ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম ও ব্লুটুথ এইচএসসি – আই.সি.টি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) [ HSC – ICT (Information and Communications Technology) ] তথা একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর – আই.সি.টি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) [ Class 11 & 12 – ICT (Information and Communications Technology) ] এর ২য় অধ্যায় [ Chapter 2] এ পড়ানো হয়। তাছাড়া আলিম ক্লাস [ Alim Class ] ও অন্যান্য শিক্ষা ব্যবস্থায় এই বিষয়টি পড়ানো হয়।
Table of Contents
ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম
দুই বা ততোধিক ডিভাইসের মধ্যে কোনো ফিজিক্যাল কানেকশন বা ক্যাবল সংযোগ ছাড়া ডেটা কমিউনিকেশনের পদ্ধতি হচ্ছে ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম। তারবিহীন মাধ্যমের সাহায্যে ওয়্যারলেস ডিভাইসসমূহের মধ্যে যে পদ্ধতিতে ডেটা কমিউনিকেশন হয় তাকে ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম বলে।

প্রয়োজনীয়তা
যেসব স্থানে তার বা ক্যাবলভিত্তিক যোগাযোগ সম্ভব নয় যেসব স্থানে যোগাযোগের জন্য ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম অপরিহার্য। আবার প্রযুক্তির উৎকর্ষের ফলে প্রাপ্ত সুবিধাসমূহ পাওয়ার জন্য বিশেষ করে বহনযোগ্য ডিভাইস (ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, স্মার্টফোন, ট্যাবলেট কম্পিউটার) এর ক্ষেত্রে ওয়্যারলেস মাধ্যম ব্যবহার করা আবশ্যকীয়।
প্রোডাক্টিভিটি চিন্তা করলে তার সংযোগ, ব্যবহারকারীর জন্য একটি জটিল ও ঝামেলাযুক্ত পদ্ধতি। পক্ষান্তরে ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেমের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর কমিউনিকেশন ডিভাইস যদি ওয়্যারলেস সাপোর্টেড হয়, তবে এ সংক্রান্ত জটিলতা খুব কমই থাকে। ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেমে কম দূরত্ব অথবা অধিক দূরত্বের স্থানসমূহের মধ্যে যোগাযোগ অথবা তথ্য স্থানান্তর করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে দূরত্ব অনুযায়ী ওয়্যারলেস মাধ্যম নির্বাচন করতে হবে। যেমন-
১. রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি কমিউনিকেশন
২. মাইক্রোওয়েভ কমিউনিকেশন
৩. ইনফ্রারেড শর্ট রেঞ্জ কমিউনিকেশন ইত্যাদি।
ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেমের মধ্যে বহুল ব্যবহৃত কয়েকটি সিস্টেম হচ্ছে মোবাইল কমিউনিকেশন সিস্টেম, রেডিও কমিউনিকেশন সিস্টেম, স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন সিস্টেম, রিমোট কন্ট্রোল সিস্টেম ইত্যাদি।
ব্লুটুথ
ব্লুটুথ (ইংরেজি: Bluetooth) ক্ষুদ্র পাল্লার জন্য প্রণীত একটি ওয়্যারলেস প্রোটোকল। এটি ১০-৫০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে ওয়্যারলেস যোগাযোগের একটি পদ্ধতি। ব্লুটুথ-এর কার্যকরী পাল্লা হচ্ছে ১০ মিটার। তবে বিদ্যুৎ কোষের শক্তি বৃদ্ধি করে এর পাল্লা ১০০ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যেতে পারে। ব্লুটুথ ২.৪৫ গিগাহার্টজ-এ কাজ করে।
৯০০ খ্রীস্টাব্দের পরবর্তী সময়ের ডেনমার্কের রাজা Harald Bluetooth-এর নামানুসারে এই প্রযুক্তির নামকরণ করা হয়েছে। ব্লুটুথ ১.০-এর তথ্য আদান-প্রদান-এর সর্বোচ্চ গতি ছিল সেকেন্ডে ১ মেগাবিট। বর্তমানে ব্লুটুথ ৫.০-এর সর্বোচ্চ গতি হল সেকেন্ডে ২ মেগাবাইট।
ব্লুটুথ প্রোটোকল বাস্তবায়নকারী যন্ত্রাংশ বা ডিভাইসগুলি দ্বিমুখী সংযোগ স্থাপন করে কাজ করে। বর্তমানে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, ট্যাব, গেমিং কনসোল, ডিজিটাল ক্যামেরা, সাউন্ড বক্স, প্রিন্টার, ল্যাপটপ, জিপিএস রিসিভার প্রভৃতি যন্ত্রাদিতে ব্লুটুথ প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। এই প্রযুক্তিতে খুব কম বিদ্যুৎ খরচ হয়। এটি ক্ষুদ্র পাল্লার বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়।