টিসিপি এবং আইপি প্রটোকল অপারেশন (Operation of TCP and IP protocol operation)

আজকে আমরা টিসিপি এবং আইপি প্রটোকল অপারেশন সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা নেটওয়ার্ক প্রটোকল এর অন্তর্গত।

 

টিসিপি এবং আইপি প্রটোকল অপারেশন

 

টিসিপি এবং আইপি প্রটোকল অপারেশন (Operation of TCP and IP protocol operation)

 

সকল যোগাযোগের জন্য নেটওয়ার্ক সিস্টেমের অভ্যন্তরে প্রতিটি ডিভাইস বা হোস্টের একটি স্বতন্ত্র অ্যাড্রেস থাকা প্রয়োজন। ডাটা বিনিময় বা যোগাযোগের জন্য নেটওয়ার্কের মূলত দুটি অ্যাড্রেসের প্রয়োজন হয়। এর একটি হচ্ছে হোস্ট বা নেটওয়ার্ক আে এবং অন্যটি পোর্ট অ্যাড্রেস। পোর্ট অ্যাড্রেস হচ্ছে একটি আওতাভুক্ত কোন প্রসেস বা অ্যাপ্লিকেশনের অ্যাড্রেস পোর্ট অ্যাড্রেস এন্ড-টু-এন্ড প্রটোকল যেমন যথার্থ প্রসেস বা অ্যাপ্লিকেশনের নিকট ডাটা প্যাকেট সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

টিসিপি এবং আইপি প্রটোকল অপারেশন

 

এবার আমরা অত্যন্ত সাধারণ পর্যায়ের একটি টিসিপি/আইপি অপারেশন ব্যাখ্যা করব, যা একটি হোস্টের কোন নিদিষ্ট অ্যাপ্লিকেশন থেকে অন্য হোস্টের সংশ্লিষ্ট অ্যাপ্লিকেশনে ডাটা ট্রান্সফার করবে। ধরা যাক, একটি প্রসেস, যা হোস্ট এর পোর্ট ১- এর সাথে সংশ্লিষ্ট, হোস্ট B’র পোর্ট ২-এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্য প্রসেসের নিকট কোন মেসেজ পাঠাতে চায়।

এ পর্যায়ে হোস্ট প্রসেসটি অধস্তন আর টিসিপিতে মেসেজটি পাঠাবে এবং নির্দেশনা দিবে যাতে এটি হোস্ট ৪’র পোর্ট ২-এ পৌঁছানো হয়। এবার হোস্ট A’র টিসিপি স্তর মেসেজটি আইপি স্তরে পাঠাবে এবং এটি হোস্ট B’র নিকট প্রেরণ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হবে। উল্লেখ্য, আইপি স্তরকে হোস্ট B’র পোর্ট সম্পর্কে কোন তথ্য জানার প্রয়োজন হবে না।

আইপি স্তরকে শুধু জানতে হবে মেসেজটি হোস্ট তে পাঠাতে হবে। এবার আইপি মেসেজটি তা অধস্তন স্তর নেটওয়ার্ক অ্যাকসেস লেয়ারে পৌঁছে দিবে এবং নির্দেশনা দেয়া হবে, যাতে এটি সংযুক্ত রাউটার X-এ পাঠানো হয়। ডাটা প্যাকেট হোস্ট A’র প্রসেস থেকে B’র উদ্দেশ্যে এ পর্যন্ত যে পথটুকু পরিভ্রমণ করল, তা প্রথম হপ (Hop) হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

ডাটা ট্রান্সমিশন অপারেশনটি নিয়ন্ত্রণের জন্য ইউজারকে ডাটার পাশাপাশি কন্ট্রোল ইনফরমেশনও পাঠাতে হয়। ধরা যাক, হোস্ট A’র প্রসেসটি যে ভাটা সৃষ্টি করল এবং টিসিপি’র নিকট পাঠাল, তা হচ্ছে ইউজার ডাটা ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে টিসিপি স্তর ইউজার ডাটাকে ছোট ছোট খণ্ডে বিভক্ত করবে এ খণ্ডিত ডাটার সঙ্গে এবার টিসিপি স্তর কন্ট্রোল ইনফরমেশন (যা টিসিপি হেডার নামে পরিচিত) যোগ করবে এবং একটি টিসিপি সেগমেন্ট তৈরি করবে। টিসিপি হেডারের তথ্য ব্যবহৃত হবে বিপরীত প্রান্তের অর্থাৎ হোস্ট B’র টিসিপি স্তর কর্তৃক টিসিপি হেডারে যে সকল তথ্য থাকে তা হচ্ছে—

(ক) গন্তব্য পোর্ট (Destination Port)

হোস্ট B’র টিসিপি যখন ডাটা সেগমেন্টটি পাবে, তখন তাকে জানতে হবে ডাটা প্যাকেটটি কাকে সরবরাহ করতে হবে।

(খ) সিকুয়েল নাম্বার (Sequence Number)

টিলিপি প্রতিটি সেগমেন্ট বা ডাটা খণ্ডকে একটি সংখ্যা দ্বারা সূচিত করে এবং গন্তব্য পোর্টে তা ধারাবাহিক ক্রমে প্রেরণ করে। যদি হোস্ট এর টিসিপি স্তর ধারাবাহিকতার বাইরে কোন ডাটা প্যাকেট পেয়ে থাকে, তাহলে সে বুঝতে পারে ডাটা ট্রান্সমিশনে কোন সমস্যা হচ্ছে। এমতাবস্থায় পোর্ট ৪’র টিসিপি পুনরায় সঠিক ক্রমে ডাটা প্যাকেট প্রেরণের জন্য অনুরোধ পাঠাবে।

 

টিসিপি এবং আইপি প্রটোকল অপারেশন

 

(গ) চেকসাম (Chicksum)

প্রেরক টিসিপি ডাটা খণ্ডের সাথে একটি কোড জুড়ে দেয়, যা বাকি সেগমেন্টের বিষয়বস্তুর ফাংশন (Function) হিসেবে কাজ করে। প্রাপক টিসিপি হিসাব করে আগত (Incoming) কোডের সাথে ফলাফল তুলনা করে। ফলাফলে কোন প্রকার অমিল পাওয়া গেলে ধরে নেয়া হয় ডাটা ট্রান্সমিশনে কোন সমস্যা আছে।

এ পর্যায়ে টিসিপি প্রতিটি সেগমেন্টকে আইপি স্তরে পাঠায় এবং সে সাথে নির্দেশনা প্রদান করে, যাতে সেগমেন্টটিকে হোস্ট তে ট্রান্সমিট করা হয়। এ সেগমেন্টসমূহ এক বা একাধিক নেটওয়ার্কের মধ্য দিয়ে সঞ্চালিত হয় এবং একাধিক মধ্যবর্তী রাউটার অতিক্রম করে। এ অপারেশনের জন্যও কন্ট্রোল ইনফরমেশন ব্যবহারের প্রয়োজন হয়।

তাই আইপি প্রতিটি সেগমেন্টের সাথে কন্ট্রোল ইনফরমেশন সম্বলিত একটি হেডার যোগ করে একটি আইপি ডাটগ্রাম (IP Datagram) তৈরি করে। উদাহরণস্বরূপ, আইপি হেডারে গন্তব্য (Destination) বা প্রাপক হোস্টের (এক্ষেত্রে B) অ্যাড্রেস সংরক্ষিত থাকে।

সর্বশেষে গন্তব্য পথে প্রথম নেটওয়ার্কটি অতিক্রম করার জন্য প্রতিটি আইপি ডাটগ্রাম নেটওয়ার্ক অ্যাকসেস লেয়ারে উপস্থিত হয়। এ পর্যায়ে নেটওয়ার্ক অ্যাকসেস লেয়ার তার নিজস্ব হেডার যোগ করে একটি প্যাকেট তৈরি করে। প্যাকেটটি নেটওয়ার অতিক্রম করে রাউটার X-এ আসে ডাটা ট্রান্সফারের জন্য নেটওয়ার্কের যে সকল তথ্যের প্রয়োজন তা প্যাকেট হেডার ধারণ করে। অন্যদের মধ্যে প্যাকেট হেডারের যে সকল তথ্য থাকে, তা হচ্ছে-

(ক) গন্তব্য নেটওয়ার্ক অ্যাড্রেস (Destination Network Address)

নেটওয়ার্কের অবশ্যই জানতে হয় সংযুক্ত কেন ডিভাইসের কাছে ডাটা প্যাকেটটি সরবরাহ করতে হবে।

(খ) অনুরোধকৃত সুবিধাদি (Facilities Requested)

নেটওয়ার্ক অ্যাকসেস প্রটোকলকে অবশ্যই কতিপয় নেটওয়ার্ক সুবিধা ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করতে হয়। এ ধরনের একটি সুবিধার উদাহরণ হচ্ছে অগ্রাধিকার (Priority) পাওয়ার বিষয়টি এবার রাউটার X-এ প্যাকেট হেডারটি অপসারিত হয় এবং আইপি হেডার পরীক্ষা করে দেখা হয়। আইপি হেডারে সংরক্ষ গন্তব্য অ্যাড্রেস তথ্যের উপর ভিত্তি করে রাউটারের আইপি মডুল আইপি ডাটাগ্রামকে নেটওয়ার্ক-২-এর মাধ্যমে হোস্ট B এর দিকে নির্দেশ করে। এ কাজটি করার সময় ডাটগ্রাম পুনরায় নেটওয়ার্কে অ্যাকসেস হেডার দ্বারা আবৃত হয়।

ডাটা যখন হোস্ট B তে পৌঁছে, তখন ঠিক এসবের উল্টো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। প্রতিটি লেয়ারেই এর সংশ্লিষ্ট হেডারটি অপসারিত হয় এবং বাকি অংশটুকু তার পরবর্তী উপরের লেয়ারে চলে আসে। এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না ডাটা প্রকৃত প্রসেসের নিকট পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

 

টিসিপি এবং আইপি প্রটোকল অপারেশন

 

টিসিপি/আইপি’র উপাদানসমূহ (TCP/IP components)

টিসিপি/আইপি প্রটোকল পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা বা গুরুত্ব অনুধাবন করার পূর্বে টিসিপি/আইপি নেটওয়ার্ক নিয়ে আপনি কী কী করতে পারেন, সে বিষয়ে জানা প্রয়োজন। টিসিপি/আইপি নেটওয়ার্কের ব্যবহার জানা হয়ে গেলে, যে সকল প্রটোকল এ নেটওয়ার্কের পিছনে কাজ করছে, সেগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিতে সহজ হবে। এবার টিসিপি/আইপি নেটওয়ার্কের করিপা গুরুত্বপূর্ণ এবং বহুল প্রচলিত প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে, তবে নিম্নোক্ত তালিকার বাইরেও আরো ব্যবহার আছে।

টেলনেট (Telnet) :

টেলনেট প্রোগ্রাম কোন দূরবর্তী বা রিমোট কম্পিউটারে লগইন করার সুযোগ করে দেয়। এর ফলে
কোন ইউজার একটি কম্পিউটারে বসেই অন্য কোন কম্পিউটারে লগইন করতে পারে। এতে মনে হবে ইউজার যেন দ্বিতীয় কম্পিউটারে সরাসরি বসে কাজ করছে। এ ধরনের সংযোগ স্থাপন করা যেতে পারে লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (ল্যান) বা ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্কভুক্ত (ওয়ান) যে কোন কম্পিউটার থেকে। তবে এক্ষেত্রে ইউজারকে অবশ্যই রিমোট সিস্টেমে প্রবেশের জন্য যথাযথ অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।

একটি রিমোট কম্পিউটার দিয়ে যদি কাজ করিয়ে নিতে হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে টেলনেট ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ধরনের কাজ ল্যান বা ওয়ানের আওতার বাইরে সাধারণত করা হয় না। ইন্টারনেটের মাধ্যমেও কিছু কিছু সিস্টেমে টেলনেট সেশনে দ্বারা রিমোট কম্পিউটারে লগইন এর সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।

এফটিপি (FTP) ঃ

এফটিপি বা ফাইল ট্রান্সফার প্রটোকল কাউকে কোন একটি সিস্টেম থেকে ফাইল বা ফাইলসমূহ অন্য কোন সিস্টেমে কপি করার সুযোগ করে দেয়। টেলনেট প্রোগ্রামের মতো এক্ষেত্রে ইউজারকে দূরবর্তী কম্পিউটারে পূর্ণাঙ্গ প্রবেশ অনুমোদন নিয়ে কাজ করতে হয় না, বরং এফটিপি প্রোগ্রামই ইউজারের প্রবেশ অনুমোদন সক্রিয় করে থাকে। তবে ফাইলে যথাযথ অ্যাকে পেতে হলে সঠিক অনুমোদনটি নিশ্চিত করতে হয়।

দূরবর্তী কম্পিউটারে যুক্ত হওয়ার পর এফটিপি তাকে ঐ কম্পিউটার থেকে নিজের কম্পিউটারে এক বা একাধিক ফাইল কপি করার সুযোগ দিবে। তবে তার কম্পিউটার থেকে দূরবর্তী কম্পিউটারে ফাইল কপি বা আপলোড করতে কিন্তু যথাযথ অনুমোদন নিতে হবে। এখানে ফাইল ট্রান্সফার বলতে ফাইল কপি করা বুঝানো হয়ে থাকে। ফাইল কপির ক্ষেত্রে মূল অবস্থানের ফাইল অপরিবর্তিত থাকে। কিন্তু ফাইল মুভ করার ক্ষেত্রে মূল অবস্থানে ফাইলটি আর থাকে না। সেটি তাৎক্ষণিকভাবে অপসারিত হতা যায়। ইন্টারনেটে বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে এমন একটি অ্যাপ্লিকেশন হচ্ছে এফটিপি কোন কোন বৃহদাকারের ল্যান এবং প্রদানের বর্তমানে এফটিপি অ্যাপ্লিকেশন ফাইল আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।

 

টিসিপি এবং আইপি প্রটোকল অপারেশন

 

এসএমটিপি (SMTP Simple Mail Transfer Protocol) :

ইলেকট্রনিক মেইল আদান-প্রদানের জন্য এসএমটিপি ব্যবহা হয়। এসএমটিপি’র কর্মকাণ্ড ইউজারের নিকট অত্যন্ত পরিষ্কার। দৃশ্যের অন্তরালে এসএমটিপি নূরবর্তী কম্পিউটারে সংযোগ স্থাপন এবং অনেকটা এফটিপি’র ফাইল ট্রান্সফার প্রক্রিয়ার মতোই মেসেজ বা বার্তা ট্রান্সফার করে থাকে। এসএমটিপি’র কর্মপ্রক্রিয়া ইউজারকে চিন্তা না করলেও চলে। এমনকি সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটরকেও এ নিয়ে বেশি মাথা ঘা হচ্ছে ইন্টারনেটে অন্যতম বহুল ব্যবহৃত একটি প্রটোকল, যা ইউজারের জন্য সমস্যাযুক্ত একটি প্রটোকল হিসেবেই সমধিক পরিচিত।

এসএনএমপি (SNMP- Simple Network Management Protocol)

সিম্পল নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট প্রটোকল বা এসএসএমপি নেটওয়ার্কের স্টাটাস বা অবস্থা সম্পর্কে বার্তা এবং নেটওয়ার্কে যদি কোন কারণে সমস্যা সৃষ্টি হয়, সে সম্পর্কিত রিপোর্ট নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটরকে পৌঁছে দেয়। এজন্য এসএনএমপি ট্রান্সপোর্ট মেকানিজম হিসেবে ইউজার ডাটাগ্রাম প্রটোকল বা ইউডিপি (UDP User Datagram Protocol) ব্যবহার করে থাকে।

টিসিপি/আইপি’র মতো এসএনএমপি কার্যক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট সার্ভার প্রযুক্তি ব্যবহার করে না। ক্লায়েন্ট সার্ভারের পরিবর্তে এসএনএমপি ব্যবহার করে ম্যানেজার (Manager) এবং এজেন্ট (Agent) কনসেপ্ট। যদিও কার্যক্ষেত্রে ম্যানেজার এবং এজেন্ট, ক্লায়েন্ট ও সার্ভারের অনুরূপ পদ্ধতিতে কাজ করে থাকে। এজেন্ট ডিজাইন সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করে, অন্যদিকে ম্যানেজার নেটওয়ার্কব্যাপী এজেন্টসমূহের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে থাকে।

এনএফএস (NFS Network File System) :

এনএফএস বা নেটওয়ার্ক ফাইল সিস্টেম হচ্ছে একসেট প্রটোকল, যার উদ্ভাবক হচ্ছে সান মাইক্রোসিস্টেম। একে অপরের ডিরেক্টরি অ্যাকসেস করার জন্য এনএফএস একাধিক পিসিকে সক্ষম করে তোলে। এ কাজের জন্য এএএ ডিস্ট্রিবিউটেড ফাইল সিস্টেম স্কিম ব্যবহার করে থাকে এনএফএস সাধারণত বড় ধরনের কর্পোরেট পরিবেশে (যেখানে ইউনিক্স ওয়ার্কস্টেশন ব্যবহার করা হয়) ব্যবহৃত হয়।

আরপিসি CRPC- Remote Procedure Call) :

আরপিসি বা রিমোট প্রসিডিউর কল হচ্ছে একসেট ফাংশন, যা কোন একটি অ্যাপ্লিকেশনকে অন্য পিসি বা সার্ভারের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম করে তোলে। এটি প্রেমাসিং ফাংশন, রিটার্ন code), ডিস্ট্রিবিউটেড কম্পিউটিং সাপোর্ট করার জন্য পূর্বনির্ধারিত ভ্যারিয়েবল (Variable) সুবিধা প্রদান করে।

টিএফটিপি (TFTP-Trivial File Transfer Protocol) :

টিএফটিপি হচ্ছে একটি সাধারণ, সরল প্রকৃতির ফাইল ট্রান্সফার প্রটোকল। তবে এ প্রটোকলে ডাটা নিরাপত্তা প্রদানের বিষয়টি অনুপস্থিত। ট্রান্সপোর্ট হিসেবে এটি ইউডিপি-কে কাজে লাগিয়ে থাকে টিএফটিপি, এফটিপি’র মতোই একই কাজ করে থাকে তবে পার্থক্য হল এটি ট্রান্সপোর্ট প্রটোকল ব্যবহার করে থাকে।

 

বিভিন্ন নেটওয়ার্ক প্রটোকল

 

টিসিপি (TCP-Transmission Control Protocol) :

টিসিপি হচ্ছে টিসিপি/আইপি প্রটোকল সুইটের অন্যতম একটি অংশ। টিসিপি একটি কমিউনিকেশন প্রটোকল, যা অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে ডাটা ট্রান্সফারের কাজটি করে থাকে। নেটওয়ার্ক মডেলের উচ্চ স্তরের অ্যাপ্লিকেশন থেকে প্রাপ্ত খণ্ডিত ডাটা প্যাকেটকে স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেটে রূপ দেয়া বা পুনঃসংযোজনের (Reassembling) কাজটিও টিসিপি করে ডাটা ট্রান্সফারের কাজটি সঠিক এবং নির্ভুল করার দায়িত্বও গিয়ে বর্তায় এ প্রটোকলটির উপর।

ইউডিপি (UDP- Uesr Datagram Protocol) :

এটি ডাটাগ্রাম পুনট্রান্সমিশন করার সুবিধা প্রদান করে না, যা টিসিপি। সংযোগভিত্তিক প্রটোকলে বিদ্যমান। ইউডিপি খুব বেশি বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করতে পারে না, তবে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে এর কতকগুলো বিশেষ ব্যবহার রয়েছে। যে সকল অ্যাপ্লিকেশন নিজ থেকে ডাটা ট্রান্সমিশনে বিশ্বস্ততা নিশ্চিত করতে পারে, সে সব অ্যাপ্লিকেশন খুব সহজেই ইউডিপি ব্যবহার করতে পারে। ইউডিপি ডাটা ট্রান্সমিশনে গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা প্রদান করে না বলেই একে বলা হয় সংযোগবিহীন (Connectionless) প্রটোকল। ইউডিপি ডাটা ট্রান্সমিশনের কাজ ফলোআপ করে না বা ডাটা প্যাকেট প্রাপ্তিস্বীকার করে না বলেই এ ওভারহেড কম। ফলে ইউডিপি অধিক দ্রুততার সাথে কাজ করতে পারে।

আইপি (IP) ঃ

নেটওয়ার্কের অভ্যন্তরে টিসিপি বা ইউডিপি কর্তৃক সংযোগকৃত (Assembled) ডাটা প্যাকেট চলাচলের কাজটি সম্পন্ন হয় আইপি’র মাধ্যমে। নেটওয়ার্কে রাউটিং এবং ডেস্টিনেশন ডিজাইন চিহ্নিতকরণের জন্য আইপি প্রতিটি ডিভাইসের জন্য একটি ইউনিক বা স্বতন্ত্র অ্যাড্রেস ব্যবহার করে থাকে।

আইসিএমপি (ICMP Internet Control Message Protocol)

কোন একটি নেটওয়ার্কের আওতাধীন ডিভাইস বা ডিভাইসসমূহের স্ট্যাটাস পরীক্ষাপূর্বক প্রয়োজনীয় মেসেজ বা বার্তা উৎপন্ন করার দায়িত্ব পালন করে আইসি এমপি। উদাহরণস্বরূপ, আমরা পিং কমান্ড ব্যবহার করে নেটওয়ার্কের অন্যান্য হোস্টের স্ট্যাটাস জানার যে পদ্ধতিটি ব্যবহার করি, মূলত এটি আইসিএমপি’র কাজ – গোফার (Gopher) ঃ এটি এমন একটি টুল, যা মেনু চালিত ইন্টারফেসের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে সংরক্ষিত ডাটা গ্রুপ থেকে তার কাঙ্ক্ষিত ডাটাটি খুঁজে বের করার সুযোগ প্রদান করে।

এইচটিটিপি (HTTP) :

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের (www-World Wide Web) মাধ্যমে তথ্য বিনিময়ের মূল কাজটি করে থাকে এইচটিটিপি।

ফিঙ্গার (Finger) ঃ

ফিঙ্গার এমন একটি টুল, যার মাধ্যমে অন্যান্য হোস্ট বা ব্যবহারকারীর স্ট্যাটাস বা অবস্থান জানা যায়।

পোস্ট অফিস প্রটোকল (Post Office Protocol)

ব্যবহারকারীর মেইন ক্লায়েন্ট সফটওয়ার এবং ই-মেইল সার্ভারের মধ্যে ইন্টারফেস প্রদান করে পোস্ট অফিস প্রটোকল। পপ ব্যবহার করে মেইল সার্ভার থেকে মেইল ডাউনলোড (Download) করা হয়। এবং ব্যবহারকারী তা মেইল বক্স ব্যবস্থাপনার কাজটি সম্পন্ন করতে পারেন।

পিং (Ping) ঃ

প্যাকেট ইন্টারনেট গোফার বা পিং হচ্ছে একটি ইউটিলিটি, যার মাধ্যমে একটি সিস্টেমে কোন ব্যবহারকারী অন্যান্য হোস্টের অবস্থান নিরূপণ করতে পারে এবং ঐ হোস্ট থেকে কোন মেসেজ পেতে কত সময় লাগে তা নির্ণয় করতে পারে।

১ thought on “টিসিপি এবং আইপি প্রটোকল অপারেশন (Operation of TCP and IP protocol operation)”

Leave a Comment