্পিউটারের সংখ্যা বাড়ানো যায়।
(চ) রিপিটার দুটো ভিন্ন ধরনের নেটওয়ার্ক সেগমেন্টকে সংযুক্ত করতে পারে।

সুইচ (Switch)
নেটওয়ার্ক সুইচ হলো বহু পোর্টবিশিষ্ট কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ডিভাইস যা তথ্যকে আদান-প্রদান করতে সাহায্য করে। হটা থেকে সুইচ দেখতে হাবের মতো মনে হলেও এটি ভিন্ন পদ্ধতিতে নেটওয়ার্কের ক্লায়েন্টের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান করে। দুর সিগন্যাল গ্রহণ করার পর তা সরাসরি টার্গেট কম্পিউটার বা কম্পিউটারসমূহে প্রেরণ করে।

সুইচের উল্লেখযোগ্য সুবিধাসমূহ হলো-
- সুইচে ডেটা আদান-প্রদানে বাধার সম্ভাবনা কম।
- ভার্চুয়াল ল্যান ব্যবহার করে ব্রডকাস্ট নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
সুবিধার পাশাপাশি সুইচ ব্যবহারের অসুবিধাও রয়েছে।
কয়েকটি অসুবিধা হলো-
- সুইচের মূল্য তুলনামূলকভাবে হাবের চেয়ে বেশি।
- এর কনফিগারেশন জটিল
- ডেটা ফিল্টারিং সম্ভব নয়
৩ thoughts on “হাব, রিপিটার ও সুইচ নেটওয়ার্কের কার্যক্রম (Functions of hubs, repeaters and switch network)”