ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন

আজকের আলোচনার বিষয় ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন (Electronic Communication), যা কমিউনিকেশনের মৌলিক ধারণা অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিক সভ্যতা, তথ্যপ্রযুক্তি ও বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে উঠেছে এই ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশনের ওপর।

 

ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন (Electronic communication)

 

ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন (Electronic communication)

 

কমিউনিকেশন কী?

Communication শব্দের অর্থ হলো যোগাযোগ। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ একে অপরের সঙ্গে ভাব, তথ্য, অনুভূতি ও বার্তা আদান–প্রদান করে আসছে। প্রথমদিকে এই যোগাযোগ ছিল মুখে মুখে, অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে কিংবা সংকেত ব্যবহার করে। পরবর্তীকালে লেখার আবিষ্কার, দূত প্রেরণ, কবুতর বা ড্রামের ব্যবহার—এসবের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার ধীরে ধীরে উন্নয়ন ঘটে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থায় এসেছে আধুনিকতা, গতিশীলতা ও নির্ভরযোগ্যতা। বর্তমানে যোগাযোগ বলতে মূলত ইলেকট্রনিক উপায়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তথ্য স্থানান্তরের প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়।

 

ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন কী?

যখন কোনো তথ্য, বার্তা বা ডাটা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও মাধ্যম ব্যবহার করে প্রেরণ, প্রক্রিয়াকরণ ও গ্রহণ করা হয়—তখন তাকে ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন (Electronic Communication) বলা হয়।

সহজভাবে বলা যায়—

বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে যে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তাই ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন।

ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশনের গুরুত্ব

ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন পুরো পৃথিবীকে একটি “Global Village” বা বৈশ্বিক গ্রামে পরিণত করেছে। আজ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে তথ্য পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। শিক্ষা, ব্যবসা, চিকিৎসা, প্রশাসন, প্রতিরক্ষা, বিনোদন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে।

ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশনের ঐতিহাসিক বিকাশ

ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশনের সূচনা হয় উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে।

  • ১৮৪০-এর দশকে তারযুক্ত টেলিগ্রাফি (Telegraphy) ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রথম ইলেকট্রনিক যোগাযোগের যাত্রা শুরু
  • পরবর্তীতে এটি টেলিফোন (Telephone) প্রযুক্তিতে উন্নীত হয়
  • Triode Tube আবিষ্কারের পর বিশ শতকের শুরুতে Radio Technology-এর মাধ্যমে বেতার যোগাযোগের বিকাশ ঘটে
  • এরপর একে একে আবিষ্কৃত হয় ট্রানজিস্টর (Transistor), আইসি (Integrated Circuit) এবং অন্যান্য সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস, যা ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশনকে আরও শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য করে তোলে
  • সাম্প্রতিক সময়ে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি (Satellite Communication) এবং ফাইবার অপটিক প্রযুক্তি (Fiber Optic Communication) ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশনের বিস্তার বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে

 

 

টেলিকমিউনিকেশনের মৌলিক ধারণাসমূহ

ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন অধ্যায়ে যেসব মৌলিক বিষয় আলোচনা করা হয়, সেগুলো হলো—

  • Information Source (তথ্যের উৎস)
  • Electronic Communication System
  • Telecommunication
  • Frequency (ফ্রিকুয়েন্সি)
  • Wavelength (তরঙ্গদৈর্ঘ্য)
  • Spectrum (স্পেকট্রাম)
  • Bandwidth (ব্যান্ডউইডথ)
  • Propagation Delay (প্রপাগেশন ডিলে)
  • Noise (নয়েজ)
  • SNR (Signal-to-Noise Ratio)
  • Simplex, Half Duplex ও Full Duplex Communication

এসব ধারণা ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন ব্যবস্থাকে বোঝার ভিত্তি তৈরি করে।

ইলেকট্রনিক মিডিয়া কী?

যেসব মাধ্যম ব্যবহার করে ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন সম্পন্ন হয়, সেগুলোকে ইলেকট্রনিক মিডিয়া বলা হয়। যেমন—

(ক) রেডিও (Radio)

(খ) টেলিভিশন (Television)

(গ) ফাইবার অপটিক (Fiber Optic)

(ঘ) ফিল্ম (Film)

(ঙ) ফ্যাক্স মেশিন (Fax Machine)

(চ) স্যাটেলাইট (Satellite)

(ছ) টেলিফোনি (Telephony)

(জ) টেলিগ্রাফি (Telegraphy)

এই সব মাধ্যমের মাধ্যমে আজ বিশ্বব্যাপী দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ সম্ভব হয়েছে।

গাইডেড কমিউনিকেশন মিডিয়া অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের শনাক্তকারী পর্যবেক্ষণ

ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন আধুনিক সভ্যতার একটি মৌলিক ভিত্তি। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এর পরিধি ও সক্ষমতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সময়, দূরত্ব ও সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে মানুষকে একে অপরের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসার ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশনের অবদান অপরিসীম।

২ thoughts on “ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন”

Leave a Comment