কম্পিউটার নেটওয়ার্কের উপাদান (Elements of computer network)

আজকের আলোচনার বিষয়ঃ কম্পিউটার নেটওয়ার্কের উপাদান সম্পর্কে । কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মৌলিক ধারণার অন্তর্গত।

 

কম্পিউটার নেটওয়ার্কের উপাদান

 

কম্পিউটার নেটওয়ার্কের উপাদান (Elements of computer network)

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কম্পিউটার ও নানাপ্রকার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সমন্বয়ে গড়ে উঠে। কোন নেটওয়ার্কে কেন ধরনের উপাদান প্রয়োজন তা সম্পূর্ণ ঐ ধরনের নেটওয়ার্কের উপর নির্ভর করে।

(ক) নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড (NIC)ঃ

নিকের (NIC Network Interface Card) পূর্ণ অর্থ হল নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড। এটি অ্যাডাপ্টার নামে সর্বাধিক পরিচিত ইন্টারফেস কার্ড হচ্ছে এমন একটি হার্ডওয়্যার, যা একটি পিসি বা কম্পিউটারে স্থাপন বা ইনস্টল করা হয়। অন্য কম্পিউটারের সাথে একে সংযুক্ত করার কাজে ব্যবহার করা হয়। এর অবস্থান হচ্ছে মাদারবোর্ডে অবস্থিত ডাটাবাস এবং নেটওয়ার্ক মিডিয়া ক্যাবলের মধ্যে নেটওয়ার্ক অ্যাডাপ্টার কার্ড মূলত ডিজিটাল আকারে ডাটা এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে লেনদেন করে থাকে। নিক ওএসআই (OSI) রেফারেন্স মডেলের ডাটা লিংক শেয়ারের একটি ডিভাইস। নেটওয়ার্ক কমিউনিকেশনের সমস্ত কাজ নেটওয়ার্ক অ্যাডাপ্টার করে থাকে। যেমন, ইথারনেট নেটওয়ার্ক কার্ড ডাটা ট্রান্সমিশনের পূর্বে দেখে নেয় মিডিয়া নীরব (Silence) আছে কি না। এটি বিনা ঠিকানাযুক্ত ডাটাকে আলাদা করে এবং সংঘর্ষ এড়াতে চেষ্টা করে।

 

কম্পিউটার নেটওয়ার্কের উপাদান

 

(খ) রিপিটার (Repeater)ঃ

নেটওয়ার্কে ট্রান্সমিশন মিডিয়া বা ক্যাবলের মধ্য দিয়ে যখন কোন ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ বা সিগন্যাল চলতে থাকে তখন মিডিয়া সিগন্যালকে দুর্বল করে ফেলে। সিগন্যাল দুর্বল হয়ে পড়ার এ বিষয়টিকে বলা হয় অ্যাটেনুয়েশন (Antenation)। উল্লেখ্য, অ্যাটেনুয়েশনই কিন্তু মিডিয়ার মধ্য দিয়ে চলাচলকারী সিগন্যালের অতিক্রমযোগ্য দূরত্বের পরিমাণ সীমিত করে দেয়। অ্যাটেনুয়েশন সংক্রান্ত বাধা অতিক্রম করে সিগন্যালকে আরও অধিক দূরত্বে নিয়ে যাবার জন্য রিপিটার ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ দুর্বল সিগন্যালকে শক্তিশালী সিগন্যালে রূপান্তরের জন্য রিপিটার ব্যবহার করা হয়।

(গ) ব্রিজ (Bridge) :

নন-ব্রাউট্যাবল প্রোটোকলের ক্ষেত্রে সিগন্যালকে এক সেগমেন্ট থেকে অন্য সেগমেন্টে পাঠাতে ব্রিজ ব্যবহৃত হয়। ব্রিজ সাধারণত ছোট আকারের নেটওয়ার্কের জন্য খুবই কার্যকরী একটি কানেক্টিভিটি ডিভাইস। নন- রাউটা প্রোটোকল এক নেটওয়ার্ক থেকে অন্য নেটওয়ার্ক সেগমেন্টে ডাটা প্রেরণ করতে পারে না।

(ঘ) রাউটার (Router) :

জিক্যালি পৃথক এমন দুই বা ততোধিক নেটওয়ার্ককে সংযুক্ত করতে রাউটার বিশেষ অ্যাড্রেস পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে রাউটার সংযোগ প্রদানের কাজটি সম্পন্ন করে থাকে বড় বড় নেটওয়ার্ককে ছোট ছোট লজিক্যাল নেটওয়ার্ক সেগমেন্টে বিভক্ত করার মাধ্যমে। এ ধরনের প্রতিটি ছোট নেটওয়ার্ক সেগমেন্টকে বলা হয় সাবনেটওয়ার্ক (Subnetwork) বা সাবলেট (Subnet) রাউটার আবার প্রতিটি সাবনেটের বিপরীতে একটি করে অ্যাড্রেস বরাদ্দ দিয়ে থাকে।

 

কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ধারণা

 

(ঙ) ব্রাউটার (Brouter) :

ব্রাউটার হচ্ছে রাউটার ও ব্রিজের সমষ্টি। অর্থাৎ ব্রাউটার = রাউটার + ব্রিজ ব্রাউটার ব্যবহারে প্রধান সুবিধা হচ্ছে এর মাধ্যমে যে কোন প্রোটোকল রাউটিং করা যায়। রাউটিং হচ্ছে ডাটা প্যাকেট এক নেটওয়ার্ক সেগমেন্ট থেকে। অন্য নেটওয়ার্ক সেগমেন্টে প্রেরণের একটি প্রক্রিয়া উদাহরণস্বরূপ, রাউট্যাবল প্রোটোকল আইপি (IP) ব্রাউটারের রাউটার ব্যবহার করবে। অন্যদিকে, নন-বাউট্যাবল প্রোটোকল নেটবুই (NetBEUI) ব্রিজ অংশ ব্যবহার করে। এ ধরনের ইন্টারনেট এর উভয় প্রোটোকল ব্যবহারের সুবিধা দেয়। ব্রাউটার মূলত একটি সফট্ওয়্যার, যা রাউটারের উপর কাজ করে।

(চ) পেটম্বরে (Gateway)ঃ

রাউটার সফলভাবে শুধু ঐ সমস্ত নেটওয়ার্ককে সংযুক্ত করতে পারে, যাদের প্রোটোকলগুলো একই পদ্ধতিতে কাজ করে। যদি নেটওয়ার্কসমূহের প্রোটোকল সম্পূর্ণ ভিন্ন রকমের হয়, তাহলে রাউটারের চেয়েও অধিক শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান ডিভাইসের প্রয়োজন হয়। আর এই ডিভাইসটি হচ্ছে গেটওয়ে ।

(ছ) হাব (Hub) ঃ

হাব বা সুইচ হচ্ছে নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা স্টার টপোলজিতে একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইন হিসেবে কাজ করে। বর্তমানে হাবের পরিবর্তে নেটওয়ার্কে সুইচ ব্যবহৃত হচ্ছে। সুইচের সাথে হাবের প্রধান পার্থক্য হলো সুইচ সিগন্যাল রিসিভ করার পর তা সরাসরি টার্গেট পোর্ট বা পোর্টসমূহে প্রেরণ করে থাকে। কিন্তু হার রিসিভ করা সিগন্যাল সকল পোর্ট্রেই পাঠায়। এক্ষেত্রে টার্গেট পোর্ট কেবলমাত্র সিগন্যাল গ্রহণ করে এবং অন্যান্য পোর্ট তা অগ্রাহ্য করে।

 

(জ) ট্রান্সমিশন মাধ্যম (Transmission media)ঃ

যার মাধ্যমে একটি নেটওয়ার্কের কম্পিউটারগুলো একে অপরের সাথে ফিজিক্যালি (Physically) সংযুক্ত হয়, তাকে ট্রান্সমিশন মাধ্যম বলা হয়। ক্যাবল (Cable) বা তার, রেডিও ওয়েভ, মাইক্রোওয়েভ ইত্যাদি ট্রান্সমিশন মাধ্যমের উদাহরণ।

(ঝ) ক্যাবল কানেক্টর (Cable connectors)ঃ

কানেক্টরের অবস্থান হচ্ছে ক্যাবল ও নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ডের (NIC-Network Interface Card) মধ্যে অর্থাৎ এটি নেটওয়ার্কের ক্যাবল এবং ইন্টারফেস কার্ডকে সংযুক্ত করে থাকে।

(ঞ) নেটওয়ার্ক সফটওয়্যার (Network software)ঃ

সাধারণত অপারেটিং সিস্টেমই নেটওয়ার্ক সফটওয়্যার হিসেবে কাজ করে। ডেস্কটপ অপারেটিং সিস্টেম যেমন উইন্ডোজ 95/98/2000/ এক্সপি নেটওয়ার্ক সফটওয়্যার হিসেবে কাজ করতে সক্ষম এগুলো পৃথক কোন সফটওয়্যার ছাড়াই অন্যান্য পিসি’র সাথে তথ্যাদি আদান-প্রদান করতে পারে। এ ধরনের সফটওয়্যারকে বলা হয় নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম বা নস (NOS Network Operating System)।

২ thoughts on “কম্পিউটার নেটওয়ার্কের উপাদান (Elements of computer network)”

Leave a Comment