আজকে আমরা বাস, রিং, স্টার, মেশ ও হাইব্রিড টপোলজির ফিজিক্যাল সংযোগ সম্পর্কে আলোচনা করবো । যা নেটওয়ার্ক টপোলজির অন্তর্গত।

Table of Contents
বাস, রিং, স্টার, মেশ ও হাইব্রিড টপোলজির ফিজিক্যাল সংযোগ (Physical connection of ban ring, star, mesh and hybrid topologies)
বাস টপোলজি (Bus topology) :
ছোট, সহজে ইনস্টলযোগ্য ও কম ব্যয়ের মধ্যে নেটওয়ার্ক করতে চাইলে বাস টপোল ব্যবহার করা হয়। বাস টপোলজিতে একটি মূল ক্যাবল সরাসরি চলে যায় এবং এর সাথে যুক্ত থাকে প্রতিটি কম্পিউটার এ মূল ক্যাবল, যেটি একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে চলে যায়, তাকে বলা হয় বাস (Bus) বাসের দু’প্রান্তে থাকে টার্মিনেটা ইলেকট্রিক সিগন্যালকে তবে নেয়। ৭.১ নং চিত্রে এ রকম একটি বাস টপোলজি দেখানো হয়েছে।

সাধারণ, বাস নেটওয়ার্ক সচরাচর একটিমাত্র ক্যাবল কোন প্রকার ইলেকট্রনিক ডিভাইস যেমন- রিপিটার বা অ্যামপ্লিফায়ার ছাড়া ব্যবহৃত হয়, যাতে এক কম্পিউটারের সিগন্যাল আরেক কম্পিউটারে সরাসরি যেতে পারে। তাই এ টপোলজিয়ে প্যাসিড টপোলজি (Passive topology) বলা হয়। যখন একটি কম্পিউটার অন্য কোন কম্পিউটারের উদ্দেশ্যে মেসেজ পাঠায়, হ সেই মেসেজ সিগন্যাল ক্যাবলের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে সবগুলো কম্পিউটারের নিকট পৌঁছে। যে কম্পিউটারের উদ্দেশ্যে গোঁ পাঠানো হয়, কেবল সেটিই সে মেসেজ গ্রহণ করে আর অন্যরা কেবল সেই প্যাকেটকে বাতিল করে দেয়, সেটির দিকে কোন নজর না নিয়েই।
বাস টপোলজিতে একসাথে কেবল একটি কম্পিউটার মেসেজ পাঠাতে পারে। কোন কম্পিউটার যখন মেসেজ পাঠায় বর্ণ অন্যদের অপেক্ষা করতে হয় তার পাঠানো শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার মেসেজ পাঠানো শেষ হলে অন্য কম্পিউটার মেসেজ পার পারে। তাই এ নেটওয়ার্কে কম্পিউটারের সংখ্যা বেড়ে গেলে নেটওয়ার্ক পারফরম্যান্সের অবনতি ঘটে। অবশ্য এ সমস্যা স্টার টপোলজিতেও ঘটে।
বাস নেটওয়ার্কে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো টার্মিনেশন (Termination) বাস একটি প্যাসিভ টপোলজি হওয়ার কারণে এর একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত সিগন্যাল অবাধে যেতে পারে। যদি ক্যাবলের প্রান্তকে টার্মিনেটর করা না হয়, তাহলে দেখা যাবে সিগন্যাল একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যাচ্ছে কিন্তু সেখান থেকে থাকা খেয়ে আবার ফেরত আসছে। এভাবে ক্রমাগত ইলেকট্রিক সিগন্যাল যাতায়াত করতে থাকে এবং এর পরের সিগন্যালের সাথে মিশে জট পাকাবে। প্রান্ত থেকে সিগন্যাল ফিরে আসাকে বলা হয় রিংগিং (Ringing)। এ রিংগিং যাতে ঘটতে না পারে, সেজন্য ক্যাবলের প্রান্তে টার্মিনেটর নামক একটি রোধক ব্যবহার করা হয়।
রিং টপোলজি (Ring topology)ঃ
রিং টপোলজিতে একটি কম্পিউটার আরেকটির সাথে যুক্ত থাকে এবং শেষ কম্পিউটারটি যুক্ত হয় প্রথম কম্পিউটারের সাথে। এভাবে এটি একটি রিং বা বলয় তৈরি করে। এ বলয়ের প্রতিটি কম্পিউটার ডাটা প্রবাহের ক্ষেত্রে সমান অধিকার পায়।
উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য এ ধরনের টপোলজি ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের নেটওয়ার্কের বড় সুবিধা হল এখানে প্রতিটি কম্পিউটার সমান অধিকার পেয়ে থাকে এবং অধিক কম্পিউটারের কারণে নেটওয়ার্কের পারফরম্যান্স কমে গেলে সেটি সবার জন্যই প্রযোজ্য হয়।

রিং টপোলজিকে বলা হয় অ্যাকটিভ টপোলজি এ টপোলজিতে কোন কম্পিউটার অন্য কোন কম্পিউটারের নিকট মেসেজ পাঠাতে চাইলে সেটি এর নিকটবর্তী কম্পিউটারের নিকট যাবে। সে কম্পিউটার দেখবে, সেই মেসেজটি তার জন্য কি না। সেটি তার জন্য না হলে সে ওই মেসেজকে পরবর্তী কম্পিউটারের নিকট পাঠাবে এভাবে সেটি গন্তব্যে পৌঁছাবে। প্রতিটি কম্পিউটার সেই সিগন্যালকে বর্ধিত করে পরের কম্পিউটারের নিকট পাঠায়। আর এ টপোলজিতে ডাটা প্যাকেট সবসময় একই দিকে (সাধারণত ঘড়ির কাঁটার দিকে) প্রবাহিত হয়। বাস নেটওয়ার্কের মতো এখানে কোন টার্মিনেটর ব্যবহারের দরকার পড়ে না। কারণ, এখানে উন্মুক্ত প্রান্ত বলে কিছু থাকে না।
বিশেষ ধরনের রিং নেটওয়ার্ক হল টোকেন রিং নেটওয়ার্ক। টোকেন রিং নেটওয়ার্কে টোকেন পাসিং বলে একটি পদ্ধতি আছে। এতে একটি সংক্ষিপ্ত মেসেজ, যা টোকেন নামে পরিচিত, রিং-এ ঘুরতে থাকে। ঐ টোকেনটি যখন যে কম্পিউটারের কাছে থাকে, তখন সেই কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ডাটা পাঠাতে পারে। ডাটা পাঠানো শেষ হলেই টোকেনটি আবার ছেড়ে দিতে হবে এবং সেটি রিং বা বায়ে আবর্তিত হতে থাকবে। যে কম্পিউটারের ডাটা পাঠানোর দরকার পড়বে, সে ঐ টোকেন ক্যাপচার করবে এবং ডাটা পাঠাবে।

এ টোকেন পার্সিং খুব দ্রুত ঘটে থাকে। একটি ২০০ মিটার ব্যাসের বলয়ে একটি টোকেন সেকেন্ডে ১০,০০০ বারেরও বেশি ঘুরতে পরে ফাইবার ডিস্ট্রিবিউটেড ডাটা ইন্টারফেস (FDDI) বা ফিডি নেটওয়ার্ক এ ধরনের রিং টপোলজি ব্যবহার করে গড়ে উঠেছে।
স্টার টপোলজি (Star topology) :
স্টার টপোলজিতে নেটওয়ার্কভুক্ত সকল কম্পিউটার বা পিসি একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইসের (Device) সাথে সংযুক্ত থাকে। কেন্দ্রীয় ডিভাইসটি হতে পারে একটি হাব (Hub) বা (Switch)। স্টার টপোলজির উদাহরণ হ লিস্টে পিয়ার (Twisted Par: loBasen) কেবল দ্বারা সংযুক্ত একটি ইথারনেট নেটওয়ার্ক । কোন কম্পিউটার ডেটা ট্রান্সফার করতে সে তা প্রথমে সে হাব অথবা সুইয়ে পাঠিয়ে দেয়। এরপর হাব সে সিগন্যালকে লক্ষ্যস্থলে পাঠানোর জন্য যথাযথ রুটে ছেড়ে দেয় ।

স্টার টপোলজিতে কোন কম্পিউটার অন্য কম্পিউটারের নিকট মেসেজ পাঠাতে চাইলে সিগন্যাল পাঠায় সরাসরি হাবের নিকট হাব সেই সিগন্যালকে সব কম্পিউটারে কিংবা ঐ গন্তব্য কম্পিউটারের নিকট পাঠায়। যদি সেই নেটওয়ার্ক হয়ে থাকে ব্রডকাস্ট বেসড তাহলে হাব থেকে সিগন্যাল যাবে সব ক’টি কম্পিউটারে। আর যদি সেটি সুইচড নেটওয়ার্ক হয়, তাহলে সুইচ সেই সিগন্যালকে নির্দিষ্ট কম্পিউটারের নিকট পাঠিয়ে দেবে।
স্টার টপোলজিতে বিভিন্ন ধরনের ক্যাবল ব্যবহার করা যায় কোন ধরনের ক্যাবল ব্যবহার করা হবে, তার ওপর নির্ভর কে বিশেষ ধরনের হার দরকার হবে। কোন কোন হাব-এ একত্রে কো-অ্যাক্সিয়াল ক্যাবল এবং টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল ব্যবহার করা যায়।
মেশ টপোলজি (Mesh topology) :
মেশ টপোলজির ক্ষেত্রে নেটওয়ার্কের অধীনস্থ প্রতিটি কম্পিউটার অন্য কম্পিউটারের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে। এ ব্যবস্থার প্রতিটি কম্পিউটার সরাসরি যে কোনো কম্পিউটারে ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে। এ ধরনে নেটওয়ার্কযুক্ত কম্পিউটারগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংযোগকে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট লিঙ্ক বলে। এ পদ্ধতিতে যে কোনো দুটি কম্পিউটারের মধ্যে দ্রুত ডেটা আদান-প্রদান করা যায়। কোনো কম্পিউটার নষ্ট হয়ে গেলে অন্য কম্পিউটারে ডেটা আদান-প্রদানে কোনো সমস্যা হয় না। নেটওয়ার্কের সমস্যা খুব সহজে সমাধান করা যায় এবং সংযোগ লাইনগুলোর দৈর্ঘ্য বেশি হওয়ায় খরচ বেশি হয়।

হাইব্রিড টপোলজি (Hybrid topology) :
একাধিক টপোলজির সংমিশ্রণে টপোলজিই হচ্ছে হাইব্রিড টপোলজি। এই টপোলজিতে স্টার, রিং, বাস ইত্যাদি টপোলজির সঙ্করায়ন ঘটানো হয়। একটি কেন্দ্রীয় হাব-এ সবগুলো নোডকে যুক্ত করা হয় হাব-এর ভিতর নোডগুলোর সংযোগ ব্যবস্থা রিং টপোলজির মতো। এক্ষেত্রে ব্যবহৃত হার MAU (Multi Access Unit) পরিচিত। এ টপোলজিটি LAN, MAN WAN কে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে অধিক জনপ্রিয়।
