আজকে আমরা আইপি ভার্শন ৬ সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা আইপি অ্যাড্রেসিং এর অন্তর্গত।

Table of Contents
আইপি ভার্শন ৬ (IPv6)
এতক্ষণে আমরা ৩২-বিট এর আইপি অ্যাড্রেস নিয়ে আলোচনা করেছি। এ ৩২ বিটের আইপি অ্যাড্রেসকে বলা হয় আইপি ভার্শন ৪ বা IPv4 । যেহেতু এখনই ধারণা করা হচ্ছে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ৩২ বিট-এর আইপি অ্যাড্রেস সংখ্যা নিঃশেষ হয়ে যাবে, তাই বর্তমান আইপি অ্যাড্রেসের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই ইন্টারনেট বাজারে ১২৮ বিটের আইপি অ্যাড্রেসের ব্যবহার শুরু হচ্ছে। এ ১২৮ বিটের আইপি অ্যাড্রেস IPv6 নামে পরিচিত এরপরে যে আইপি অ্যাড্রেস স্কিম বাজারে আসবে, তা পরিচিত হবে IPhg নামে।
১২৮ বিটের IPv6 আইপি অ্যাড্রেস স্কিম মোট ৩৪০২৮২৩৬৬৯২০৯৩৮৪৬৩৪৬৩৪৬৩৩৭৪৬০৭৪৩১৭৬৮২১১৪৫৬ টি অ্যাড্রেসের সংস্থান করবে। ইন্টারনেটে বর্তমানে খুবই সীমিত আকারে IPv6 ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ডেস্কটপ কম্পিউটারে এর ব্যবহার এখানে তেমনভাবে শুরু হয় নি। আইপি অ্যাড্রেস সাপোর্ট IPv4 থেকে IPv6-তে উন্নীতকরণের জন্য ইন্টারনেট অবকাঠামো ইতোমধ্যে আপডেট করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এ কাজটি ঘটছে অবশ্যই আমাদের অনেকটা অগোচরেই।
৩২ বিটের আইপি অ্যাড্রেস স্কিমকে বলা হয় আইপি ভার্শন ৪ বা IPv4। অন্যদিকে, নতুন ১২৮ বিট অ্যাড্রেস স্কিমকে বলা হচ্ছে আইপি ভার্শন ৬ (IPv6) আইপি নেক্সট জেনারেশন (IPng) ।

সরলীকৃত আইপি ভার্শন ৬ প্যাকেট হেডার ৪০ বিট বিশিষ্ট। এর মধ্যে যে ফিল্ডগুলো থাকে, তা হচ্ছে ফরম্যাট ভার্শন, কো লেবেল, পেলোড লেখে, নেক্সট হেডার, হপ লিমিট সোর্স অ্যাড্রেস, ডেস্টিনেশন অ্যাড্রেস, ডেটা এবং পেলোড ফিল্ড।
আইপি ৪ থেকে আইপি৬ (IP4 to IP6) ঃ
বর্তমানে ইন্টারনেটে ব্যবহৃত হচ্ছে আইপিও। এটিকে যদি আইপি৬-এ রূপান্তর করতে চাই, তাহলে কি বর্তমান সিস্টেম বন্ধ রাখতে হবে? না, তা নয়। বর্তমান ব্যবস্থা চালু রেখেই যাতে আইপিও ব্যবহার করা যায়, তার পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে আরএফসি ১৯৩৩ এ। এটি সিম্পল ট্রানজিশন (SIT) নামেও পরিচিত।
এ ট্রানজিশন পদ্ধতিকে দুটো ধাপে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ইন্টারনেটে ব্যবহৃত বিভিন্ন কম্পোনেন্টকে আপগ্রেড করা হবে, যাতে এবং শেষে দ্বিতীয় ধাপে আইপিও ব্যবহার করলে কোন অসুবিধা না হয়। দ্বিতীয় ধাপে বর্তমান আইপিও কে পরিবর্তন করে আইপিও করা হবে এবং এটি এমনভাবে করা হবে, যাতে পুরো আইপিও প্রতিস্থাপিত হয়। তখন পুরো ইন্টারনেট আইপিও-এ কাজ করবে।

এসআইটি-তে কিছু বিষয়ের দিকে নজর রাখা হবে-
- আইপি৪ থেকে আইপিও-এ রূপান্তরের আগেই এর উপযোগী কম্পোনেন্ট ইন্টারনেটে ব্যবহার করতে হবে। এবংকম্পোনেন্টের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল রাউটার।
- আইপি৪ কে আইপি৬-এ রূপান্তরের সময় আইপিও নেটওয়ার্কে থাকবে। তবে এ রূপান্তরের কোন বাঁধাধরা সময় নেই বলে দুটি একত্রে অনেক দিন থাকতে পারবে।
- এ ট্রানজিশন যতদূর সম্ভব সহজ হতে হবে, যাতে ব্যবহারকারী, সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর সহজে তাদের নেটওয়ার আপগ্রেড করতে পারে।
- আইপি৪ থেকে আইপি৬-এ আপগ্রেড করার আগে অন্যান্য নেটওয়ার্ক সার্ভিস যেমন ডিএনএস সার্ভারকে এটি বুঝার উপযোগী করে তুলতে হবে।
- আইপি কনভার্শনের কাজটি যাতে ব্যয়বহুল না হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে।
আইপি৪ থেকে আইপি৬-এ পুরোপুরি রূপান্তরে এখনও কয়েক বছর লাগবে- এটি নিশ্চিত। কারণ, এখনও কোন অপারে সিস্টেম এ অ্যাড্রেসিং ব্যবহার শুরু করে নি।
১ thought on “আইপি ভার্শন ৬ (IPv6)”