বাস, রিং, স্টার, মেশ ও হাইব্রিড টপোলজির সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ (Advantages and disadvantages of bus, ring, star, mesh and hybrid topologies) 

আজকে আমরা বাস, রিং, স্টার, মেশ ও হাইব্রিড টপোলজির সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করবো । যা নেটওয়ার্ক টপোলজির অন্তর্গত।

 

বাস, রিং, স্টার, মেশ ও হাইব্রিড টপোলজির সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ

 

বাস, রিং, স্টার, মেশ ও হাইব্রিড টপোলজির সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ (Advantages and disadvantages of bus, ring, star, mesh and hybrid topologies)

 

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের টপোলজির সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ উল্লেখ করা হল

বাস টপোলজি

সুবিধাসমূহ (Advantages)

বাস টপোলজির সুবিধাগুলো নিয়ে দেয়া হলো

(ক) একটিমাত্র ফিজিক্যাল লাইনের মাধ্যমে ডাটা ট্রান্সমিট হয়।

(খ) কোন একটি কম্পিউটার সংযোগচ্যুত হলেও অন্য কম্পিউটারসমূহ স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে।

(গ) ছোটখাটো নেটওয়ার্কের জন্য এটি খুবই সহজ, স্বল্পবায়ের, সহজে ব্যবহারযোগ্য এবং সহজে বোধগম্য একটি টপোলজি।

(ঘ) বাস নেটওয়ার্কে সবচেয়ে কম দৈর্ঘ্যের ক্যাবল লাগে। এর ফলে ব্যয় কম হয়।

(ঙ) বাসের সাথে বিএনসি ব্যারেল কানেক্টর ব্যবহার করে আরেকটি বাসের সাথে সংযোগ করে দিয়ে বাস নেটওয়ার্ককে সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। এর ফলে অধিক সংখ্যক কম্পিউটার নেটওয়ার্কে যোগ দিতে পারে।

(চ) বাসকে বেশি দূর সম্প্রসারণ এবং সিগন্যাল পারফরম্যান্স সমুন্নত রাখতে রিপিটার ব্যবহার করা যেতে পারে। রিপিটার ইলেকট্রিক সিগন্যালকে অ্যামপ্লিফাই করে।

 

বাস, রিং, স্টার, মেশ ও হাইব্রিড টপোলজির সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ

 

অসুবিধাসমূহ (Disadvantages)

নিম্নে বাস টপোলজির অসুবিধাগুলো দেয়া হল:

(ক) ফিজিক্যাল মিডিয়াটি নষ্ট হলে সমস্ত সিস্টেমটি অকেজো হয়ে পড়ে।

(খ) ব্যাকবোনে তথ্যপ্রবাহের চাপ বেশি হলে নোডগুলোর পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণ সঙ্কেত লেনদেনের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

(গ) এতে ভুল নির্ণয় ও সংশোধনে অসুবিধা হয়।

রিং টপোলজি

সুবিধাসমূহ (Advantages)

(ক) প্রতিটি কম্পিউটার নেটওয়ার্কে সমান অ্যাকসেস পায়। কারণ, টোকেন প্রত্যেক কম্পিউটারের কাছেই যায়। সে কারণে কোন একটি কম্পিউটার পুরো নেটওয়ার্কে আধিপত্য চালাতে পারে না।

(খ) সব কম্পিউটারের সমানাধিকার থাকার ফলে নেটওয়ার্কে কম্পিউটার বেশি থাকলে নেটওয়ার্কের পারফরম্যাপ হ্রাস পায়।

(গ) এর সংযোগ ব্যবস্থা খুব সহজ।

(ঘ) এতে কোন কেন্দ্রীয় কম্পিউটারের প্রয়োজন হয় না।

(ঙ) এটিতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় এর ডাটা বিতরণ সহজ।

(চ) এর সংযোগ খরচ কম

(ছ) এর বিশ্বস্ততা স্টার নেটওয়ার্ক অপেক্ষা অনেক বেশি। কারণ, এতে যে কোন কম্পিউটারের ব্যর্থতার জন্য অপর পথের মাধ্যমে যোগাযোগ সম্ভব হয়।

 

বাস, রিং, স্টার, মেশ ও হাইব্রিড টপোলজির সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ

 

অসুবিধাসমূহ (Disadvantages)

(ক) এ ধরনের নেটওয়ার্কের যোগাযোগের সময় অধিক প্রয়োজন হয়।

(খ) যে কোন নতুন নোড সৃষ্টিতে যোগাযোগ সময় বর্ণিত হয়।

(গ) এর নিয়ন্ত্রণ সফটওয়্যার খুব জটিল হয়ে থাকে।

(ঘ) এর জনপ্রিয়তা কম।গ

(ঙ) উভয় পথে কম্পিউটারের ব্যর্থতার জন্য এ পদ্ধতি অচল হয়ে পড়ে।

স্টার টপোলজি

সুবিধাসমূহ (Advantages)

(ক) সহজেই নেটওয়ার্কে অধিক সংখ্যক কম্পিউটার যোগ করা যেতে পারে। স্টার টপোলজিতে কম্পিউটারের সংখ্যা নির্ভর। করে, হাব-এ কয়টি পোর্ট আছে তার ওপর। একটি হাবের সব ক’টি পোর্ট ব্যবহৃত হলে এ নেটওয়ার্ককে সা যেতে পারে আরেকটি হাব সেই হাবের সাথে যোগ করে। এভাবে যাবের সংখ্যা বাড়িয়ে নেটওয়ার্কে অধিকসংখ্যক কম্পিউটার যোগ করা যেতে পারে।

(খ) নেটওয়ার্কে কোন সমস্যা দেখা দিলে সহজেই কেন্দ্রীয় অবস্থান অর্থাৎ হাব থেকে সমস্যা অনুসন্ধান শুরু করা যায় ইনটেলিজেন্ট হাব ব্যবহার করা হলে সেটি নেটওয়ার্ক মনিটরিং-এর কাজও করতে পারে।

(গ) নেটওয়ার্কের কোন একটি কম্পিউটার বিকল হয়ে গেলে তা নেটওয়ার্কের উপর কোন প্রভাব ফেলে না। অন্যান্য কম্পিউ নিজেদের মধ্যে ঠিকমতোই যোগাযোগ করতে পারে। কোন কম্পিউটার সমস্যাযুক্ত, তাও বের করা যায় সহজেই।

(ঘ) হাব বিভিন্ন ধরনের ক্যাবল সাপোর্ট করলে একইসাথে কয়েক ধরনের ক্যাবল ব্যবহারের সুবিধা পাওয়া যায়।

 

বাস, রিং, স্টার, মেশ ও হাইব্রিড টপোলজির সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ

 

অসুবিধাসমূহ (Disadvantages)

(ক) কেন্দ্রের হার অকেজো হয়ে গেলে পুরো নেটওয়ার্কই বিকল হয়ে পড়ে।

(খ) এ টপোলজিতে অধিক ক্যাবল লাগে। কারণ, প্রতিটি কম্পিউটার থেকে ক্যাবলকে কেন্দ্রীয় হাবের নিকট নিয়ে যেতে ক্যাবল বেশি লাগায় খরচও বেশি হয়।

(গ) তথ্য আদান-প্রদানে বিশ্বস্ততা কম।

মেশ টপোলজি

সুবিধাসমূহ (Advantages)

(ক) যে কোনো দুইটি কম্পিউটারের মধ্যে দ্রুত ডেটা আদান-প্রদান করা যায়।
(খ) যে কোনো কম্পিউটার নষ্ট হয়ে গেলে অন্য কম্পিউটারে ডেটা আদান-প্রদানে কোন সমস্যা হয় না।
(গ) নেটওয়ার্কের সমস্যা খুব সহজে সমাধান করা যায় ।
(ঘ) ডেটা কমিউনিকেশনে অনেক বেশি নিশ্চয়তা থাকে ।

অসুবিধাসমূহ (Disadvantages)

(ক) নেটওয়ার্ক ইনস্টলেশন ও কনফিগারেশন বেশ জটিল।
(খ) সংযোগ লাইনগুলোর দৈর্ঘ্য বেশি হওয়ায় খরচ বেশি হয়।

 

হাইব্রিড টপোলজি

সুবিধাসমূহ (Advantages)

(ক) ব্যাপক এলাকা নেটওয়ার্কের আওতায় আনা যায় ।

(খ) এর নির্দিষ্ট কোন আকার না থাকায় প্রয়োজন এবং ইচ্ছানুযায়ী সংযোগ প্রদান করা যায়।

(গ) এতে যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য একাধিক পথ পাওয়া যায়।

(ঘ) এক কম্পিউটার হতে অন্য কম্পিউটারের মধ্যে সহজেই যোগাযোগ পথ স্থাপিত হয়।

(ঙ) কোন একটি কম্পিউটার বা লাইনের ব্যর্থতার জন্য সমগ্র পদ্ধতির কোন ক্ষতিসাধন হয় না ।

(চ) নেটওয়ার্কে ডাটা বিনিময়ে অধিক বিশ্বস্ততা পাওয়া যায়।

(ছ) নেটওয়ার্কের ক্যাবলের বৃদ্ধির সুবিধা পাওয়া যায়।

অসুবিধাসমূহ (Disadvantages)

(ক) এর সংযোগ ব্যবস্থা অগোছালো ও জটিল।

(খ) এর সংযোগ খরচও বেশি।

(গ) এতে তথ্য প্রেরণের গতি খুব কম।

(ঘ) সফ্টওয়্যার অসঙ্গতি (Software incompatibility) সম্পর্কিত সমস্যা হতে পারে।

Leave a Comment