ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কপিরাইট ঝুঁকিমুক্ত মিউজিক ব্যবহারের পূর্ণ গাইড

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সঙ্গীতভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি ও প্রকাশ আজ যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি জটিল হয়েছে কপিরাইট–সংক্রান্ত ঝুঁকি। Facebook ও YouTube–এ প্রতিদিন অসংখ্য মিউজিক পেজ ও চ্যানেল কনটেন্ট আইডি ক্লেইম, মনিটাইজেশন ব্লক কিংবা স্ট্রাইকের মুখে পড়ছে—মূলত কপিরাইট সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণার অভাবে। বিশেষ করে ভারতীয় ও উপমহাদেশীয় সঙ্গীত নিয়ে কাজ করতে গেলে “কোন গানটি কপিরাইটেড, কোনটি পাবলিক ডোমেইন”—এই বিভ্রান্তি সবচেয়ে বড় সমস্যায় পরিণত হয়।

এই বাস্তবতা থেকেই তৈরি করা হয়েছে এই কনটেন্ট সিলেকশন ম্যানুয়াল। এর উদ্দেশ্য একটাই—ওয়ার্কার, সুপারভাইজার ও অ্যাডমিনদের জন্য একটি পরিষ্কার, বাস্তবমুখী ও ঝুঁকিমুক্ত নির্দেশিকা দেওয়া, যাতে তারা সহজেই বুঝতে পারে কোন গান নিরাপদ, কোনটি শর্তসাপেক্ষে ব্যবহারযোগ্য, আর কোন কনটেন্ট একেবারেই নিষিদ্ধ। এখানে কপিরাইটের মৌলিক ধারণা থেকে শুরু করে পাবলিক ডোমেইন যাচাই, প্ল্যাটফর্মভিত্তিক ঝুঁকি, স্ট্রাইক মোকাবেলার SOP এবং বাস্তব উদাহরণসহ ধাপে ধাপে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এই ম্যানুয়াল অনুসরণ করলে শুধু কনটেন্ট নিরাপদ থাকবে না—বরং আপনার পেজ, চ্যানেল ও দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল ব্যবসার ভিত্তিও আরও শক্ত ও টেকসই হবে।

 

Table of Contents

প্রথমে কারিগরি বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝুন

কেন এই গাইড দরকার?

আজকাল Facebook ও YouTube–এ গানভিত্তিক কনটেন্ট বানানো খুব সহজ। কিন্তু সমস্যা হলো—কপিরাইট
অনেকেই না জেনে এমন গান ব্যবহার করেন, যেগুলোর উপর আইনগত অধিকার অন্য কারও আছে। এর ফলাফল হতে পারে—

  • ভিডিওতে Content ID Claim
  • আয় বন্ধ
  • ভিডিও মিউট বা ডিলিট
  • বারবার হলে Page/Channel Delete

এই সমস্যার মূল কারণ একটাই— আমরা বুঝতে পারি না কোন গান Safe, কোনটি Risky

এই গাইডের লক্ষ্য হলো—

  • কোন গান নিরাপদ
  • কোন গান শর্তসাপেক্ষ
  • কোন গান একেবারেই নিষিদ্ধ

এসব সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দেওয়া, যেন ওয়ার্কার, সুপারভাইজার ও অ্যাডমিন—সবাই একই নিয়মে কাজ করতে পারে।

 

গানের কপিরাইট আসলে কী?

একটি গানের উপর সাধারণত চার ধরনের কপিরাইট থাকে:

  1. লিরিক্স (গানের কথা)
  2. সুর বা কম্পোজিশন
  3. অডিও রেকর্ডিং
  4. ভিডিও/ভিজ্যুয়াল

এখানে সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো রেকর্ডিংয়ের কপিরাইট
ধরা যাক—
রবীন্দ্রনাথের গান আজ Public Domain।
কিন্তু লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠে রেকর্ড করা ভার্সন কপিরাইটেড।

মানে— গান ফ্রি হলেও, অডিও ফ্রি নাও হতে পারে।

 

গানের কপিরাইট: কার অধিকার কতদিন থাকে?

একটি গানের মধ্যে সাধারণত ৪টি আলাদা কপিরাইট স্তর থাকে—

স্তর কাকে বলে কার হাতে থাকে মেয়াদ (বাংলাদেশ ও ভারত)
Lyrics (গীত) গীতিকার মৃত্যুর পর ৬০ বছর
Composition / Tune (সুর) সুরকার মৃত্যুর পর ৬০ বছর
Sound Recording (রেকর্ডিং) লেবেল / প্রযোজক প্রকাশের পর ৬০ বছর
Performance Rights (গায়ক/বাদ্যযন্ত্র) শিল্পী প্রকাশের পর ৬০ বছর

 

১. গীতিকার (Lyrics)

গীতিকার অর্থ গানের কথা যিনি লিখেছেন। তার অধিকার থাকে = লেখকের মৃত্যু + ৬০ বছর

উদাহরণ:
রবীন্দ্রনাথ (মৃত্যু ১৯৪১) → কপিরাইট শেষ: ২০০১
তাই রবীন্দ্রসঙ্গীতের কথা এখন Public Domain

২. সুরকার (Composer)

সুরকার তিনি যিনি গানের সুর তৈরি করেছেন। তার অধিকার থাকে = সুরকারের মৃত্যু + ৬০ বছর

যদি গীতিকার ও সুরকার আলাদা হন, তবে দুজনেরই মৃত্যু + ৬০ বছর পার না হলে গান Public Domain হয় না।

৩. রেকর্ডিং (Sound Recording) – সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

যে স্টুডিওতে গান রেকর্ড হয়েছে — তার কপিরাইট থাকে প্রকাশের পর ৬০ বছর

কার কাছে থাকে? সাধারণত
মিউজিক লেবেল T-Series, Saregama, Sony, Zee
প্রযোজক সিনেমার প্রযোজনা সংস্থা

📌 তাই:
গান পুরনো হলেও রেকর্ডিং প্রায় সবসময় কপিরাইটেড থাকে।

৪. গায়ক ও বাদ্যশিল্পীর অধিকার (Performance Rights)

যিনি গান গেয়েছেন বা বাজিয়েছেন—

তার অধিকার থাকে রেকর্ডিং প্রকাশের পর ৬০ বছর

তবে এই অধিকার সাধারণত লেবেলের সাথে চুক্তির মাধ্যমে হস্তান্তর হয়ে যায়

সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা

ভুল ধারণা বাস্তবতা
“পুরনো গান মানেই ফ্রি” ❌ ভুল
“গীতিকার মারা গেছেন, তাই গান ফ্রি” ❌ রেকর্ডিং এখনো কপিরাইটেড
“ক্রেডিট দিলেই চলবে” ❌ আইনে কোনো মূল্য নেই

 

সহজ করে বললে

একটি গান তখনই সম্পূর্ণ নিরাপদ হয় যখন:

  • গীতিকার মৃত্যু + ৬০ বছর পার
  • সুরকার মৃত্যু + ৬০ বছর পার
  • আপনি নিজে নতুন রেকর্ডিং করেন

তিনটি শর্ত একসাথে পূরণ না হলে গান ঝুঁকিপূর্ণ

 

Public Domain কী?

যেসব গানের উপর আর কারও আইনগত অধিকার নেই, সেগুলোকে বলা হয় Public Domain

ভারত ও বাংলাদেশে সাধারণ নিয়ম:

গীতিকার সুরকার—দু’জনের মৃত্যুর ৬০ বছর পর গান Public Domain হয়।

উদাহরণ:

  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (মৃত্যু: ১৯৪১) → ২০০১-এর পর তার গান Public Domain
  • অতুলপ্রসাদ, দ্বিজেন্দ্রলাল, রজনীকান্ত → Public Domain

কিন্তু মনে রাখবেন—

Public Domain গান + অন্যের রেকর্ডিং = কপিরাইট ঝুঁকি।

 

যেসব শিল্পীর গান/রচনা এখন কপিরাইট মুক্ত (পাবলিক ডোমেইন)

(ভারতীয় কপিরাইট আইন অনুসারে, লেখক/স্রষ্টার মৃত্যুর পরের বছর থেকে ৬০ বছর পর কপিরাইট শেষ হয়। তাই ১৯৬৫ বা তার আগে মৃত্যু হলে ২০২৬ সালে মুক্ত। রবীন্দ্রনাথের ক্ষেত্রে বিশেষ এক্সটেনশন ছিল, কিন্তু ২০০১-এর পর থেকে মুক্ত।)

নাম ভূমিকা মৃত্যুর বছর
গোবিন্দ দাস (Govindadasa) বৈষ্ণব পদাবলি রচয়িতা (গীতিকার/পদকর্তা) ১৬১৩
লালন সাঁই (Lalon Shah) লালন গীতি রচয়িতা, দার্শনিক গীতিকার ১৮৯০
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীতশিল্পী (রবীন্দ্রসঙ্গীত) ১৯৪১
কে. এল. সাইগল (K. L. Saigal) সঙ্গীতশিল্পী (প্লেব্যাক সিঙ্গার) ১৯৪৭
খেমচাঁদ প্রকাশ (Khemchand Prakash) সুরকার ১৯৫০
গুলাম হায়দার (Ghulam Haider) সুরকার ১৯৫৩
আমিরবাই কর্নাটকি (Amirbai Karnataki) সঙ্গীতশিল্পী (প্লেব্যাক) ১৯৬৫
জি. এম. দুর্রানি (G. M. Durrani) সঙ্গীতশিল্পী, সুরকার ১৯৬৫
শৈলেন্দ্র (Shailendra) গীতিকার (বলিউড) ১৯৬৬
রাজা মেহদী আলী খান (Raja Mehdi Ali Khan) গীতিকার (বলিউড) ১৯৬৬
মাস্টার মদন (Master Madan) সঙ্গীতশিল্পী, সুরকার ১৯৪২
ভিনোদ (Vinod/Eric Roberts) সুরকার ১৯৫৯
পান্ডিত ইন্দ্র (Pandit Indra) গীতিকার ১৯৫৭
আল্লাদিয়া খাঁ (Alladiya Khan) ক্লাসিক্যাল সঙ্গীতশিল্পী ১৯৪৬
ফাইয়াজ খাঁ (Faiyaz Khan) ক্লাসিক্যাল সঙ্গীতশিল্পী ১৯৫০
যেসব সুরকার/গীতিকারের গান এখনো কপিরাইট মুক্ত নয়

(এদের মৃত্যু ১৯৬৬ বা পরে, তাই কপিরাইট এখনো বহাল। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৮০-এ মৃত্যু হলে কপিরাইট ২০৪০ পর্যন্ত থাকবে।)

নাম ভূমিকা মৃত্যুর বছর
আব্বাসউদ্দীন আহমদ সঙ্গীতশিল্পী (ভাওয়াইয়া, নজরুলগীতি) ১৯৫৯ (কিন্তু রেকর্ডিং/কাজের কপিরাইট এখনো কিছু ক্ষেত্রে বহাল থাকতে পারে; লিরিক্স/সুর মুক্ত হতে পারে)
সাহির লুধিয়ানভি গীতিকার (বলিউড) ১৯৮০
আনন্দ বক্সী (Anand Bakshi) গীতিকার ২০০২
মজরুহ সুলতানপুরি গীতিকার ২০০০
কামার জালালাবাদী গীতিকার ২০০৩
হাসরাত জয়পুরি গীতিকার ১৯৯৯
প্রদীপ (রামচন্দ্র দ্বিবেদী) গীতিকার ১৯৯৮
কাইফি আজমি গীতিকার ২০০২

 

Safe Content-এর ৪টি স্তর

আমরা গানকে ৪টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করি:

ক্যাটাগরি–A (সবচেয়ে নিরাপদ)
  • নিজের লেখা গান
  • নিজের কণ্ঠে রেকর্ড করা কভার
  • Public Domain গান + নিজের রেকর্ডিং
  • নিজস্ব যন্ত্রসংগীত

 

ক্যাটাগরি–B (শর্তসাপেক্ষ নিরাপদ)
  • রবীন্দ্রসঙ্গীত
  • অতুলপ্রসাদ / দ্বিজেন্দ্রলাল
  • পুরনো লোকগান

শর্ত:

  • লিরিক্স Public Domain
  • কিন্তু অডিও অবশ্যই নিজস্ব হতে হবে

 

ক্যাটাগরি–C (উচ্চ ঝুঁকি)
  • ১৯৬০–পরবর্তী বলিউড গান
  • কিশোর, লতা, আরিজিৎ, শ্রেয়া
  • T-Series, Saregama, Sony-এর অডিও
  • সিনেমার গান

এগুলো ব্যবহার করলে Page/Channel ঝুঁকিতে পড়বে।

 

ক্যাটাগরি–D (ভুলভাবে Safe বলা হয়)
  • “Traditional Song” লেখা থাকলেই Safe নয়
  • “No copyright intended” লিখলে কাজ হয় না
  • ভাইরাল মানেই Safe নয়

 

যেকোন গান ধরার আগে ৫টি গুরুত্বপুন প্রশ্নের উত্তর খুঁজুন

পোস্ট করার আগে নিজেকে প্রশ্ন দেখুন—

  1. গানটি কে লিখেছেন?
  2. তিনি কবে মারা গেছেন?
  3. অডিও কি আমার নিজের?
  4. এটি কি কোনো লেবেলের রেকর্ডিং?
  5. আগে কি এই গানে ক্লেইম এসেছে?

একটি প্রশ্নেও সন্দেহ থাকলে = পোস্ট নয়।

 

যাচাই করার সহজ পদ্ধতি

  1. গান শনাক্ত করুন
  2. গীতিকার/সুরকারের মৃত্যুসাল দেখুন
  3. রেকর্ডিং নিজস্ব কি না যাচাই করে দেখুন
  4. YouTube-এ Private হিসেবে টেস্ট করে দেখুন
  5. Claim এলে বাতিল করে দিন

 

Facebook বনাম YouTube

YouTube:
Content ID খুব শক্তিশালী

  • সঙ্গে সঙ্গে Claim
  • ৩ Strike = Channel Delete

Facebook:
তাৎক্ষণিক কম, কিন্তু পরে হঠাৎ ভিডিও মিউট হয়

 

Strike এলে কী করবেন?

Claim হলে: আয় যাবে, ভিডিও থাকবে
Strike হলে:

  • একই ধরনের ভিডিও Private
  • Team Lead জানাও
  • একই গান আর আপলোড নয়

 

Golden Rules

১। জনপ্রিয় ≠ Safe
২। পুরনো ≠ Public Domain
৩। রেকর্ডিংই আসল বিপদ
৪। সন্দেহ হলে Reject
৫। অনুমতি ছাড়া আপলোড = শাস্তিযোগ্য

 

গজল, ভজন, সুফি, ক্লাসিক্যাল, AI কভার ও রিমিক্স: কোথায় ঝুঁকি

১. ভারতীয় ক্লাসিক্যাল মিউজিক: রাগ Safe, কিন্তু পরিবেশনা নয়

অনেকে মনে করেন—ক্লাসিক্যাল গান মানেই কপিরাইট নেই। এটি আংশিক সত্য

কী Safe

  • রাগ (যেমন: ভৈরবী, ইয়ামন, তোড়ি)
  • তাল (তিনতাল, একতাল)
  • প্রাচীন বন্দিশ (Traditional composition)

কারণ: রাগ ও তাল কোনো ব্যক্তির সৃষ্টি নয়, তাই এগুলো কপিরাইটযোগ্য নয়।

কী ঝুঁকিপূর্ণ

  • ভীমসেন যোশী
  • কিশোরী আমনকর
  • রবিশঙ্কর
  • আল্লা রাখা

এদের রেকর্ডিং সবসময় কপিরাইটেড। আপনি রাগ ব্যবহার করতে পারবেন, কিন্তু তাদের অডিও কপি করতে পারবেন না।

 

২. গজল: সবচেয়ে বিপজ্জনক ক্যাটাগরি

গজল দেখতে সহজ ও পুরনো মনে হলেও, এটি সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইক আনে।

কেন?

  • অনেক কবিতা (মীর, গালিব) Public Domain
  • কিন্তু গজলের সুর রেকর্ডিং আধুনিক লেবেলভুক্ত

ঝুঁকিপূর্ণ উদাহরণ

  • জগজিৎ সিং
  • গুলাম আলী
  • তালাত আজিজ

এদের গজল ব্যবহার করা মানেই High Risk।

তুলনামূলক Safe

  • মীর, গালিবের কবিতা
  • নিজের সুর + নিজের কণ্ঠে রেকর্ডিং

 

৩. ভজন ও সুফি গান

Safe হবে যদি

  • কবি: কবীর, মীরাবাই, বুল্লে শাহ
  • নিজের সুর ও রেকর্ডিং

ঝুঁকিপূর্ণ যদি

  • অনুপ জলোটার ভজন
  • কাইলাশ খের
  • Coke Studio ভার্সন

কারণ: এগুলো লেবেল রেকর্ডিং।

 

৪. AI Cover: কঠোরভাবে নিষিদ্ধ

AI দিয়ে যদি লেখা থাকে—

“Lata Mangeshkar AI Voice”
“Arijit Singh style AI cover”

এগুলো ডাবল লঙ্ঘন

  • কপিরাইট
  • Personality Rights

বর্তমানে YouTube ও Facebook AI voice clone কঠোরভাবে ব্লক করছে।

 

৫. Instrumental, Karaoke ও Remix

Instrumental

Safe হবে যদি:

  • আপনি নিজে বাজান
  • কোনো MIDI / Karaoke ট্র্যাক ব্যবহার না করেন

Karaoke / MIDI

ইউটিউব বা ওয়েব থেকে ডাউনলোড করা ট্র্যাক = ঝুঁকি

Remix / Mashup

প্রায় সব ক্ষেত্রেই নিষিদ্ধ কারণ মূল গান কপিরাইটেড থাকে।

 

৬. “Credit দিলে Safe?” – সবচেয়ে বড় ভুল

“No copyright intended”
“Credit to original singer”

এগুলোর আইনি কোনো মূল্য নেই

 

৭. Green, Yellow, Red List (সহজ সংস্করণ)

Green (Safe)

  • নিজের কণ্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত
  • নিজের রেকর্ডিং লোকগান
  • Classical raga alap

Yellow (Review দরকার)

  • গজল
  • ভজন
  • নজরুলগীতি (নিজস্ব হলে)

Red (নিষিদ্ধ)

  • সিনেমার গান
  • লেবেল রেকর্ডিং
  • AI voice cover
  • Remix/Mashup

 

Facebook বনাম YouTube, Copyright Strike SOP ও Worker Checklist

 

১. Facebook বনাম YouTube: ঝুঁকির ধরন আলাদা

অনেকে ভাবেন—এক প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করলে আরেকটিতেও সমস্যা হবে না। বাস্তবে দুটোর অ্যালগরিদম আলাদা, ঝুঁকিও আলাদা।

YouTube

YouTube ব্যবহার করে Content ID System
এটি অডিও ও ভিডিও দুটোই স্ক্যান করে।

ফলাফল হতে পারে:

  • Content ID Claim → ভিডিও থাকবে, আয় যাবে
  • Block → কিছু দেশে বা পুরো বিশ্বে ব্লক
  • Copyright Strike → চ্যানেলের উপর লাল চিহ্ন
  • ৩টি Strike → চ্যানেল ডিলিট

ঝুঁকি বেশি হয়:

  • সিনেমার গান
  • লেবেল রেকর্ডিং
  • Karaoke / Remix

Safe কৌশল:

  • Public Domain গান হলেও নিজের রেকর্ডিং
  • আগে Private upload করে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা

 

Facebook

Facebook–এর অ্যালগরিদম তুলনামূলক ধীর, কিন্তু হঠাৎ বিপজ্জনক

যা হয়:

  • শুরুতে কিছুই না
  • হঠাৎ ভিডিও Mute / Remove
  • কখনো Page Restriction

ঝুঁকি বেশি হয়:

  • Reels
  • Live
  • Background music

Facebook অনেক সময় পুরনো ভিডিওও পরে গিয়ে মিউট করে।

 

২. Content ID Claim এলে কী করবেন

Claim মানে Strike নয়।

করণীয়:

  • ভিডিও রাখতে পারেন
  • আয় না চাইলে কিছু করার দরকার নেই

ভুল করবেন না:

  • বুঝে না Dispute সাবমিট করা

 

৩. Copyright Strike এলে (Crisis SOP)

Strike মানে বড় সতর্কতা

২৪ ঘণ্টার মধ্যে:

১। একই ক্যাটাগরির সব ভিডিও Private করুন
২। Team Lead–কে জানান
৩। একই ধরনের কনটেন্ট আপলোড বন্ধ

 

৪. কখন Dispute করবেন

শুধু তখনই:

  • গান Public Domain
  • রেকর্ডিং নিজস্ব
  • লেবেল অডিও নেই

Dispute Template:

“This is an original recording of a public domain composition. No copyrighted sound recording has been used.”

 

৫. Worker Checklist (মুখস্থ করার মতো)

আপলোডের আগে নিশ্চিত করুন:

☐ সিনেমার গান নয়
☐ লেবেল রেকর্ডিং নয়
☐ গীতিকার/সুরকার ৬০+ বছর আগে মৃত
☐ নিজস্ব রেকর্ডিং
☐ YouTube Private Test করা
☐ Description–এ Disclaimer

❌ একটি “না” = আপলোড বাতিল

 

৬. Approval Flow

Worker → Team Lead → Final Approval → Upload
👉 অনুমতি ছাড়া আপলোড = শাস্তিযোগ্য

 

৭. মূল শিক্ষা

কপিরাইট ভঙ্গ হলে ক্ষতি হয় শুধু ভিডিওর নয়— পুরো পেজ, চ্যানেল ব্যবসার ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়ে।

 

ক্লাসিক্যাল, গজল, ভজন, AI কভার ও রিমিক্স – ঝুঁকি বিশ্লেষণ

 

১. Indian Classical Music: কী Safe, কী Risky

১.১ রাগ, তাল ও প্রাচীন বন্দিশ

ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতে রাগ ও তাল কপিরাইটযোগ্য নয়। এগুলো শত শত বছরের ঐতিহ্য।

Safe (শর্তসাপেক্ষে):

  • রাগ: ভৈরবী, ইয়ামন, তোড়ি
  • তাল: তিনতাল, একতাল
  • Traditional বন্দিশ

শর্ত:

  • পরিবেশনা ও রেকর্ডিং ১০০% নিজস্ব হতে হবে
  • কোনো বিখ্যাত শিল্পীর রেকর্ডিং নকল করা যাবে না

 

১.২ ক্লাসিক্যাল শিল্পীদের পরিবেশনা (High Risk)

নিম্নোক্ত শিল্পীদের যেকোনো রেকর্ডিং ব্যবহার করলে ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি:

  • ভীমসেন যোশী
  • কিশোরী আমনকর
  • রবিশঙ্কর
  • আল্লা রাখা

কারণ: রেকর্ডিংয়ের কপিরাইট মিউজিক লেবেলের হাতে।

 

২. গজল: সবচেয়ে বিপজ্জনক ক্যাটাগরি

গজলে কবিতা অনেক সময় Public Domain হলেও সুর ও রেকর্ডিং আধুনিক হয়।

High Risk উদাহরণ:

  • জগজিৎ সিং
  • গুলাম আলী
  • তালাত আজিজ

তুলনামূলক Safe:

  • মীর, গালিবের কবিতা
  • নিজস্ব সুর ও রেকর্ডিং

 

৩. ভজন ও সুফি গান

Traditional Bhajan / Sufi Kalam

Safe যদি:

  • কবি: কবীর, মীরাবাই, বুল্লে শাহ
  • নিজস্ব সুর ও কণ্ঠ

Risk যদি:

  • Anup Jalota
  • Kailash Kher
  • Coke Studio Version

 

৪. AI Cover / Voice Clone: সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

AI দিয়ে শিল্পীর কণ্ঠ নকল করা:

  • Personality Rights লঙ্ঘন
  • YouTube ও Facebook–এ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ

উদাহরণ:

  • “Lata Mangeshkar AI voice”
  • “Arijit Singh AI cover”

👉 Zero Tolerance Policy

 

৫. Instrumental, Karaoke ও Remix

Instrumental

Safe যদি:

  • নিজস্ব বাজনা
  • কোনো লেবেল ট্র্যাক ব্যবহার হয়নি

Risk যদি:

  • অনলাইন MIDI/Karaoke ট্র্যাক ব্যবহার করা হয়

Remix / Mashup

প্রায় সব ক্ষেত্রেই নিষিদ্ধ।
“Short clip” হলেও Safe নয়।

 

৬. নজরুলগীতি – বিশেষ সতর্কতা

কাজী নজরুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করেন ১৯৭৬ সালে। তাই তার রচনা ২০৩৬ সাল পর্যন্ত কপিরাইটেড

Safe ব্যবহার:

  • নিজস্ব রেকর্ডিং
  • ১০০% নিজস্ব অডিও ও ভিডিও

 

৭. বাংলাদেশ বনাম ভারত কপিরাইট সংক্ষেপ

বিষয় বাংলাদেশ ভারত
লেখকের অধিকার মৃত্যু + ৬০ বছর মৃত্যু + ৬০ বছর
সিনেমার গান সবসময় কপিরাইটেড সবসময় কপিরাইটেড
পাবলিক ডোমেইন ক্লাসিক রবীন্দ্র, লোকগান প্রায় একই
নজরুলগীতি ২০৩৬ পর্যন্ত কপিরাইটেড একই
প্ল্যাটফর্ম আইন আন্তর্জাতিক নীতিমালা আন্তর্জাতিক নীতিমালা

 

৮. পাতার Master Summary

Safe

  • নিজস্ব মৌলিক গান
  • Public Domain + নিজস্ব পরিবেশনা
  • Classical raga alap
  • লোকগান (নিজস্ব)
  • রবীন্দ্র / অতুল / দ্বিজেন্দ্রলাল (নিজস্ব)

Review Needed

  • গজল
  • ভজন / সুফি
  • নজরুলগীতি

Prohibited

  • সিনেমার গান
  • লেবেল অডিও
  • AI কভার
  • রিমিক্স

 

৯. Golden Rules

  1. পুরনো ≠ Safe
  2. জনপ্রিয় ≠ Public Domain
  3. রেকর্ডিংই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি
  4. সন্দেহ হলে Reject
  5. অনুমতি ছাড়া আপলোড নিষিদ্ধ

Leave a Comment