রিপোর্ট, ডিসপ্লে স্ক্রিন এবং ডাটাবেস এর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ

রিপোর্ট, ডিসপ্লে স্ক্রিন এবং ডাটাবেস এর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ : যথাযথভাবে আউটপুট ডিভাইস সিলেক্ট করার পরে, সঠিকভাবে আউটপুট ফরম্যাট ডিজাইন করতে হবে। যে-সকল ডিভাইসের মাধ্যমে আউটপুট প্রদর্শন করা যায়, তাদের আউটপুট ডিসপ্লে বলে।

 

ডিসপ্লে স্ক্রিন এবং ডাটাবেস এর কার্যক্রম

 

রিপোর্ট, ডিসপ্লে স্ক্রিন এবং ডাটাবেস এর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ

কতকগুলো ফাইল একত্রিত হয়ে তৈরি হয় ডাটাবেস। একটি ডাটাবেসের মধ্যে থাকতে পারে টেবিল, ফর্ম এবং রিপোর্ট।

উদ্দেশ্য (Objective) :

(ক) রিপোর্ট এর কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত হওয়া।
(খ) ডিসপ্লে স্ক্রিন এর কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত হওয়া।
(গ) ডাটাবেসের কার্যপরিধি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
(ঘ) রিপোর্ট, ডিসপ্লে স্ক্রিন এবং ডাটাবেসের ব্যবহার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা।

তত্ত্ব (Theory) :

নিম্নে রিপোর্ট, ডিসপ্লে স্ক্রিন এবং ডাটাবেস সম্পর্কে আলাদা আলাদাভাবে আলোকপাত করা হয়েছে।

 

ডিসপ্লে স্ক্রিন এবং ডাটাবেস এর কার্যক্রম

 

রিপোর্ট (Report) :

একটি আউটপুট রিপোর্টের স্ট্রাকচার কেমন হবে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো-
(ক) রিপোর্টের প্রথম পাতায় একটি রিপোর্ট হেডিং (Report heading) থাকবে।
(খ) রিপোর্টের প্রত্যেক পাতার টপ (top)-এ একটি পেজ হেডিং (Page heading) এবং কিছু সাব-হেডিং (sub-heading) থাকবে ।
(গ) একই বৈশিষ্ট্যের কিছু রেকর্ডকে একসাথে একটি গ্রুপ তৈরি করতে হবে, যাকে কন্ট্রোল গ্রুপ (Control group) বলে। গ্রুপের মধ্যে যদি কোনো হেডিং (heading) দেয়া থাকে, তাহলে তাকে কন্ট্রোল হেডিং (Control heading) বলে।

(ক) আউটপুট রিপোর্টের রিপোর্ট হেডিং (Report heading)-টি হলো—
RAJSHAHI POLYTECHNIC INSTITUTE ACADEMIC ROLL LIST

(ঙ) কন্ট্রোল গ্রুপ (Control group) এর নিচে ইনফরমেশনের যে অ্যাবস্ট্রাক্ট (abstract) থাকে, তাকে কন্ট্রোল হেডিং (Control heading) বলে। যেমন-

TOTAL NO. OF STUDENTS IN COMPUTER TECHNOLOGY = 80 TOTAL NO. OF STUDENTS IN ELECTRONICS TECHNOLOGY = 40

(চ) প্রত্যেক পেজ (page)-এর শেষে যে ইনফরমেশন (information) লিখা হয়, তাকে পেজ ফুটিং (page footing) বলা হয়। আবার অন্য আরেকটি কন্ট্রোল ফুটিং (Control footing) রয়েছে, যাকে ফাইনাল কন্ট্রোল ফুটিং (Final control footing) বলা হয়। যেমন- TOTAL NO. OF STUDENTS IN SEM. 7/2010-2011 = 182

(ছ) রিপোর্টের একেবারে শেষে যে ইনফরমেশন প্রিন্ট (print) করা হয়, তাকে রিপোর্ট ফুটিং (Report footing) বলা হয়।
ENDS OF RPI RAJSHAHI ROLL LIST FOR SEM. 8/2010-2011 উপরের output report এর structure-এর পুরো আলোচনাকে কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করা যায়, যাকে আবার report group-ও বলা হয়।

আউটপুট ডিসপ্লেগুলো হলো CRT মনিটর, ফ্ল্যাট প্যানেল ডিসপ্লে, ভিডিও কার্ড এবং উচ্চ ডেফিনিশন টেলিভিশন। এ ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন প্রকারের আউটপুট ডিভাইস যেমন- ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার, নন-ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার, প্লটার এবং ফরম্যাট প্রিন্টার।

 

ডিসপ্লে স্ক্রিন এবং ডাটাবেস এর কার্যক্রম

 

চার প্রকারের আউটপুট রয়েছে, যথা- (ক) টেক্স খ) গ্রাফিকস (গ) অডিও (ঘ) ভিডিও ।

(ক) টেক্স :

টেক্স গঠিত হয় ক্যারেক্টারের সমন্বয়ে, যা শব্দ, বাক্য বা অনুচ্ছেদ তৈরি করে।

(খ) গ্রাফিক্স :

গ্রাফিক্স হচ্ছে নন-টেক্স ইনফরমেশন, যা ডিজিটালভাবে উপস্থাপিত হয়।

(গ) অডিও :

অডিও হচ্ছে মিউজিক, Speech অথবা যে-কোনো প্রকার সাউন্ড।

(ঘ) ভিডিও :

ভিডিও কনসিস্ট হয় ইমেজের সমন্বয়ে ।

 

ডাটাবেস ফাইল (Database file) :

ডাটাবেস হচ্ছে মূলত তথ্যের ঘাঁটি, যা কম্পিউটার সিস্টেমে সংরক্ষণ করা হয় এবং যাকে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রসেস করা যায় কিংবা পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করা যায়। কোনো বিষয়ের পরস্পর সম্পর্কযুক্ত অসংখ্য ডাটার সুসংবদ্ধ ও সুসজ্জিত সমাহারকে ডাটাবেস বলে। এখান থেকে নির্দিষ্ট ও প্রয়োজনীয় ডাটাকে দ্রুত, সহজ ও কার্যকরীভাবে শনাক্ত করা যায়। সাধারণত পরস্পর সম্পর্কযুক্ত অনেকগুলো ফাইল বা টেবিল নিয়ে ডাটাবেস গঠিত হয়। একটি ডাটাবেসের মধ্যে থাকতে পারে একাধিক টেবিল (Table), ফর্ম (Form), রিপোর্ট (Report) ইত্যাদি ।

(ক) এটি প্রকৃতপক্ষে তথ্যের ঘাঁটি।

(খ) তথ্য বা ইনফরমেশন (Information) সংগ্রহ করা ডাটাবেসের প্রধান উদ্দেশ্য।

(গ) একটি ডাটাবেসের মধ্যে এক বা একাধিক টেবিল, ফরম, রিপোর্ট ইত্যাদি থাকতে পারে।

(ঘ) ডাটাবেসের মধ্যে দ্রুত প্রবেশ করে ডাটা নিয়ে বিভিন্ন কাজ করা যায় ।

(ঙ) ইউজারের দ্রুত ডাটার মধ্যে প্রবেশ, কার্যনির্বাহ, দক্ষতার সাথে ডাটা নিয়ে কার্য পরিচালনা করাই ডাটাবেসের মূল উদ্দেশ্য।

 

ডিসপ্লে স্ক্রিন এবং ডাটাবেস এর কার্যক্রম

 

ডাটাবেসের মূল উদ্দেশ্যগুলো দেওয়া হলো:

(ক) রিডানডেন্সি নিয়ন্ত্রণ (Controlled redundancy) :

ডাটাবেসে একই ধরনের ডাটা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করলে তাকে ডাটা রিডানডেন্সি বলা হয়। রিডানডেন্ট ডাটা অথবা জায়গা দখল করে, আর একারণেই এটা অপচয়মূলক। নতুন সংস্করণমূলক ডাটা যদি ভিন্ন ফরম্যাটে থাকে তবে তা আপডেটিং করা অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার। তা ছাড়া একই তথ্য বিভিন্ন ফাইলের বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষণের ফলে
সময় ও স্থান উভয়ের অপচয় ঘটে। ফলে ডাটা প্রসেসিং, মডিফিকেশন ইত্যাদি ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয়। ডাটাবেস ডিজাইনের ফলে কেবলমাত্র একটি ডাটা স্টোর হবে। ফলে ডাটার ডুপ্লিকেট হওয়ার সম্ভাবনা নাই এবং সিস্টেমের পারফরমেন্সও বৃদ্ধি পাবে। বেশিরভাগ ডাটাবেস প্যাকেজের ফিচারসমূহ সহজেই শেখা যায় এবং তা ব্যবহারেও সহজ।

(খ) ডাটার স্বনির্ভরতা (Data independency) :

ডাটাবেসের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হল হার্ডওয়্যারের পরিবর্তনজনিত কারণ বা অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামের পরিবর্তনজনিত কারণে বা নতুন ডাটা সংযোজন বা বিয়োজন বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নতুন করে প্রোগ্রাম
লিখতে হয় না। অর্থাৎ কোনো কিছুর উপর এটি নির্ভরশীল নয়। ফলে ডাটাবেসের দক্ষতা (Performance) বৃদ্ধি পায়।

(গ) কম খরচে অধিক তথ্য (More information at low cost) :

কম খরচে ডাটা স্টোর করা, ডাটার মেইনটেন্যান্স, আপডেট বা ১ ডিফিকেশন, ডাটার ব্যবহার ইত্যাদি ক্ষেত্রে খরচ কনভেনশনাল ফাইল প্রসেসিং এর তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম। যদিও হার্ডওয়্যারের দাম দিন দিন কমতির দিকে তথাপিও সফটওয়্যার এবং প্রোগ্রামিং এর খরচ প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ডাটাবেস ডিজাইনের
কারণে অনেক কম খরচে অধিক পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ করা যায়।

(ঘ) সঠিকতা এবং অবিচ্ছেদ্যতা (Accuracy and integrity) :

ডাটার ইন্টিগ্রিটি বা অবিচ্ছেদ্যতা ডাটাবেসের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। ডাটাবেসে সংরক্ষিত ডাটার জন্য কিছু নিয়ম বা শর্ত বেঁধে দেয়া যায়, যাকে কনসিসটেন্সি কনস্ট্যান্ট বলে। যেমন—কোনো কাস্টমার তার অ্যাকাউন্ট হতে দিনে ২ বারের বেশি টাকা উত্তোলন করতে পারবে না, একজন দিনমজুর সপ্তাহে ৬০ ঘণ্টার অধিক
ওভার টাইম কাজ করতে পারবে না ইত্যাদি। যদি এজাতীয় শর্তকে ভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয় তবে তা প্রবলভাবে বাধা দেওয়া হবে, আর এটিই হলো ডাটার অবিচ্ছেদ্যতা। নির্ভুল ডাটার গুণগত মান নিশ্চিত করাও ডাটাবেসের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ।

 

google news logo

 

(ঙ) ডাটার পুনরুদ্ধারকরণ (Recovery from failure) :

বহু ব্যবহারকারী যখন ডাটাবেস ব্যবহার করে তখন যে-কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত তারণে ডাটার ক্ষতি হতে পারে। সাধারণত এটি ইচ্ছাকৃত ক্ষতি বা অনিচ্ছাকৃত ক্ষতি যা Intentional বা Malicious লস এবং Accidental লস নামে অভিহিত। ক্ষতি যেভাবেই হোক না কেন কোনোপ্রকার ডাটা লস ছাড়াই তা পুনরুদ্ধার করা ডাটাবেস ম্যানেজমেন্ট এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সিস্টেম যে-কোনো কারণে নষ্ট হওয়ার পূর্বে ডাটাকে সংরক্ষণ করা ডাটাবেস এর প্রধান উদ্দেশ্য।

(চ) ডাটার গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ (Privacy and security) :

ডাটার গোপনীয়তা বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা বিধান করা ডাটাবেসের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। নিরাপত্তা দুর্বল হলে যে-কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবহারকারী সহজেই ডাটাতে প্রবেশ ক ডাটার যে-কোনো ক্ষতিসাধন করতে পারে। তথ্য চুরি, তথ্যের পরিবর্তন, পরিবর্ধনসহ যাবতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। এ ডাটাবেস ম্যানেজমেন্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে পালন করা হয়।

(ছ) পারফরমেন্স (Performance) :

ডাটা ব্যবহারের ক্ষেত্রে রেসপন্স টাইম দ্বারা কোনো সিস্টেমের পারফরমেন্স নির্ধারিত হয়। অবশ্য রেসপন্স টাইম নির্ভর করে ব্যবহারকারী কোন ধরনের ডাটা ব্যবহার করছে তার উপর। যেমন- কোনো ডাটাবেস ব্যবহারকারী যদি বিমানের আসন সংখ্যা ফাঁকা আছে কি না জানতে চায় সেক্ষেত্রে মুহুর্তের মধ্যেই তা জানতে পারবে।

অর্থাৎ এক্ষেত্রে রেসপন্স টাইম (তৎপর সময়কাল) হবে খুবই অল্প। আবার কোনো ডাটাবেস ব্যবহারকারী যদি এক মাসের মোট বিক্রয় (Grand Total) এবং সাবটোটাল (Subtotal) জানতে চায় সেক্ষেত্রে হয়ত রেসপন্স টাইম কিছুটা ধীরগতিসম্পন্ন (যেমন- কয়েক মিলি সেকেন্ড) হতে পারে।

সাবধানতা (Precaution) :

(ক) সাবধানে পাওয়ার সরবরাহ করতে হবে।
(খ) যথাযথভাবে উক্ত বিষয়ের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

উপসংহার (Conclusion):

এই পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আমরা রিপোর্ট, ডিসপ্লে স্ক্রিন ও ডাটাবেসের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে সক্ষম হই।

 

সূত্র:

  • রিপোর্ট, ডিসপ্লে স্ক্রিন এবং ডাটাবেস এর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ । সিস্টেম অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ডিজাইন।

আরও দেখুনঃ

২ thoughts on “রিপোর্ট, ডিসপ্লে স্ক্রিন এবং ডাটাবেস এর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ”

Leave a Comment